E-Paper

বিদেশনীতিতে দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি, অভিযোগ হাসিনার

একান্ত সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার জবাব, “পরিমার্জন বা শুদ্ধকরণ স্বাভাবিক ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। কোনও কোনও ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে অভিযোগও উঠেছে।

অগ্নি রায়

শেষ আপডেট: ২০ মে ২০২৬ ০৮:০৭
শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা। ফাইল চিত্র।

তিনি বলছেন, দ্রুত মাথা উঁচু করে দেশে ফিরবেন। বলেছেন বাংলাদেশের মানুষের মনে আওয়ামী লীগ বিরাজমান। কিন্তু দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তো পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির। দলে ক্ষমতার বেনোজল ঢুকে সরকারের পতনকে ত্বরান্বিত করেছে– এমন কথাও উঠে এসেছে। আজ, কুর্সি থেকে সরে যাওয়ার দু’বছর পর দলে শুদ্ধিকরণ সম্পর্কে কী ভাবনাচিন্তা রয়েছে শেখ হাসিনার?

একান্ত সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার জবাব, “পরিমার্জন বা শুদ্ধকরণ স্বাভাবিক ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। কোনও কোনও ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে অভিযোগও উঠেছে। আমরা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে তা বিবেচনা করেছি। আওয়ামী লীগ অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। ক্ষমতায় থাকার সময়েই অন্যায়ে লিপ্ত মন্ত্রী-সাংসদদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে।”

কিন্তু এই মুহূর্তে কি আদৌ নেতৃত্বের শাসন রয়েছে দলের উপর? যে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তাঁর দল। হাসিনার বক্তব্য, ‘‘নেতাকর্মীদের বলব, হতাশ হবেন না। আগুনে পুড়লেই সোনা খাঁটি হয়। এটি প্রাকৃতিক শুদ্ধকরণও। আজ যাঁরা অত্যাচার সত্ত্বেও দলের হয়ে লড়ছেন তাঁরাই প্রকৃত আওয়ামী লীগ। যাঁরা ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য দলকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করেছিলেন তাঁরা ভোল বদলে ফেলেছেন বা চুপহয়ে গিয়েছেন।’’

মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তিকালীন সরকারের সময়েই পাকিস্তান এবং চিনের সঙ্গে ঢাকার সখ্য বাড়তে দেখা গিয়েছিল। বিএনপি সরকার আসার পরেও তা অব্যাহত। কী ভাবে দেখছেন শেখ মুজিব কন্যা? তাঁর কথায়, “বিদেশনীতির মূল কথা সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। এই বন্ধুত্ব স্থাপনের মূল লক্ষ্য, দেশের জনকল্যাণ এবং ভিত হল সাম্য। আমাদের সরকার বন্ধুপ্রতিম সব রাষ্ট্রের সঙ্গেই স্বচ্ছতার সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। কিন্তু ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার বা বর্তমান বিএনপি সরকার— উভয় ক্ষেত্রেই দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেওয়া হচ্ছে। এর থেকে বিশদে বলার সময় আসেনি।”

জঙ্গিবাদ প্রসারের আশঙ্কা নিয়েও হাসিনা অভিযোগের আঙুল তুলছেন বর্তমান সরকারের দিকে। তাঁর অভিযোগ, ‘‘২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি জামায়েতে জোট সরকারের সময়, বাংলাদেশ জঙ্গিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিল। দেশের ৬৩টি জেলায় একযোগে বোমা হামলা, আমার উপর গ্রেনেড হামলা হয়। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দশ ট্রাক অবৈধ অস্ত্র আমদানি, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা, বিচারককে হত্যার মতো ঘটনা ঘটে। আমরা এসেছিলাম, সন্ত্রাসবাদ প্রশ্নে শূন্য সহনশীলতা নীতি নিয়ে। আইনের আধুনিকীকরণ, জঙ্গিবাদ নির্মূলে বিশেষ সেল গঠন, যথাযথ নজরদারির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু আবার সেই অন্ধকার দিন আসছে। সন্ত্রাসবাদে দণ্ডপ্রাপ্ত অনেকেই সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে সাংসদ হয়েছেন। সন্ত্রাস দমনে বড় ভূমিকা নেওয়া আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার অনেকেরই চাকরি কেড়ে নেওয়া হয়েছে, সন্ত্রাসে যুক্ত ব্যক্তিরা মুক্তি পেয়ে প্রকাশ্যে কাজকর্ম শুরু করেছেন।"

দেশের অর্থনীতি নিয়েও সরব হাসিনা। তাঁর অভিযোগ, ‘‘সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বতিকালীন সরকার বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বংস করেছে। সন্ত্রাসের মাধ্যমে বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মাত্র দেড় বছরে তারা দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে ঋণ করেছে ৩ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। তারেক রহমানের সরকারের তিন মাসে ঋণের পরিমাণ ১ লাখ কোটি টাকা! বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস, সেচের পানি, সার নেই। কর্মসংস্থান কমায় মানুষের আয় কমেছে, পণ্যের দাম বেড়েছে। ২০০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের শেষ বাজেট ছিল ৭০ হাজার কোটি টাকা, আমাদের শেষ বাজেটের (২০২৪-২৫) আকার ছিল ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা।’’ তাঁর দাবি, এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করছে, দেশের অর্থনীতিকে আওয়ামী লীগ সরকার কতটা সুদৃঢ় করতে পেরেছিল।

(শেষ)

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Sheikh Hasina

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy