ভারতীয় পণ্যে আমেরিকার শুল্ক কমে আসার খবরে শিল্প মহলে খুশির ছোঁয়া। তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এর ফলে দেশে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বাড়তে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়া এবং ভারতের শুল্ক কমার কথা ঘোষণার সময় দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে আমেরিকা এবং ভেনেজ়ুয়েলা থেকে আমদানি বাড়াতে রাজি। ওই মহলের দাবি, সত্যিই সেটা হলে আমদানি খরচ বাড়বে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির। তাতেই খুচরো বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা।
যদিও রাশিয়ার দাবি, ভারত তেল কেনা বন্ধ করার কথা কিছু জানায়নি। কেন্দ্রও এ নিয়ে মন্তব্য করেনি। তবে এক সূত্রের খবর, আমেরিকার সঙ্গে চুক্তির অঙ্গ হিসেবেই রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ হবে। নায়রা এনার্জির মতো তেল শোধনকারীরা অবশ্য আমদানি চালিয়ে যাবে অশোধিত তেলের বিকল্প উৎস না থাকায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগের থেকে রুশ তেল কেনা কমিয়েছে ভারত। এখন তা প্রায় ১২ লক্ষ। তাতেও ব্যারেলে ১০ ডলার ছাড় মিলছে। যা দেশে পেট্রল-ডিজ়েলের দর স্থির থাকার অন্যতম কারণ। ফলে সেই তেল না আসলে দামের সুবিধাও মিলবে না। দেশে দাম চড়ার আশঙ্কা থাকবে। যদিও সম্প্রতি তেলমন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী জানান, ভারত ব্রাজ়িল, ওমান, চিলির মতো দেশ থেকেও তেল কিনছে। আরও বিকল্প খোঁজাও হচ্ছে। সব মিলিয়ে অশোধিত তেল পাঠাচ্ছে ৪১টি দেশ। তবে উপদেষ্টা কেপলারের তথ্যে প্রকাশ, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে আমেরিকা থেকে যেখানে দৈনিক প্রায় ৩ লক্ষ ব্যারেল আসে, সেখানে রাশিয়া থেকে যথাক্রমে ১২.৫ লক্ষ ও ১২.২ লক্ষ।
ইন্ডিয়ান অয়েলের সদ্য প্রাক্তন এক কর্তার কথায়, প্রায় দু’বছর ধরে দেশে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করেছে রুশ তেল। তাই তার জোগান বন্ধ হলে দাম বাড়বে। গত মাসে ভারত দৈনিক ৫২.৫ লক্ষ ব্যারেল তেল আমদানি করেছে। এর ২৩-২৪ শতাংশ রাশিয়ার। তা আমেরিকা বা অন্য দেশ থেকে কিনতে খরচ কয়েক হাজার কোটি ডলার বাড়বে। যা তেল সংস্থাগুলির পক্ষ বহন করা কঠিন। দেশে পেট্রল-ডিজ়েল সর্বাধিক ৮-১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)