প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সরকারের আমলে জরুরি অবস্থা ঘোষণার দিনটিকে দেশ জুড়ে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসাবে পালন করে বিজেপি। জোড়াসাঁকোর রথীন্দ্র মঞ্চে বৃহস্পতিবার সেই সংক্রান্ত কর্মসূচিতে গিয়ে ইন্দিরার পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নাম না-করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “যাঁরা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছেন, তাঁরা কেউ গণতন্ত্রে বেশি দিন টেকেননি। ইন্দিরা গান্ধীকেও প্রাক্তন হতে হয়েছে। ১৫ বছরের রাজত্বে যিনি নিজেকে সর্বজ্ঞানী বলে মনে করতেন, তার অহংবোধকেও বাংলার মানুষ যোগ্য জবাব দিয়েছেন।” ওই অনুষ্ঠানেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, “২০১১-য় সিপিএমের ব্রিগেড দেখে কেউ ভাবেননি, সরকারটা যাচ্ছে। চলে গিয়েছে। গণতন্ত্রের প্রাথমিক শর্ত, মতপ্রকাশের অধিকার। সরকারের নীতির বিরুদ্ধে কথা বলব, সাহিত্য লিখব, সিনেমা বানাব। কিন্তু ‘ভারত তেরে টুকড়ে হোঙ্গে’ বললে লোকে খুব মারবে। সেই দায়িত্ব আমরা নিতে পারব না। গণতন্ত্রে রাজনৈতিক বিরোধ স্বাগত। কিন্তু এখানে চরম স্বৈরাচারী সরকার চলছিল। বিজেপির সাফল্য প্রমাণ করল গণতন্ত্রে ঔদ্ধত্য, অহঙ্কারের জায়গা নেই।”
বিজেপির কর্মসূচিকে কটাক্ষ করে ‘কালীঘাটপন্থী’ তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র সাংসদ মহুয়া মৈত্র পাল্টা বলেছেন, “৪ মে’র (বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশ) পরে পশ্চিমবঙ্গে যা চলছে, তা ওই জরুরি অবস্থার থেকে দশ গুণ বেশি। শ’য়ে শ’য়ে লোককে বিনা কারণে জেলে ভরা হচ্ছে। ভয় দেখিয়ে ৪১% ভোট পাওয়া, ৮০ জন নির্বাচিত বিধায়কের দল ভাঙিয়ে নিজেদের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন! এটা গণতন্ত্র হত্যা নয়? বাংলায় বাক্-স্বাধীনতা আছে?’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)