E-Paper

স্থানীয় পণ্যে জোর, পশ্চিমবঙ্গেও এ বার ‘ভোকাল ফর লোকাল’ নীতি

মূলত নেট বাজারের দৌলতে সব রকমের বিদেশি বা বহুজাতিক সংস্থার পণ্য এখন আমজনতার নাগালের মধ্যে। প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে স্বদেশি পণ্য। প্রশাসন সূত্রের দাবি, অথচ উপযুক্ত গুণমান এবং ব্র‍্যান্ডিং বজায় থাকলে স্থানীয় কারখানায় তৈরি জিনিসও মানুষের চাহিদার বৃত্তে ঢুকে পড়তে পারে।

চন্দ্রপ্রভ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ২০ মে ২০২৬ ০৭:২৫

— প্রতীকী চিত্র।

স্বদেশি পণ্যের ব‍্যবহারে জোর দিল রাজ্য সরকার। স্থানীয় স্তরে উৎপাদিত পণ্যের বৈচিত্র অনুযায়ী বিপণনের মাধ্যমে আয় বাড়ানোর লক্ষ‍্য স্থির করতে সব দফতর এবং জেলাশাসকদের নির্দেশ দিল প্রশাসনের শীর্ষমহল। এ নিয়ে স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করে জমা দিতে হবে মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের কাছে। এই নির্দেশ পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রের ‘ভোকাল ফর লোকাল’ বা স্থানীয় পণ্যকে তুলে ধরার কর্মসূচি প্রয়োগের ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা।

মূলত নেট বাজারের দৌলতে সব রকমের বিদেশি বা বহুজাতিক সংস্থার পণ্য এখন আমজনতার নাগালের মধ্যে। প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে স্বদেশি পণ্য। প্রশাসন সূত্রের দাবি, অথচ উপযুক্ত গুণমান এবং ব্র‍্যান্ডিং বজায় থাকলে স্থানীয় কারখানায় তৈরি জিনিসও মানুষের চাহিদার বৃত্তে ঢুকে পড়তে পারে। তাই সেগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। জোর দেওয়া হচ্ছে স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত ভোজ্য তেল-সহ বিভিন্ন সামগ্রীর ব্যবহার, প্রাকৃতিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি ইত্যাদি সম্পর্কে উৎপাদক এবং ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ানোর উপর।

বেশ কয়েক বছর আগে ‘এক জেলা, এক পণ‍্য’ নামে একটি কর্মসূচি শুরু করেছিল কেন্দ্রের মোদী সরকার। তাতে একেকটি জেলার উৎপাদনে যা বিশেষত্ব রয়েছে, তাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে জোর দেওয়া হয়। যেমন: এলাকাভিত্তিক ভাবে লিচু, পেয়ারা, টোম্যাটো, আলু, কাজু, আম, মাছ, পোলট্রি, মাংস, জনজাতিভুক্ত বা অরণ্য এলাকাগুলিতে মধু-সহ বহু ধরনের পণ্যের বিপুল উৎপাদন হয়ে থাকে। তা দিয়ে আচার, পানীয়-সহ নানা রকমের জিনিস তৈরি করে তা বাজারজাত করার সুবিধা রয়েছে। একাংশের মতে, এই কর্মসূচির ছায়াও রয়েছে রাজ্য সরকারের নতুন নির্দেশে।

সংশ্লিষ্ট মহলের অবশ্য দাবি, এই কাজে সমস্যাও বিস্তর। শুধু উৎপাদন করলেই চলবে না। পণ্য তৈরিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, তার বিপণন, গুণমান সম্পর্কে ক্রেতাকে আশ্বস্ত করা, সঠিক প্রচার ইত্যাদি প্রয়োজন। বাজারের পরিধি বাড়াতে রফতানিতেও জোর দেওয়া জরুরি। তাতে মানের পাশাপাশি, প‍্যাকেজিং-ব্র‍্যান্ডিং-এর গুরুত্ব অনেক। আধিকারিকদের একাংশের মতে, এই সমস্ত দিককে মাথায় রেখেই পরিকল্পনা তৈরি করতে বলা হয়েছে। প্রচেষ্টা সফল হলে স্থানীয় উৎপাদক এবং সংশ্লিষ্টদের আয় বাড়বে উল্লেখযোগ্য হারে। অনেকের পরামর্শ, সমবায়গুলিকেও এ কাজে যুক্ত করা হোক। কারণ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে কেন্দ্র-রাজ্যের বহু ধরনের সহযোগিতা প্রকল্প রয়েছে। ব্যাঙ্কগুলিও ব্যক্তি বা সমবায়গুলিকে প্রকল্পভিত্তিক ঋণদানে আগ্রহী। গোটা বৃত্ত সফল ভাবে সম্পূর্ণ হলে রাজ্যেরও আয়ের বিকল্প একটি রাস্তা খুলে যেতে পারে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

market West Bengal government Central Government

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy