E-Paper

বাড়ছে সমস্যা, পাঁচ মাসে শেয়ারবাজার ছাড়ল ৩.২৮ লক্ষ কোটি টাকার বিদেশি পুঁজি

যুদ্ধের জেরে তৈরি হওয়া অস্থিরতার সঙ্গেই ভারতের অর্থনীতিতে বিদেশি লগ্নিকারীরা আস্থা হারানো এবং এখানে শেয়ারের চড়া দামের কারণে এই পরিণতি বলে জানাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬ ০৭:২৯
বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ।

বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ। ফাইল চিত্র।

ভারত বিশ্বের দ্রুততম আর্থিক বৃদ্ধির দেশ এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে তার স্থান প্রথম বলে মোদী সরকার দাবি করে ঠিকই। তবে তথ্য-পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমান বিশ্বে যেখানে শেয়ার বাজারের অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি বিদেশি লগ্নিকারী সংস্থাগুলির বিনিয়োগ, সেখানেই ভারতের বাজারের উপরে ভরসা রাখতে পারছে না ওই সব সংস্থা। ২০২৫ সালের পুরোটা জুড়ে এ দেশের বাজার থেকে ১.৬৬ লক্ষ কোটি টাকা তুলে নিয়েছিল তারা। এ বছর প্রথম পাঁচ মাস পাঁচ দিনের লেনদেনেই সেই অঙ্ক ছাড়িয়ে গিয়েছে ৩.২৮ লক্ষ কোটি টাকা।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ এবং টাকার পতনের মধ্যে দাঁড়িয়ে ভারত থেকে ক্রমাগত বিদেশি পুঁজি বেরিয়ে যাওয়া রুখতে ও নতুন করে তা টানতে শুক্রবারই পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্র। তোলা হয়েছে বিদেশি লগ্নিকারী সংস্থাগুলির সরকারি ঋণপত্রে হওয়া দীর্ঘ ও স্বল্পমেয়াদি লাভে কর। সেগুলির সুদে আয়করও উঠেছে। তবে শেয়ারে এই হারে পুঁজি প্রত্যাহার বহাল থাকলে মোদী সরকারের লক্ষ্য পূরণ হবে আদৌ হবে কি না, সেই সন্দেহ থাকছে বলে জানাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহল। তাদের বক্তব্য, এতে ঋণপত্রের বাজারে ওই সব সংস্থা ফিরতে পারে ঠিকই। কিন্তু সাম্প্রতিককালে শেয়ারে দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভকরে সুরাহা না মেলায় ও আগাম বাজারে লেনদেনে কর বৃদ্ধির ফলে যে পরিমাণ বিদেশি লগ্নি বেরিয়ে গিয়েছে, বর্তমান অস্থিরতার মধ্যে দাঁড়িয়ে তার কিছুটা আদৌ ফেরে কি না, সেটা দেখতে হবে।

তথ্য বলছে, মূলত বিদেশি লগ্নিকারী সংস্থাগুলি মুখ ফেরানোয় ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত সেনসেক্স নেমেছে ১০,৯৪৫.২৬ পয়েন্ট। নিফ্‌টির পতন হয়েছে ২৭৭৯.৮৫ পয়েন্ট। যুদ্ধের জেরে তৈরি হওয়া অস্থিরতার সঙ্গেই ভারতের অর্থনীতিতে বিদেশি লগ্নিকারীরা আস্থা হারানো এবং এখানে শেয়ারের চড়া দামের কারণে এই পরিণতি বলে জানাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ। আশিস নন্দীর মতো বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, দেশের আর্থিক বৃদ্ধির গতি অনেকটাই নির্ভর করে শিল্পের অগ্রগতির উপরে। বর্তমানে সারা বিশ্বেই শিল্পের অগ্রগতিতে কৃত্রিম মেধা এবং সেমিকনডাক্টর চিপের মতো ক্ষেত্র বড় ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু এই দুই ক্ষেত্রে অনেক দেশের থেকে পিছিয়ে ভারত। তাই তুলনায় এগিয়ে থাকা কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান-সহ এশিয়ার অন্য বেশ কিছু দেশ এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত থাকা সত্ত্বেও আমেরিকার বাজার থেকে সে ভাবে মুখ ফেরায়নি ওই সব সংস্থা। বরং ভারত থেকে পুঁজি তুলে ওই সমস্ত দেশে ঢেলেছে তারা। ফলে তাদের সূচকের পতনের হারও এখানকার থেকে কম। বাজারে ছাড়া শেয়ারের মোট মূল্যের (মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন) নিরিখেও দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাইওয়ানের থেকে পিছিয়ে সপ্তম স্থানে নেমেছে ভারত।

তার উপরে যুদ্ধের কারণে অশোধিত তেলের দাম চড়েছে। পড়েছে টাকার দর। ফলে আমদানি খাতে বেশি খরচ হচ্ছে। উল্টে রফতানি ধাক্কা খাওয়ায় বিদেশি মুদ্রা ঢুকছে না ভারতে। কমেছে অনাবাসীদের অর্থ পাঠানোর পরিমাণও। সব মিলিয়ে বাণিজ্য ঘাটতি মাথা তুলছে। আশঙ্কা বাড়ছে মূল্যবৃদ্ধি এবং আর্থিক বৃদ্ধির হার নিয়েও। এই অবস্থায় যদিওবা বিদেশি লগ্নি আসত, কেন্দ্রের করের সিদ্ধান্ত সংস্থাগুলিকে নিরুৎসাহ করেছে বলে জানাচ্ছেন সম্পদ পরিচালনকারী সংস্থা ভ্যালু রিসার্চের এমডি শৈলেশ সরাফ।

তবে শেয়ার পরিসংখ্যানবিদ সিদ্ধার্থ মিত্রের বক্তব্য, সূচকের আরও পতন রুখে দিয়েছে দেশীয় আর্থিক সংস্থাগুলির লগ্নি। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত তারা কিনেছে ৪.১৮ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি শেয়ার। যার হাত ধরে বাজার আরও বেশি নামেনি। এখন দেখার আগামী দিনে বিদেশি লগ্নিকারীরা ভারতে ফেরে কি না।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BSE SENSEX FDI

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy