বুথফেরত সমীক্ষায় ত্রিশঙ্কু সংসদের আশঙ্কা কেটে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলতেই শেয়ার বাজার যেন ইউসেইন বোল্ট।

রবিবার সব সমীক্ষার ইঙ্গিত, পোক্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই সরকারে ফিরছে এনডিএ। তার পরেই সোমবার এক লাফে প্রায় ১,৪২২ পয়েন্ট উঠেছে বিএসই-র সূচক সেনসেক্স। ৪২১ অঙ্ক লাফ দিয়েছে এনএসই-র সূচক নিফ্‌টিও। এক দিনে বৃদ্ধির নিরিখে যথাক্রমে গত ছয় ও দশ বছরে যা সর্বোচ্চ। তবে এই একই কারণে ২৩ মে গণনায় সমীক্ষার উল্টো ছবি ফুটে উঠলে, বাজারে বিপুল পতনের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক মাসে শোনা গিয়েছে এ বার আসন কমবে এনডিএ-র। অথচ বিরোধীরাও যে সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গড়বে, সেই ছবিও ফুটে ওঠেনি। ফলে আশঙ্কা বেড়েছে ত্রিশঙ্কু সংসদের। যা বাজার ও শিল্পমহলের ঘোর অপছন্দ। কারণ, তাতে সরকারের স্থায়িত্ব প্রশ্নের মুখে পড়ে। অসুবিধা হয় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে। আর পায়ে পায়ে আটকে যায় সংস্কার। সমীক্ষা সেই সমস্যামুক্তির ইঙ্গিত দেওয়ায় বাজার লাফিয়ে বেড়েছে বলে তাঁদের দাবি। সেই বিশ্বাস দানা বেঁধেছে সব সমীক্ষার অভিমুখ একই হওয়ায়।

তবে এই উত্থানেও আক্রমণের রসদ পেয়েছেন বিরোধীরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, শেয়ার সূচককে উপরের দিকে তুলতেই বুথফেরত সমীক্ষাকে প্রভাবিত করেছে বিজেপি। রয়েছে টাকার খেলাও। বিষয়টি নিয়ে এ দিন এনসিপি নেতা প্রফুল্ল পটেলের সঙ্গে আলোচনাও করেছেন তিনি।

অন্য বহু বিরোধী দলেরও অভিযোগ, বিজেপির প্রচারে বিপুল টাকা ঢেলেছে বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যবসায়ী মহল। এই উত্থান শেয়ার বাজার থেকে সেই টাকা তুলে নেওয়ার বন্দোবস্ত।

এই অভিযোগকে তেমন আমল না দিলেও লগ্নিকারীরা মানছেন, এর পরে ভোট গণনায় ত্রিশঙ্কু সংসদ হলে ধস নামতে পারে বাজারে। আর
বাজার স্থায়ী সরকারের ‘আনন্দ’ ইতিমধ্যেই অনেকখানি সেরে ফেলায় বিজেপি একক গরিষ্ঠতা নিয়ে ফিরলেও আর এমন বিপুল লাফের সম্ভাবনা কম।