বার্ষিক ৮-৯ শতাংশ থেকে কমতে কমতে ৬.৫ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল ফিক্সড ডিপোজিটের সুদ। যাঁরা ফিক্সড ডিপোজিট থেকে আয়ের উপর নির্ভরশীল, তাঁরা পড়েছিলেন অথৈ জলে। সোমবার একটু হলেও সুখবর এল। ফিক্সড ডিপোজিটে সুদের হার বাড়াল ভারতের বৃহত্তম ব্যাঙ্ক এসবিআই (স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া)।

গড়ে ০.০৫-০.১০ শতাংশ সুদের হার বাড়ানো হল চারটি ডিপোজিট মেয়াদ খাতে। যাঁদের ১০ লাখ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট আছে, সেই আমানতকারীরা সুদ বাড়ার ফলে বছরে ৫০০-১০০০ টাকা বেশি পাবেন।

কোন মেয়াদে কতটা বাড়ল

এসবিআই ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে সুদের হার হিসাব করে। ইংরেজিতে একে বলে কোয়ার্টারলি ইন্টারেস্ট কমপাউন্ডিং।

১ বছর থেকে ২ বছরের মধ্যেকার মেয়াদে আগে পাওয়া যাচ্ছিল ৬.৬৫ শতাংশ বার্ষিক সুদ। সেটা বেড়ে করে দেওয়া হয়েছে ৬.৭০ শতাংশ। উদাহরণ স্বরূপ— ১০ লাখ টাকা রাখলে আগে পাওয়া যেত বার্ষিক ৬৮,১৭৬ টাকা সুদ। এখন, সেই সুদের অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮,৭০২ টাকা— অর্থাৎ আগের থেকে ৫২৬ টাকা বেশি।

২ বছর থেকে ৩ বছরের মেয়াদে সুদের হার বাড়ানো হয়েছে খানিকটা বেশি। আগে এই মেয়াদে ১০ লাখ টাকা রাখলে ৬.৬৫ শতাংশ সুদের হারে আপনি পেতেন ৬৮,১৭৬ টাকা সুদ। কিন্তু এখন ৬.৭৫ শতাংশ হারে আপনি পাবেন ৬৯,২২৭ টাকা— অর্থাৎ ১০৫১ টাকা বেশি।

৩ বছর থেকে ৫ বছরে কম মেয়াদে এসবিআই আগে দিত ৬.৭০ শতাংশ সুদ। নতুন হার বেড়ে হল ৬.৮০ শতাংশ। এর মানে, আগে বছরে ১০ লাখ টাকার উপর আপনি পেতেন ৬৮,৭০২ টাকা সুদ এবং এখন পাবেন ৬৯,৭৫৩ টাকা— অর্থাৎ ১,০৫১ টাকার বৃদ্ধি।

৫ বছর থেকে ১০ বছরের যে মেয়াদ আছে, সেখানে দেওয়া হত সর্বাধিক ৬.৭৫ শতাংশ সুদ, মানে বছরে ১০ লাখ টাকার উপর ৬৯,২২৭ টাকা সুদ। এখন পাওয়া যাবে ৬.৮৫ শতাংশ সুদের হারে ১,০৫২ টাকা বেশি।

আরও পড়ুন: চ্যালেঞ্জের ফল: ট্রাই প্রধানের আধার নিয়ে ছেলেখেলা করে চলেছেন হ্যাকাররা

এই সব হিসাব এমন সাধারণ মানুষদের (৬০ বছরের কম বয়সী) জন্যে, যাঁরা ব্যাঙ্কে ১ কোটি টাকার কম ফিক্সড ডিপোজিট করেছেন। বর্ষীয়ান নাগরিক, বা সিনিয়র সিটিজেনদের ০.৫ শতাংশ বেশি সুদ দেওয়া হয়। সুতরাং, যেহেতু সুদের হার বেড়েছে, সিনিয়র সিটিজেনরা ফিক্সড ডিপোজিট সেই মতন বেশি সুদ পাবেন। বৃদ্ধির হার ওই ৫০০-১০০০ টাকা করে বছরে।

এই বৃদ্ধির নানা প্রভাব

এটা সবার বোঝা উচিত যে— ফিক্সড ডিপোজিটে সুদের হার বেশি হওয়া মানে, একটা না একটা সময় ব্যাঙ্কের দেওয়া ঋণের উপর সুদের হার বাড়বে। এটা একটা প্রভাব। আগামী দিনে আরও অনেক রকম প্রভাবও দেখা যেতে পারে।

এসবিআই সুদ বাড়ানোয় অন্য ব্যাঙ্কগুলোর উপর চাপ বাড়ল। যে ব্যাঙ্কগুলির ফিক্সড ডিপোজিট সুদের হার এসবিআই-এর থেকে কম, আমানতকারীদের আকর্ষণ করতে সেই ব্যাঙ্কগুলিকে বাড়াতে হবে তাদের সুদের হার। এটা একটা ভাল খবর। অনিচ্ছা থাকলেও, সব ব্যাঙ্ককেই প্রতিযোগিতার জন্যে বেশি সুদের অফার দিতে হবে।

এই সপ্তাহেই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) দেশের সুদের (ঋণের উপর) হার ঠিক করবে। যদি সুদের হার বাড়ে, তা হলে ডিপোজিটের সুদ বাড়াতে হবে।

আরও পড়ুন: নীরব মোদী নিয়ে নরেন্দ্র মোদীর ঢাল গাঁধী-বিড়লা যোগ!

তা ছাড়া, দেশের সব থেকে বড় বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক যখন বেশি সুদের হার দিচ্ছে, এর থেকে বোঝা যায় যে ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগের রাস্তাগুলিতে বেশি রিটার্ন বা লাভ দিতে হবে। ফিক্সড ডিপোজিট হল ১০০ শতাংশ সুরক্ষিত। কোনও ঝুঁকি নেই। কিন্তু শেয়ার বাজার হল ঝুঁকির জায়গা। সেখানে ঝুঁকি না নিয়ে কোন লাভ হয় না। তাই, মানুষ যদি ঝুঁকি নিয়ে বেশি রিটার্ন না পান, ঝুঁকি নেবে না।

ইতিহাস বলছে— যখনই দেশের অর্থনীতিতে সুদের হার (ঋণ এবং ডিপোজিট) বাড়ে, তখন শেয়ার বাজারে মন্দা নেমে আসে। যুক্তি দিয়ে বুঝতে গেলে এটা জেনে নিন যে, বড় হোক বা ছোট কোম্পানি, সুদের বেশি হার কেউ পচ্ছন্দ করে না। যখন ঋণের খরচ বেড়ে যায়, সরাসরি তা প্রভাব ফেলে কোম্পানির লাভের মাত্রার উপর।