ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তির ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশে ভারতীয় পণ্য রফতানির পরিমাণ অনেক বাড়বে বলে দাবি করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। অন্য দিকে, চুক্তির রূপরেখা স্থির করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল বলেছেন, ‘‘কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের স্বার্থের সঙ্গে কোনও সমঝোতা না করেই আমরা এই চুক্তি করেছি। আমাদের প্রতিযোগীদের তুলনায় যা অনেকটাই ভাল।’’
সোমবার রাতে (ভারতীয় সময়) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির কথা ঘোষণা করেন। ভারতীয় পণ্য শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে বলে জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোমবার রাতে সমাজমাধ্যমে এবং মঙ্গলবার সকালে এনডিএ বৈঠকে চুক্তির জন্য উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। যদিও সংবাদসংস্থা রয়টার্স মঙ্গলবার জানিয়েছে, বাণিজ্যচুক্তির শর্ত হিসাবে এ বার ভারতের কৃষিক্ষেত্রের দরজাও ‘আংশিক’ ভাবে খুলে দিতে চলেছে মোদী সরকার। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।
এই আবহে পীযূষের অভিযোগ, কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে তাঁর মন্তব্য, ‘‘তাঁর (রাহুল) একটি নেতিবাচক মানসিকতা রয়েছে এবং তিনি ভারতের অগ্রগতির বিরোধী।’’ যদিও ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তির খসড়া সম্পর্কে কোনও তথ্য দেননি মোদী সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী। পীযূষ বাণিজ্যচুক্তিতে কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার সুরক্ষিত থাকার দাবি তুললেও দেশের প্রাক্তন বিদেশসচিব তথা রাজ্যসভার রাষ্ট্রপতি মনোনীত সাংসদ হর্ষ বর্ধন শ্রীংলা মঙ্গলবার কার্যত রয়টার্সে প্রকাশিত খবরের সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘কিছু জিনিস আমেরিকা থেকে আসবে। কিন্তু সেগুলি আমাদের কৃষিক্ষেত্রের জন্য ক্ষতিকারক হবে না। এর মধ্যে কোনও স্ববিরোধিতা নেই। এর ফলে দেশের কৃষকেরা কোনও সমস্যায় পড়বেন না।”
সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যচুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা আপেল, ব্লুবেরি ও ব্ল্যাকবেরির মতো বাদাম জাতীয় ফল এবং নির্বাচিত প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের (যার মধ্যে দুগ্ধজাত পণ্য রয়েছে) শুল্ক কমাতে রাজি হয়েছে ভারত। সোমবারই ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এই চুক্তি কার্যকর হলে ভারত ৫০০০০ কোটি ডলারেরও (৪৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি) বেশি মূল্যের জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি, কয়লা এবং অন্যান্য অনেক পণ্য কিনবে। নির্মলা অবশ্য জানিয়েছেন, চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা এখনও প্রস্তুত হয়নি। তবে ভারতীয় পণ্যে মার্কিন শুল্ক কমে ১৮ শতাংশ হওয়ার ফলে রফতানির অঙ্ক অনেক বাড়বে বলে দাবি করেন তিনি। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমাদের সামনে নতুন বাজার খুলে যাবে।’’