E-Paper

আর্থিক বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে কোন পথে হাঁটা উচিত, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

উল্লেখ্য, যুদ্ধের আবহে টাকার দামে পতন রুখতে এবং ভারত থেকে বিদেশি মুদ্রা বেরিয়ে যাওয়া রুখতে গত মাসে নাগরিকদের কাছে সাত দফা আবেদন করেছিলেন মোদী।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬ ০৭:১৯
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ফাইল চিত্র।

গত অর্থবর্ষে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার ৭.৭% হয়েছে বলে শুক্রবার জানিয়েছে কেন্দ্র। একই দিনে ঋণনীতিতে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দাঁড়িয়ে চলতি ২০২৬-২৭ সালে তা ৬.৬ শতাংশে নামতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক। তার পরেই বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করার জন্য কোনপথে হাঁটা উচিত, সেই উপায় খুঁজতে বৈঠকে বসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার আর্থিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনায় দীর্ঘ মেয়াদে কী কী উন্নয়ন করা সম্ভব এবং তার হাত ধরে অর্থনীতিকে কী ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সেই সব বিষয়ে কথা বলেন তিনি। এক্স-এ তাঁর আরও বার্তা, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এবং দেশে ব্যবসা করার পরিবেশ আরও সহজ করার জন্য কোন কোন সংস্কার জরুরি, তা নিয়েও কথা হয়েছে এ দিনের বৈঠকে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব ভারত ও বিশ্বের উপর কতটা পড়তে পারে, সে বিষয়ে নিজেদের মতামত জানান পরিষদের সদস্যেরা।

বৈঠকে যে বিষয়গুলি গুরুত্ব পেয়েছে, সেগুলি হল—

  • পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজার, সরবরাহ ব্যবস্থা ও বাণিজ্যের উপর সম্ভাব্য প্রভাব।
  • দেশে লগ্নি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং ব্যবসার পরিবেশ সহজ করতে কার্যকর নীতি গ্রহণ।
  • প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস, নিয়মের বোঝা কমানো এবং শিল্পোদ্যোগী ও ও বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে সংস্কার।
  • আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রবাহ এবং জ্বালানির উপরে পড়া নেতিবাচক প্রভাবের বিশদ মূল্যায়ন।

উল্লেখ্য, যুদ্ধের আবহে টাকার দামে পতন রুখতে এবং ভারত থেকে বিদেশি মুদ্রা বেরিয়ে যাওয়া রুখতে গত মাসে নাগরিকদের কাছে সাত দফা আবেদন করেছিলেন মোদী। যার মধ্যে ছিলজ্বালানি বাঁচাতে বাড়ি থেকে কাজকে গুরুত্ব দেওয়া, তেলের ব্যবহার কমানো, সোনা কেনা এবং এক বছর বিদেশ ভ্রমণ এড়ানো, ভোজ্যতেলের ব্যবহার হ্রাস ইত্যাদি। পরবর্তীকালে সোনা-রুপোর আমদানি কমিয়ে ডলার বাঁচাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ করে সরকার। বাজারে ডলার ছাড়ে আরবিআই। তাতে টাকার দাম কিছুটা উঠলেও, এখনও তা রয়েছে তলানির আশপাশে।

উপরন্তু চিন্তা বাড়ছে ঘাটতি মাথা তোলা, মূল্যবৃদ্ধির হার চড়া এবং আর্থিক বৃদ্ধির গতি শ্লথ হওয়া নিয়ে। বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, ভারত ক্রমশ ‘স্ট্যাগফ্লেশন’-এর দিকে এগোচ্ছে। যেখানে মূল্যবৃদ্ধি চড়ে, আর্থিক বৃদ্ধি কমে, বাড়তে থাকেবেকারত্ব। এই প্রেক্ষিতে এ দিনের বৈঠকে যে সব বিষয়ে কথা হয়েছে, তা ভারতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও বিশ্বের অর্থনীতির সামনে তৈরি হওয়া চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Indian Economy

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy