নীরব মোদীর সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার প্রতারণা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ বার সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক কোর ব্যাঙ্কিং সলিউশনের সঙ্গে সুইফট ব্যবস্থাকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিল। ঠিক যেমনটা বলেছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। আজ দিল্লিতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক কর্তাদের সিদ্ধান্ত, ৩০ এপ্রিলের মধ্যেই এই কাজ সারা হবে।
উল্লেখ্য, কোর ব্যাঙ্কিং সলিউশনে ব্যাঙ্কের লেনদেন চলে। আর সুইফটের মাধ্যমে বার্তা যায় এক ব্যাঙ্ক থেকে আর একটিতে। পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কে এই দু’টি যুক্ত না থাকাতেই নীরবের পক্ষে জালিয়াতি করা সহজ হয়েছিল বলে অভিযোগ।
এ দিকে মুম্বইয়ে পিএনবির সেই ব্র্যাডি হাউস শাখা থেকেই চান্দ্রি পেপার্সকে বেআইনি ভাবে ৯ কোটি টাকার ভুয়ো লেটার অব আন্ডারটেকিং (এলওইউ) দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নীরবের সঙ্গে ব্যাঙ্কের যে দুই কর্মীর যোগসাজশ ছিল, এ ক্ষেত্রেও সেই গোকুলনাথ শেট্টি ও মনোজ খারাটই স্টেট ব্যাঙ্কের বেলজিয়াম শাখার জন্য এলওইউ জারি করেন। ৩ বছরের বদলে ২০২০ সালে টাকা ফেরতের সুবিধা দেওয়া হয়।
পিএনবি কর্তা সঞ্জীব শরণ বলেন, ‘‘ওই একই সময় এই প্রতারণা হয়েছে। তবে অন্য কোথাও জালিয়াতি হয়নি।’’ স্টেট ব্যাঙ্কের ডেপুটি এমডি এস এস শাস্ত্রীরও দাবি, সব রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কই হিসেবের খাতা পরীক্ষা করে দেখেছে। পিএনবি ছাড়া আর কেউ বেআইনি এলওইউ জারি করেনি।
নীরব কাণ্ডের পরেই ফাঁকফোকর ঢাকতে দিল্লিতে তিন দিন ধরে ব্যাঙ্কের কর্তারা বৈঠকে বসেছিলেন। ঠিক হয়েছে, সাইবার বিমা চালুর কাজে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যাতে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি, হ্যাকিংয়ের শিকার গ্রাহকদের জন্য বিমার ব্যবস্থা থাকবে। সুইফট চালু থাকবে সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা। ব্যাঙ্ক কর্মীদের উপর প্রযুক্তি মারফত নজরদারির জন্য ‘নো ইয়োর এমপ্লয়ি’ জোরদার করা হবে।