Advertisement
E-Paper

কালো টাকার খোঁজে চিরুনি তল্লাশি ডিজিটাল দুনিয়ায়

সরকারের তরফে হুঁশিয়ারি আগে থেকেই ছিল। এ বার তা কার্যকর করতে কোমর বেঁধে নেমেছে আয়কর দফতর। সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও কর এড়িয়ে লুকিয়ে রাখা যে-কালো টাকার হদিস এখনও মেলেনি, তার খোঁজে নেট দুনিয়ায় চিরুনি তল্লাশিতে নেমেছে তারা।

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০১৬ ০৩:২৮

সরকারের তরফে হুঁশিয়ারি আগে থেকেই ছিল। এ বার তা কার্যকর করতে কোমর বেঁধে নেমেছে আয়কর দফতর। সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও কর এড়িয়ে লুকিয়ে রাখা যে-কালো টাকার হদিস এখনও মেলেনি, তার খোঁজে নেট দুনিয়ায় চিরুনি তল্লাশিতে নেমেছে তারা। সন্দেহজনক লেনদেনের আতস কাচে যাঁদের নাম উঠেছে, ইতিমধ্যেই নোটিস পাঠানো শুরু হয়েছে তাঁদের ঠিকানায়।

বকেয়া কর ও জরিমানা দিয়ে স্বেচ্ছায় কালো টাকা ঘোষণার জন্য চার মাসের (জুন-সেপ্টেম্বর) প্রকল্প চালু করেছিল মোদী সরকার। তার শেষে গত ১ অক্টোবর অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি জানিয়েছিলেন, ‘‘৬৪,২৭৫ জন স্বেচ্ছায় কালো টাকার বিষয়ে জানিয়েছেন। ৬৫,২৫০ কোটি টাকার খবর মিলেছে।’’ একই সঙ্গে তাঁর দাবি ছিল, এই পরিমাণ আরও কয়েক হাজার কোটি বাড়বে। কিন্তু অর্থ মন্ত্রক মনে করে, কালো টাকার এই অঙ্ক আসলে হিমশৈলের চূড়া মাত্র। কর ফাঁকি দিয়ে লুকিয়ে রাখা টাকার মোট পরিমাণের তুলনায় তা নস্যি। আর সেই আসল ভাঁড়ারে হানা দিতেই ডিজিটাল নজরদারির হাত ধরছে দফতর।

যেমন, কম্পিউটার বা মোবাইলে লুকিয়ে রাখা তথ্য ঘেঁটে কালো টাকার খোঁজ পেতে কেন্দ্রীয় প্রত্যক্ষ কর পর্ষদ (সিবিডিটি) তৈরি করেছে ডিজিটাল এভিডেন্স ইনভেস্টিগেশন ম্যানুয়াল। আয়কর দফতরের কর্তারা বলছেন, তল্লাশি চালিয়ে কালো টাকা উদ্ধারের থেকে বরং তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে বড় অঙ্কের কেনা-বেচার উপর নজরদারি চালিয়ে তার গন্ধ পাওয়া সহজ। তাদের সাইবার-ফরেন্সিক দফতর সেই কাজই করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে খবর, দফতরের কর্তারা ইতিমধ্যেই এমন বেশ কিছু কেনাকাটার সন্ধান পেয়েছেন। কোথাও ২ লক্ষ টাকারও বেশি দামের হাতঘড়ি বা অন্য কোনও পণ্য কেনা হয়েছে। কেনার সময়ে ক্রেডিট কার্ড এবং প্যান নম্বর দাখিলও করা হয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সেই প্যান কার্ডের মালিকের আয় বা কর জমার পরিমাণের সঙ্গে কেনাকাটার অঙ্কের মিল পাওয়া যাচ্ছে না। দফতর সূত্রের খবর, এঁদের অনেকেই নামী ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, আইনজীবী বা বিভিন্ন ক্ষেত্রের পেশাদার। কেনাকাটা ভাল রকম সন্দেহজনক ঠেকলেই এঁদের নোটিস পাঠানো শুরু করেছে দফতর।

সরকারি সূত্রে খবর, দেশে বড় শহরগুলির বেশ কিছু আবাসন নির্মাণকারী সংস্থা, গয়না ও দামি ঘড়ির ব্যবসায়ী, গোয়ার ক্যাসিনো মালিক, পশ্চিম ভারতের বেশ কিছু রফতানি সংস্থার মালিকদের আয়-ব্যয়ের হিসেব-নিকেশ এখন আয়কর দফতরের গোয়েন্দাদের আতসকাচের তলায়। কালো টাকা নিয়ে সন্দেহের তালিকায় রয়েছে অনেক বেসরকারি স্কুল এবং হাসপাতাল, রেস্তোরাঁ ব্যবসায় জড়িত সংস্থা ইত্যাদিও।

গত ১ অক্টোবর অরুণ জেটলি বলেছিলেন, ‘‘সময়সীমার মধ্যে যাঁরা কালো টাকা ঘোষণা করলেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন মেনে ব্যবস্থা নেবে আয়কর দফতর।’’ এ দিন অর্থ মন্ত্রকের এক কর্তা বলেন, ‘‘কালো টাকা ঘোষণা প্রকল্পে বকেয়া কর, জরিমানা ও সেস মিলিয়ে ৪৫% মিটিয়ে দিলেই আইনি ব্যবস্থা থেকে ছাড় মিলত। যাঁরা সে পথে হাঁটেননি, তাঁরা বড় ঝুঁকি নিয়ে ফেলেছেন।’’ তাঁদের হুঁশিয়ারি, এখন লুকোনো টাকা ধরা পড়লে, ৯০% জরিমানা ও ৩৫% কর গুনতে হবে। খাটতে হবে সাত বছর পর্যন্ত জেলও। সময়ে কালো টাকা ঘোষণা না-করলে যে তার মাসুল গুনতে হবে, খোদ প্রধানমন্ত্রী তা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন বলেও কর্তাটির দাবি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে খবর, যে ৬৪,২৭৫ জন নিজে থেকে কালো টাকার কথা জানিয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশও তা করেছেন দফতরের চোখরাঙানিতে। সিন্দুকে মজুত কালো টাকার সন্ধানে আগেভাগেই তাঁদের দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেছিল দফতর।

দেশে কালো টাকার আসল পরিমাণ কত, তা নিয়ে নানা ধারণা মুখে মুখে ফেরে। দু’বছর আগে কেন্দ্রের ঘরে জমা পড়া একটি রিপোর্টে বলা হয়ছিল ওই অঙ্ক ৯০ লক্ষ কোটি। আবার একটি বেসরকারি সংস্থার হিসেবে, এর পরিমাণ ৩০ লক্ষ কোটি টাকা। আসল অঙ্ক যা-ই হোক, তা যে অন্তত ঘোষিত ৬৫ হাজার কোটির থেকে অনেক বেশি, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই জেটলির মন্ত্রকের।

অর্থ মন্ত্রকের নিজেদের হিসাবও বলছে, এ বার স্বেচ্ছায় ঘোষিত কালো টাকা দেশের জাতীয় আয়ের মাত্র ০.৪৫%। অথচ ১৯৯৭ সালের প্রকল্পেও খোঁজ মেলা কালো টাকার পরিমাণ ছিল জিডিপি-র ১.৯%। আর এই সমস্ত হিসেব দেখেই ঘোষিত কালো টাকাকে হিমশৈলের চূড়া মনে করছে তারা। আস্ত হিমশৈলের খোঁজে আস্থা রাখছে ‘ডিজিটাল-ডুবুরি’তে।

Raids digital media Black money
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy