E-Paper

প্রতি লিটার ১০ টাকা বাড়তে পারে তেলের দাম, কোটাকের পর দাবি আর এক উপদেষ্টার রিপোর্টে

বর্তমানে বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম ব্যারেলে ১০৫-১০৬ ডলারের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। তাতেই রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি পেট্রলের লিটারে প্রায় ২০ টাকা এবং ডিজ়েলে ১০০ টাকা ক্ষতি হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৬:২৭

— প্রতীকী চিত্র।

সরকার যতই অস্বীকার করুক, তেল সংস্থাগুলিকে বাঁচাতে দেশের খুচরো বাজারে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বৃদ্ধি ছাড়া আর গতি নেই বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ সংস্থাগুলি। কোটাক ইনস্টিটিউশনাল একুইটি-র পরে এ বার এমকে গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস সম্প্রতি রিপোর্টে জানিয়েছে, তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে বাঁচাতে পেট্রপণ‍্যের দাম বৃদ্ধি অবশ্যম্ভাবী। এ ছাড়া অন‍্য বিকল্প সামনে নেই। তাদের দাবি, ইরান-আমেরিকা-ইজ়রায়েলের যুদ্ধের জেরে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে সমস্যা বহাল থাকার আশঙ্কা। তাতে তেলের সঙ্কটও চলবে। যে কারণে প্রথম পর্যায়ে পেট্রল-ডিজ়েলের ন‍্যূনতম দাম বাড়াতে হতে পারে লিটারে ১০ টাকা। আর সেটা সত্যি হলে পরের ত্রৈমাসিকে ভারতে মূল্যবৃদ্ধির হার ৭৫-৮০ বেসিস পয়েন্ট মাথাচাড়া দিতে পারে বলেও মনে করে উপদেষ্টাটি। এর পরেই বাড়ছে আশঙ্কা। প্রশ্ন উঠছে, তা হলে মাস গেলেই আরও বেশি টাকা পকেট থেকে বার করতে হবে সাধারণ মানুষকে।

বর্তমানে বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম ব্যারেলে ১০৫-১০৬ ডলারের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। তাতেই রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি পেট্রলের লিটারে প্রায় ২০ টাকা এবং ডিজ়েলে ১০০ টাকা ক্ষতি হচ্ছে। এর আগে কোটাক জানিয়েছিল পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের পরে, মে মাসে তেলের দাম লিটারে ২৫-২৮ টাকা বাড়তে পারে। তার প্রেক্ষিতে তেল মন্ত্রক সমাজমাধ্যমে জানায়, এই দাবির সারবত্তা নেই। খবর ভুয়ো। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতেই তা প্রকাশ করা হয়েছে। বরং বিশ্বে ভারত একমাত্র দেশ, যেখানে প্রায় চার বছর ধরে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম স্থির। পশ্চিম এশিয়ার অশান্তি ও বর্তমান জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যে দাঁড়িয়েও দাম বাড়াচ্ছে না কেন্দ্র এবং তেল সংস্থাগুলি। লক্ষ্য, সাধারণ মানুষের ঘাড়ে বাড়তি বোঝা না চাপানো।

এমকে গ্লোবাল অবশ্য জানিয়েছে, তেলের সঙ্কট চলতে থাকলে পাম্পে জ্বালানির দাম না বাড়িয়ে উপায় থাকবে না। আর সেটা হলে মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হবে। সে ক্ষেত্রে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম লিটারে ১০ টাকা বাড়লে মূল্যবৃদ্ধি ৭৫-৮০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত চড়তে পারে। পাশাপাশি, কম হলেও কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে শেয়ার বাজারের উপরও। তাদের রিপোর্ট আরও বলছে, প্রথমে ১০ টাকা করে দাম বাড়ানো হলেও, তেল সংস্থাগুলির ক্ষতি পোষাতে পরবর্তী কালে তা আরও বৃদ্ধি করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, ভারতকে জ্বালানির অধিকাংশই আমদানি করতে হয়। ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে হরমুজ় দিয়ে জাহাজ যাতায়াত প্রায় বন্ধ হওয়ায় তেল-গ্যাস আমদানি নিয়ে সমস্যায় পড়েছে দেশ। এই পরিস্থিতিতে ৬ মার্চ গৃহস্থের ও বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তবে পেট্রল-ডিজ়েল নিয়ে এখনও সেই সিদ্ধান্ত নেয়নি কেন্দ্র। এর মধ্যেই ভারত যে বাস্কেট থেকে তেল কেনে, তার দাম ব্যারেলে ১৫০ ডলার ছাড়ায়। পরে তা কমে এলেও, এ পর্যন্ত বিশ্ব বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলে ৯০ ডলারের নীচে নামেনি। পেট্রলিয়াম প্ল্যানিং অ্যান্ড অ্যানালিসিস সেল-এর তথ্য বলছে, ভারতীয় বাস্কেটের রয়েছে ১০০ ডলারের উপরেই। ফলে জ্বালানি কেনার খরচ বাড়ছে তেল সংস্থাগুলির। ইতিমধ্যেই তাদের লোকসান কমাতে মার্চে পেট্রল-ডিজ়েলের উৎপাদন শুল্ক লিটারে ১০ টাকা কমিয়েছে কেন্দ্র। এতে কিছুটা লোকসান কমলেও, পরিস্থিতি যা তাতে আগামী দিনে তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া তাদের সামনে উপায় নেই বলেই মত উপদেষ্টার।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Petrol Diesel Price Hike Petrol price Diesel Price West Asia

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy