প্রযুক্তির দুনিয়ায় রাজনীতির ‘অনুপ্রবেশ’! প্রসেসার থেকে ক্যামেরা, বৈদ্যুতিন সরঞ্জামের নানা উপকরণ তৈরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমঝোতার ক্ষেত্রে স্পষ্ট হচ্ছে সেই ছবি। উদাহরণ হিসাবে স্যামসাং ও কোয়ালকমের কথা বলা যেতে পারে। দু’ন্যানোমিটারের চিপ তৈরির জন্য কাছাকাছি এসেছে এই দুই সংস্থা, যার নেপথ্যে ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবকেই দায়ী করেছেন গ্যাজেট বিশ্লেষকদের একাংশ।
এত দিন পর্যন্ত তাইওয়ানের সংস্থা টিএসএমসির মাধ্যমে প্রসেসার বানাচ্ছিল কোয়ালকম। বৈদ্যুতিন সরঞ্জামের দুনিয়ায় তাদের তৈরি চিপের বেশ সুনাম রয়েছে। টিএসএমসির সেমিকন্ডাক্টর বা প্রসেসারের জন্য ব্যাটারি খরচ হয় কম। ফলে দ্রুত গরম হয়ে যাওয়ার সমস্যার মুখে পড়ে না গ্যাজেট। তা ছাড়া যে কোনও ধরনের নেটওয়ার্কের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে ওই চিপের, যার জেরে কোয়ালকমের থেকে বিপুল বরাত পায় ওই সংস্থা।
কিন্তু, চলতি বছরের ২ জানুয়ারি মধ্যরাতে মার্কিন ফৌজ ভেনেজ়ুয়েলা আক্রমণ করলে রাতারাতি বদলে যায় আন্তর্জাতিক রাজনীতি। বিশ্লেষকদের দাবি, এর জেরে তাইওয়ানে হামলা চালানোর ‘মেগা’ সুযোগ পেয়ে গিয়েছে চিন। আগামী দিনে প্রশান্ত মহাসাগরের ওই দ্বীপরাষ্ট্রটিকে বেজিঙের সেনাবাহিনী দখল করতে গেলে কারও পক্ষে তাদের উপর চাপ তৈরি করা সম্ভব নয়। কারণ, তখন অনায়াসেই ওয়াশিংটনের উদাহরণ দিতে পারবে ড্রাগন।
এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায় মুনাফার অঙ্ক বজায় রাখতে ঝুঁকি নিতে চাইছে না যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থা কোয়ালকম। সেই কারণেই দক্ষিণ কোরিয়ার বহুজাতিক টেক জায়ান্ট স্যামসাঙের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে তারা। অন্য দিকে, বিদেশি নির্ভরশীলতা কমাতে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে ২৮ ন্যানোমিটারের মাইক্রোপ্রসেসার তৈরি করেছে ভারতও।