এক দিকে যখন আড়াই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন আন্তর্জাতিক মহল, ঠিক তখনই আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন, পরিস্থিতির ‘যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে’। ট্রাম্পের মতে, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি বর্তমানে ‘যথেষ্ট স্থিতিশীল’। ইরানের যদিও দাবি, যদি আমেরিকা কোনও রকম হামলা চালানোর চেষ্টা করে, তা হলে পাল্টা হামলা চালাতে তারা বিন্দুমাত্র পিছপা হবে না। তবে এরই মধ্যে লেবাননে নতুন করে হামলা শুরু হয়েছে। হামলার জেরে এখনও পর্যন্ত অন্তত সাত জনের নিহত হওয়ার খবর মিলেছে। ঘরছাড়া হতে হচ্ছে অসংখ্য মানুষকে। আমেরিকায় লেবানন ও ইজ়রায়েলি আধিকারিকদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে বৈঠকের পরেই এমন হামলা চলায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত নানা মহল।
গতকালই ইরানকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, তাদের হাতে ‘বেশি সময় নেই’। তবে মঙ্গলবার ইরানের তরফে জানানো হয়, যদি আমেরিকা তাদের উপরে কোনও রকম হামলা চালায় তা হলে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধেও তারা পাল্টা ‘নতুন কোনও পথ’ খুঁজে নেবে। ইরানের উপবিদেশমন্ত্রী কাজ়েম ঘারিবাবাদি ট্রাম্পের মন্তব্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, “‘শান্তির’ নামে ‘হুমকি’ দিতে চাইছেন ট্রাম্প! ইরান যে কোনও সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে প্রস্তুত এবং ঐক্যবদ্ধ।” কিন্তু ‘নতুন করে হামলা’র পরিকল্পনার মাঝেই মঙ্গলবার ট্রাম্প যখন কিছুটা উল্টো সুরেই মন্তব্য করেছেন, তখনই তাঁকে কটাক্ষ করছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তাঁর দাবি, আমেরিকার এই ‘অসঙ্গত’ আচরণের জন্যই আগামী দিনে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
এরই মধ্যে অবশ্য হামলা চলছে লেবাননে। সূত্রের খবর, দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েল। হানাওয়ে, দিবাল, দের আম্মার, দের আমেস ও টায়ারের মেরিকায় লাগাতার হামলা চালাচ্ছে ইজ়রায়েল। হামলার জেরে গত ২ মার্চ থেকে এখনও পর্যন্ত ৩,০৪২ মানুষ নিহত হয়েছেন। জখম হয়েছেন অন্তত ১০ হাজার মানুষ। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর, সোমবারই হামলার জেরে সাত জন নিহত হয়েছেন। ইজ়রায়েলের দাবি, হিজ়বুল্লার ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে তারা এবং বেশ কিছু ক্ষেত্রে বেশ কিছু হিজ়বুল্লার সদস্যকেও মেরেছে তারা। পাল্টা হিজ়বুল্লার দাবি, হামলা চালাচ্ছে তারাও। হিজ়বুল্লার তরফে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দের সিরিয়ার কাছে থাকা একটি ইজ়রায়েলি বুলডোজ়ার ও ড্রোন লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তারা। রাশাফে থাকা ইজ়রায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। হামলার জেরে লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছে অসংখ্য মানুষকে। ড্যানিশ রেফিউজি কাউন্সিলের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইতিমধ্যে ১২ লক্ষ মানুষকে ঘর ছাড়া হতে হয়েছে মার্চ থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে। আগামী দিনে যে এই সংখ্যা আরও বাড়বে, তা নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)