E-Paper

বিশ্ববাজারে তেলের দরের ওঠাপড়ায় চোখ কেন্দ্রের, ভোট মিটলই কি বাড়বে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম?

ইরান ও আমেরিকার বর্তমান যুদ্ধবিরতি শেষ হচ্ছে ভারতীয় সময় বুধবার ভোরে। মঙ্গলবার প্রথমে খবর ছিল, দু’পক্ষের প্রতিনিধি দলই দ্বিতীয় পর্যায়ের শান্তি বৈঠক করতে ইসলামাবাদ যেতে পারে। একাংশ সেখানে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি, এমনকি পাকাপাকি সমঝোতার আশাও প্রকাশ করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ০৬:৫৭

— প্রতীকী চিত্র।

কখনও আমেরিকা-ইরানের মধ্যে সংঘাত থামার ইঙ্গিতে বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম চড়ছে। পরক্ষণেই কোনও না কোনও পক্ষের হুমকি-হুঁশিয়ারি ঠেলে তুলছে তাকে। দাম ওঠানামা করছে হরমুজ় প্রণালী বন্ধ বা খোলার বার্তার উপরে ভর করেও। কারণ, হরমুজ় খুললে জ্বালানির জোগান বাড়বে, বন্ধ হলে তা কমবে। আর আন্তর্জাতিক দামের এই ওঠাপড়ার নিরিখে চর্চা বাড়ছে দেশের পেট্রল-ডিজ়েল নিয়ে। এখনও সেগুলির দাম বাড়ায়নি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এর কারণ হতে পারে পাঁচ রাজ্যের ভোট। তবে তার পরে আগামী মাসে দাম বৃদ্ধির আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তাঁরা। পাম্প মালিকদের একাংশের ইঙ্গিত, জ্বালানি আমদানি খাতে বিপুল লোকসান গুনছে তেল সংস্থা। ফলে দাম বাড়ার আশঙ্কা।

এই অবস্থায় সূত্রের খবর, ইরান ও আমেরিকার বর্তমান যুদ্ধবিরতি শেষ হচ্ছে ভারতীয় সময় বুধবার ভোরে। মঙ্গলবার প্রথমে খবর ছিল, দু’পক্ষের প্রতিনিধি দলই দ্বিতীয় পর্যায়ের শান্তি বৈঠক করতে ইসলামাবাদ যেতে পারে। একাংশ সেখানে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি, এমনকি পাকাপাকি সমঝোতার আশাও প্রকাশ করেন। ফলে বিশ্ব বাজারে শুক্রবার কমে যাওয়া অশোধিত তেলের দাম সোমবার বেড়ে যাওয়ার পরে এ দিন ফের কিছুটা নামে। ব্রেন্ট ক্রুডের ব্যারেল হয় ৯৫ ডলার। কিন্তু দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে এ দিন রাতেই তা আবার উঠেছে ৯৮ ডলারে। খবর, ইরান মত বদলে আলোচনায় যোগ দেবে কি না, তা জানায়নি। ফলে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স পাকিস্তানে যাওয়া স্থগিত রেখেছেন। প্রথম শান্তি বৈঠকের মতো এ বার দ্বিতীয়টিও ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তেলের দাম নিয়ে বেড়েছে চিন্তা। সূত্রের দাবি, ফের আলোচনা ভেস্তে গেলে এবং দু’পক্ষ আগ্রাসী হয়ে উঠলে ব্রেন্ট ১১০ ডলার পেরোতে পারে। যার ধাক্কা সব থেকে বেশি লাগবে ভারতের মতো দেশে। ঘরোয়া বাজারে তেলের চাহিদার জন্য যারা আমদানি নির্ভর। ফলে নয়াদিল্লি সতর্ক। প্রমাদ গুনছে তেল সংস্থাগুলিও।

কেন্দ্র অবশ্য এ দিনও জানিয়েছে, দেশে যথেষ্ট অশোধিত তেল রয়েছে। বহু জাহাজও প্রচুর পরিমাণে বয়ে আনছে। তার উপর দেশে পেট্রল-ডিজ়েলের খুচরো দাম বাড়েনি। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। তবে ‘পেট্রোলিয়াম প্ল্যানিং এবং অ্যানালিসিস সেল’-এর তথ্য বলছে, ভারত যে অশোধিত তেল কেনে তার ব্যারেল এখনও ১০০ ডলারের উপরে। সোমবার ছিল ১০৩.০৫ ডলার। এপ্রিলের গড় দাম ১১৬.৯১ ডলার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে আমদানিকারীদের অস্বস্তি বহাল। থাকছে আগামীর দর সম্পর্কে অনিশ্চয়তাও। তবে এর আগে ব্রেন্ট ১০০ ডলার পার করার পরে ভারতের তেল সংস্থাগুলির যে ক্ষতি হচ্ছিল, তার বহর কিছুটা কমেছে। লিটারে পেট্রল ও ডিজ়েলে ক্ষতির অঙ্ক এ মাসের শুরুতে ছিল যথাক্রমে ১৮ এবং ৩৫ টাকার মতো। তা-ও একটু মাথা নামিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের সিংহভাগেরই ধারণা, মে মাসে দেশে তেলের দাম বাড়তে পারে। কলকাতার এক ইন্ডিয়ান অয়েল পেট্রল পাম্পের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মালিক বলেন, ‘‘আমাদের কাছে যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তাতেও দাম বৃদ্ধির চর্চাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বরং তা বাস্তবায়িত হওয়ার আশঙ্কাই প্রবল।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

crude oil price Crude Oil West Asia US-Israel vs Iran

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy