২০২৬-’২৭ আর্থিক বছরের বাজেটে স্মার্টফোনের উপর কর কমিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। এর জেরে কি অচিরেই সস্তা হচ্ছে মুঠোবন্দি ডিভাইস? বাজার বিশ্লেষকেরা কিন্তু সম্পূর্ণ অন্য কথা বলেছেন। তাঁদের দাবি, এখনই যে কম দামে প্রিমিয়াম স্মার্টফোন গ্রাহকদের হাতে চলে আসবে, এমনটা নয়। সেটা পেতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েক মাস। অর্থাৎ, এক কথায় দিল্লি যে বহু দূর, তা বলাই বাহুল্য।
চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি সংসদে বাজেট পেশ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা। সেখানে করা তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী দিনে বৈদ্যুতিন সরঞ্জামের বাজার যে কিছুটা চাঙ্গা হবে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। এ বারের বাজেটে মোবাইল ফোনের আমদানি শুল্ক হ্রাস করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। এ ছাড়া সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ তৈরির জন্য কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচের কথা ঘোষণা করেছে সরকার।
আরও পড়ুন:
বিশেষজ্ঞদের দাবি, কেন্দ্রের এই ধরনের পদক্ষেপের জেরে আগামী দিনে সস্তা হবে স্মার্টফোন। তবে বর্তমানে বাজারে যে মুঠোবন্দি ডিভাইসগুলি রয়েছে, সেগুলির দাম হ্রাস পাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। বিশ্লেষকদের অনুমান, নতুন ফোনের দু’-তিনটে চক্রের পর দামের সুবিধা পাবেন গ্রাহক। উদাহরণ হিসাবে ওপোর রেনো-১৫ বা আইকুর ১৫-আর স্মার্টফোনের কথা বলেছেন তাঁরা। এগুলির দাম এখনই কমার কোনও সম্ভাবনা নেই। তবে রেনো-১৭ বা ১৭-আর মডেল বাজারে এলে সস্তায় সেগুলি কেনার সুযোগ পেতে পারেন গ্রাহক।
এ বারের বাজেটে স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক ২০ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করে দিয়েছেন নির্মলা। ফলে চিন বা হংকং থেকে অ্যাপ্ল নির্মিত ফোনটি কিনলে বেশ সস্তায় তা ভারতে নিয়ে আসা যাবে। যদিও এ দেশে বসে প্রিমিয়াম ফোন (যার দাম ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা বা তার বেশি) কিনতে চাইলে দামের দিক থেকে কোনও সুবিধা পাবেন না ব্যবহারকারীরা।
ভারতের মধ্যবিত্ত আমজনতার একটা বড় অংশই ১০-২০ হাজার টাকার স্মার্টফোন ব্যবহার করে থাকেন। এই ডিভাইসগুলির দাম কিন্তু আগামী দিনে বাড়তে চলেছে। কারণ, র্যাম এবং স্টোরেজের জন্য ওগুলির নির্মাণ খরচ বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন গ্যাজেট বিশ্লেষকেরা। ফলে বাজেট পরবর্তী সময় কম দামের স্মার্টফোন কেনার আদর্শ সময়। আর দামি গ্যাজেট কিনতে হলে অপেক্ষা করাই ভাল বলে স্পষ্ট করেছেন তাঁরা।