মাত্র ২২ বছর বয়সে ২০ লক্ষ টাকা বেতনের চাকরি। তিন বছর না পেরোতেই সেই চাকরিকে বিদায় জানালেন তরুণ ইঞ্জিনিয়ার। চোখধাঁধানো বেতন হলেও চাকরিক্ষেত্রে চরম প্রতিকূলতার মুখে পড়ে চাকরির মায়া ছাড়তে হয়েছে তাঁকে। তাঁকে এমন একটি জায়গায় পাঠানো হয়েছিল সেখানকার পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে দাঁড়িয়েছিল যে তিনি বাধ্য হয়ে এই সিদ্ধান্ত নেন। সৌরভ মিত্তল নামের ওই তরুণ ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে চাকরি যাওয়ার কারণ জানিয়েছেন। ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিয়োটি। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেডে যোগ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন তরুণ। তিনি একটি গুদামে কাজ করতেন যেখানে কোনও শৌচাগার, পানীয় জলের বন্দোবস্তটুকু ছিল না বলে অভিযোগ করেছেন সৌরভ। কর্মক্ষেত্রের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারছিলেন না সৌরভ। কারণ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁর ওপর হম্বিতম্বি করতেন। এমনকি তাঁকে বিমানবন্দর থেকে অতিথিদের নিয়ে আসা ও হোটেল বুকিংয়ের মতো ব্যক্তিগত কাজও করতে বলা হত। সৌরভের দাবি, কর্মক্ষেত্রে ছুটি বলতে প্রায় কিছুই ছিল না। গভীর রাতে এবং সপ্তাহান্তেও কাজের ফোন আসত। পদোন্নতি খুব ধীর ছিল এবং বেতনবৃদ্ধিও ছিল সামান্য। বেশির ভাগ কর্মচারীই বেশ বয়স্ক ছিলেন, ফলে উন্নতির সুযোগ ছিল খুবই কম। সৌরভ ভিডিয়োয় বলেন, “আমি এ ভাবে আমার পুরো জীবন কাটানোর কথা কল্পনাও করতে পারি না।”
চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বাড়িতে জানাতেই তরুণের বাবা আপত্তি জানিয়েছিলেন। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার অত্যন্ত সম্মানজনক এই চাকরি ছাড়বেন শুনে সৌরভের বাবা বিচলিত হয়ে পড়েন। কিন্তু তাঁর মানসিক চাপ দেখে সমর্থন করেন মা। সৌরভ এখন গুরুগ্রামে এমবিএ কোর্সে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়াও সমাজমাধ্যমে পেশা সংক্রান্ত নানা ভিডিয়ো করতে শুরু করেছেন। সৌরভের ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যমে প্রশংসা কুড়িয়েছে। প্রচুর নেটাগরিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘নিঃসন্দেহে এটি একটি ভাল ও সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত। সারা জীবন আফসোস করার চেয়ে এক বার চাকরি ছাড়া ভাল।’’