দুঃসময় কি তাড়া করছে শিল্পপতি অনিল অম্বানীকে? ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে জেলে যাওয়ার হাত থেকে দাদা মুকেশ অম্বানী তাঁকে বাঁচানোর পর এ বার কঠিন সমস্যায় পড়েছে অনিল অম্বানীর আর্থিক প্রতিষ্ঠান রিলায়্যান্স ক্যাপিটাল লিমিটেডও। ওই সংস্থারও এ বার ‘ঢাকের দায়ে মনসা বিক্রি’র অবস্থা! আগের ৫ বছরে (২০১৮-র মার্চ পর্যন্ত) অনিলের যে সংস্থার লভ্যাংশ দ্বিগুণ হয়েছিল, নগদের অভাবে সেই রিলায়্যান্স ক্যাপিটাল লিমিটেডকে এ বার তার ২০০ কোটি ডলার মূল্যের সম্পদ বেচতে হচ্ছে। দেশের পঞ্চম বৃহত্তম মিউচুয়াল ফান্ডের ব্যবসা রয়েছে এখন এই রিলায়্যান্স ক্যাপিটালেরই নিয়ন্ত্রণে।

‘কেয়ার’ রেটিং অনুযায়ী, গত অর্থবর্ষের শেষে, মার্চে অনিলের রিলায়্যান্স ক্যাপিটালের নগদের ভাঁড়ারে টান পড়েছে ১১ কোটি টাকার মতো। মুডিজের ইনভেস্টর্স সার্ভিসের একটি ইউনিট এবং স্থানীয় দু’টি রেটিং সংস্থা জানাচ্ছে, মে ও জুনে অনিলের রিলায়্যান্স ক্যাপিট্যালের কাঁধে ঋণের বোঝা চেপেছে ২৫ কোটি ২০ লক্ষ ডলারের।

মুম্বইয়ের ঋণ উপদেষ্টা সংস্থা আদিত্য কনসাল্টিং-এর এক কর্তা ম্যাথু অ্যান্টনি বলেছেন, ‘‘দেনার বোঝা আর নগদের অভাবে এখন যে অবস্থা হয়েছে রিলায়্যান্স ক্যাপিটালের, তাতে সম্পদ বেচে দেওয়া ছাড়া আর কোনও পথই খোলা নেই অনিলের সংস্থাটির সামনে। দীর্ঘ মেয়াদি ইক্যুইটি শেয়ার খুব তাড়াতাড়ি না এলে অনিলের সংস্থাটিকে অচিরেই পড়তে হবে গভীর সমস্যায়।’’

আরও পড়ুন- রাফাল নিয়ে কংগ্রেসের রোষে ভাই অনিল, তাদের প্রার্থীকেই সমর্থন মুকেশের​

আরও পড়ুন- রাফাল চুক্তির পরই ‘তোফা’ অনিল অম্বানীকে, ১১০০ কোটি টাকার কর মকুব!​

এ ব্যাপারে অবশ্য রিলায়্যান্স ক্যাপিটালের মুখপাত্র কোনও মন্তব্য করতে চাননি। মুম্বই স্টক এক্সচেঞ্জে অনিলের সংস্থার তরফে গত ২৭ এপ্রিল শুধু এই টুকুই জানানো হয়েছে যে, রিলায়্যান্স ক্যাপিটালের মাত্র ৯৫০ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। আর সেটা স্বল্প মেয়াদি ঋণ। যা সেপ্টেম্বরের শেষাশেষি পুরোপুরি মিটিয়ে দেওয়া হবে।

এই আর্থিক অবস্থার ফলে অনেকগুলি আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থার মানদণ্ডেই হালে মান পড়েছে রিলায়্যান্স ক্যাপিটালের। ব্রিকওয়ার্ক রেটিংসের চোখে গত মাসে রিলায়্যান্স ক্যাপিটালের রেটিং ছিল ‘এএ’। এ বার সেটা হয়েছে ‘এ+’। তবে ‘আইসিআরএ’, মুডিজের মতো কয়েকটি রেটিং সংস্থার হিসেবে স্বল্প মেয়াদের জন্য হলেও মান পড়েছে রিলায়্যান্স ক্যাপিটালের।