এক দিকে সোনার চড়া দামের কারণে তা বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি। অন্য দিকে, উৎসবের মরসুমে এবং জিএসটি-র হার কমায় বিভিন্ন পণ্যের মাথা তোলা চাহিদা। মঙ্গলবার ঋণ সংক্রান্ত তথ্য প্রদানকারী ক্রিফ হাই মার্কের সমীক্ষায় দাবি, মূলত এই সব কারণেই গত অক্টোবর-ডিসেম্বরে দেশে খুচরো ঋণ নেওয়ার আগ্রহ বেড়েছে। ঋণ বৃদ্ধির হার ছুঁয়েছে ১৮.১%। মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬২ লক্ষ কোটি টাকা।
সাধারণ ভাবে সিংহভাগ খুচরো ঋণ তুলনায় সুরক্ষিত ঋণ বলে গণ্য হত। সেই ছবিটা বদলাতে শুরু করে করোনার পর থেকেই। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, বিশেষত বিভিন্ন পণ্য কিনতে অ্যাপ মারফত সহজে ঋণ তার অঙ্ককে বাড়িয়ে তুলেছে, যেগুলি ঝুঁকির। স্বল্প রোজগেরেদের বাড়তি অর্থের প্রয়োজন মেটাতে ব্যক্তিগত বা স্বর্ণঋণ নেওয়ার প্রবণতাও খুচরো ঋণ বৃদ্ধির কারণ। এ নিয়ে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক ইতিমধ্যেই সতর্ক হতে বলেছে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে। খুচরো ঋণের মধ্যে পড়ে বাড়ি ও গাড়ি ঋণও। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দাবি, গত বছর থেকে সুদ কমার ফলে এগুলির চাহিদা বাড়ায় এই ধরনের ঋণ নেওয়ার ঝোঁকও বেড়েছে।
খুচরো ঋণ বৃদ্ধির এই প্রবণতাই এ বার আরও স্পষ্ট ক্রিফ হাই মার্কের সমীক্ষায়। সেখানে দাবি, এর মধ্যে গৃহঋণই সবচেয়ে বেশি। ১০.৫% উঠে অক্টোবর-ডিসেম্বরে তা পৌঁছেছে ৪৩ লক্ষ কোটি টাকায়। ব্যক্তিগত, গাড়ি, দীর্ঘমেয়াদি ভোগ্যপণ্য-সহ এই শ্রেণির প্রতিটি ঋণের অঙ্কই বেড়েছে। তবে স্বর্ণ ঋণের হার বৃদ্ধি সর্বোচ্চ, ৪৪.১%। তার অঙ্ক হয়েছে ১৬.২ লক্ষ কোটি।
একটি বা একমালিকী সংস্থার নেওয়া ঋণও বেড়েছে ২৬.২%। তবে ৩০-১৮০ দিনে শোধযোগ্যগুলির পরিমাণ ৩.২% থেকে নেমেছে ২.৮ শতাংশে। গৃহঋণে দিল্লিতে বৃদ্ধির হার সর্বনিম্ন, ৭.৭%। বেশি তেলঙ্গানা, কর্নাটক, উত্তরপ্রদেশ এবং রাজস্থানের মতো রাজ্যে। আলোচ্য সময়ে ঋণ দেওয়া বাড়িয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিও।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)