কেন্দ্রের দাবি ছিল, জিএসটি সংশোধনের কারণে প্রায় ৪৭,০০০ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হবে। তবে শুক্রবার পিটিআইয়ের খবর, স্টেট ব্যাঙ্কের আর্থিক গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়েছে ক্ষতি হবে মাত্র ৩৭০০ কোটি। ওই ক্ষতি রাজকোষ ঘাটতির উপর কোনও বিরূপ প্রভাবও ফেলবে না। বরং বহু পণ্য-পরিষেবার দাম কমায় বাজারে কেনাকাটা বাড়বে। যার হাত ধরে বাড়তে থাকবে জিএসটি আদায়। সেটা মাথায় রেখেই চূড়ান্ত রাজস্ব ক্ষতির হিসাব কষা হয়েছে।
গবেষকদের মতে, এর জেরে চলতি অর্থবর্ষে খুচরো মূল্যবৃদ্ধিও ২৫-৩০ বেসিস পয়েন্ট কমবে। আগামী বার তা নামতে পারে আরও ৬৫-৭৫ বেসিস পয়েন্ট।
তবে লগ্নি বিশেষজ্ঞ ভ্যালু স্টকের এমডি শৈলেশ সরাফ বলেন, ‘‘৪৭,০০০ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি মানে কেন্দ্র জিএসটি খাতে মাত্র ২% সুবিধা দিচ্ছে ক্রেতাদের। তা-ও শেষ পর্যন্ত পৌঁছয় কি না, খেয়াল রাখতে হবে।’’ আইসিএআই-এর পূর্বাঞ্চলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অনির্বাণ দত্তের দাবি, ‘‘২২ সেপ্টেম্বরের পরে সাধারণ মানুষ যথার্থই কম দামে আগের মতো একই পরিমাণে বা ওজনের পণ্য কিনতে পারছেন কি না, তাতে কড়া নজরদারি প্রয়োজন।’’
তবে জিএসটির সুবিধা বাস্তবায়িত হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বণিকসভা মার্চেন্ট চেম্বারের ব্যাঙ্কিং এবং আর্থিক বিষয়ক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান স্মরজিৎ মিত্রের প্রশ্ন, ‘‘তার জন্য সরকার কোনও পদক্ষেপ করছে কি? উল্টে অ্যান্টিপ্রফিটিয়ারিং আইনটিই কার্যত তুলে দেওয়া হয়েছে। গত বছর জিএসটি আইন সংশোধন করে ঠিক হয়, ২০২৫-এর ১ এপ্রিলের পরে ওই আইন মোতাবেক নতুন কোনও অভিযোগ দায়ের করা যাবে না। যে কারণে জিএসটি কমানোর সুবিধা ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য শিল্পের কাছে অনুরোধ-উপরোধ করতে হচ্ছে মোদী সরকারকে। উল্লেখ্য, করের হার কমানোর সুবিধা ক্রেতাদের দিতেই জিএসটি আইনে অ্যান্টিপ্রফিটিয়ারিং ধারা যোগ করা হয়েছিল।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)