এখন উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৫০ মেগাওয়াট। রাজ্যের গ্রিডে তাপবিদ্যুতের সঙ্গে বিকল্প শক্তির মিশ্রণ বাড়াতে দু’বছরের মধ্যে তাই বাড়তি ৪৩৮ মেগাওয়াটের বিভিন্ন ধরনের সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরির পরিকল্পনা পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ দফতরের। কর্তারা জানাচ্ছেন, এ জন্য খরচ হবে প্রায় ২,৫০০ কোটি। বেশির ভাগটাই দেবে রাজ্য। কিছুটা অনুদান হিসেবে আসবে কেন্দ্রের কাছ থেকে। 

বিশেষজ্ঞেরা বলেন, গুজরাত, রাজস্থান ইত্যাদি রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের তেমন পরিবেশ নেই। কারণ এখানে সর্বত্র সূর্যের তাপ সমান নয়। ঋতু বদলের কারণে বছরের অনেকটা সময়ে তাপ কমেও যায়। কিন্তু তাতেও যেটুকু উৎপাদন সম্ভব, এত দিন তার খুব বেশি সদ্ব্যবহার করা হয়নি বলেই অভিযোগ। রাজ্যের অবশ্য দাবি, বাম আমলের তুলনায় এখন বিকল্প শক্তির উৎপাদন অনেকটাই বেড়েছে।

বেশ কয়েক বছর ধরেই পশ্চিমবঙ্গে সৌর বিদ্যুৎ তৈরি আরও বাড়ানোয় জোর  দিচ্ছে কেন্দ্র। লক্ষ্য বেঁধেছে রাজ্যে এই উৎপাদন ক্ষমতা ২০২২ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে ৪২০০ মেগাওয়াটে নিয়ে যাওয়ার। সেই রাস্তা গ়়ড়তে বিদ্যুৎ মন্ত্রকের প্রস্তাব, ৫০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় সোলার পার্ক গড়ার। যাতে আর্থিক অনুদানও মিলবে। কিন্তু এর জন্য প্রচুর জমি চাই। তাই রাজ্য রাজি নয়। বরং আপাতত ছোট ছোট ইউনিটের মাধ্যমে বিকল্প শক্তি বৃদ্ধির দিকে নজর দিচ্ছেন বিদ্যুৎ-কর্তারা।

এক কর্তা জানান, ২০১৮ সালেই রাজ্যের নতুন সৌর বিদ্যুৎ নীতি ঘোষণা হবে। খসড়া প্রস্তাবটি অর্থ দফতরের অনুমতির জন্য পাঠানো হয়েছে। সায় পেলে রাজ্যে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বেসরকারি লগ্নির বড় জায়গা তৈরি হবে।

বাড়তি ৪৩৮ মেগাওয়াটের ২০০ সৌর পার্ক থেকে মিলবে। বাকিটা বড় জলাশয়ে ভাসমান প্রকল্প বানিয়ে কিংবা সেচ বা নদী খালের জলের উপর, খালের তীরে এবং বিভিন্ন সরকারি বাড়ি ও স্কুল-কলেজের ছাদ থেকে পাওয়া যাবে।

রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘প্রস্তাবিত নতুন প্রকল্পগুলির বাইরেও ভবিষ্যতের কথা ভেবে সেচ দফতরের বিভিন্ন জলাশয় ও সরকারি খাস জমি চিহ্নিত হচ্ছে। যেখানে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প হবে।’’