স্কুলের প্রধানশিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং অন্য কয়েকজন শিক্ষক মিলিত ভাবে মারধর করলেন অফিসার ইনচার্জকে। মাধ্যমিকের দ্বিতীয় দিনে পূর্ব বর্ধমানের আঝাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ উঠল।
পর্ষদ সূত্রের খবর, ইংরেজি পরীক্ষার একেবারে শেষ দিকে ওই স্কুলের এক শিক্ষাকর্মী (গ্রুপ ডি কর্মী) সঞ্জীব দাসের মুঠোফোন বেজে ওঠে পরীক্ষাকেন্দ্রেই। সে সময় সেখানেই নিজের দায়িত্বে ছিলেন স্কুল পরিদর্শক প্রশান্ত কবিরাজ। মুঠোফোন বেজে ওঠায় প্রশান্ত সঞ্জীবের কাছে মুঠোফোন চান জমা দিয়ে দেবেন বলে। কিন্তু, সঞ্জীব মুঠোফোন জমা দিতে না চাওয়ায় শুরু হয় বচসা। পরীক্ষা শেষের পর সেই বচসা গড়ায় প্রধান শিক্ষকের ঘর পর্যন্ত। ওই ঘরে সে সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক এবং ভেনু সুপারভাইজ়র আশিস কুমার বিশ্বাস, সংস্কৃত-র শিক্ষক প্রদীপ পন্ডিত, জীববিদ্যার শিক্ষক সঞ্জীব টুডু, শারীরবিদ্যা বিষয়ের শিক্ষক সিদ্ধার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়, কর্মশিক্ষা-র শিক্ষক অরিন্দম বালা, ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক অতনু মুখোপাধ্যায় এবং গণিত বিষয়ের শিক্ষক আশিস দত্ত। অভিযোগ, সেই সময় প্রশান্তকে ঘরে উপস্থিত থাকা প্রত্যেকেই বেধড়ক মারধর করা হয়।
জানা গিয়েছে, ভেন্যু সুপারভাইজ়র বা প্রধান শিক্ষকের ঘর সাধারণত সুরক্ষিত থাকে। লাগানো থাকে সিসিটিভি। কিন্তু সেই সিসিটিভি ক্যামেরাতেও ধরা পড়েনি ঘটনার ফুটেজ। প্রথম ১১ মিনিটের পর মুছে দেওয়া হয়েছে ফুটেজ।
আরও পড়ুন:
পর্ষদ জানিয়েছে, প্রশান্ত বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্থানীয় থানায় সম্পূর্ণ ঘটনার অভিযোগ জমা পড়েছে। পর্ষদের সভাপতির রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ইতিমধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট আমরা পেয়েছি। প্রাথমিক রিপোর্টের ঘটনার প্রেক্ষিতে এই সাত জনকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও, মঙ্গলের পর শুক্রবার ইতিহাস পরীক্ষা রয়েছে। সে দিন ওই স্কুলে নির্বিঘ্নে কী ভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করা যায় তাও নিশ্চিত করা হবে।’’ পর্ষদের একটি দল আগামী বুধবার স্কুলে যাবে এবং জেলা পরিদর্শকের সঙ্গে কথা বলবে।
প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় দিনের মাধ্যমিক পরীক্ষায় বাতিল হয়েছে পাঁচ পড়ুয়ার পরীক্ষা। পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, উত্তর কলকাতা এবং উত্তর ২৪ পরগনার পাঁচটি স্কুলের পড়ুয়া মোবাইল নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করায় তাদের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতাল থেকে ইংরেজি পরীক্ষা দিয়েছে ২৯ জন।