Advertisement
E-Paper

এস্থেটিক সার্জারির পর ফল পছন্দ না হলে কি আবার আগের রূপ ফিরে পাওয়া যায়? কী বললেন নৃপেন্দ্র গুহ

অভিনেত্রী রুক্ষ্মিণী মৈত্রের সঙ্গে একটি ছবি ভাইরাল হতেই তাঁর স্ফীত মুখের কারণে নানা কটাক্ষ শুনতে হয়েছে এস্থেটিক স্পেশ্যালিস্ট সার্জন নৃপেন্দ্র গুহকে। এস্থেটিক সার্জারির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে আনন্দবাজার ডট কমের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করলেন নৃপেন্দ্র।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৫১
(বাঁ দিকে বর্তমান ছবি) এস্থেটিক স্পেশ্যালিস্ট সার্জন নৃপেন্দ্র গুহ (আগের ছবি ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে বর্তমান ছবি) এস্থেটিক স্পেশ্যালিস্ট সার্জন নৃপেন্দ্র গুহ (আগের ছবি ডান দিকে)। ছবি: সংগৃহীত।

২৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর প্রথম ক্লিনিক উদ্বোধন করতে গিয়েই সমাজমাধ্যমে ট্রোলের শিকার হয়েছেন এস্থেটিক স্পেশ্যালিস্ট সার্জন নৃপেন্দ্র গুহ। অভিনেত্রী রুক্ষ্মিণী মৈত্রের সঙ্গে একটি ছবি ভাইরাল হতেই তাঁর স্ফীত মুখের কারণে নানা কটাক্ষ শুনতে হয়েছে নৃপেন্দ্রকে। এস্থেটিক সার্জারির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে আনন্দবাজার ডট কমের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করলেন নৃপেন্দ্র।

২০ বছর ধরে এস্থেটিক সার্জন হিসাবে কাজ করছেন কলকাতার ছেলে নৃপেন্দ্র। রাশিয়া থেকে এমবিবিএস পাশ করেন তিনি। তার পর দুবাই আর আয়ারল্যান্ড থেকে এস্থেটিক সার্জারি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন তিনি। ন়ৃপেন্দ্রের দাবি, টলিপাড়া ও বলিউডের অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রীই তাঁর কাছে এসে নানা রকম সার্জারি করিয়েছেন। এই ধরনের সার্জারিগুলির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি কতটা? নৃপেন্দ্র বলেন, ‘‘এস্থেটিক সার্জারির ক্ষেত্রে ‘পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া’ বলে কিছুই হয় না। আমরা যে ধরনের ট্রিটমেন্ট করি, সেগুলি সবই এফডিএ (ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) দ্বারা অনুমোদিত। ধরুন আপনি হার্ট সার্জারি করতে গিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের পর তো আপনাকে ‘হিলিং টাইম’ অর্থাৎ সম্পূর্ণ রূপে সুস্থ হওয়ার জন্য একটা সময় দিতে হবে! এস্থেটিক সার্জারির ক্ষেত্রেও বিষয়টা ঠিক একই রকম। এ ক্ষেত্রেও অস্ত্রোপচারের পর মনের মতো বদল পেতে খানিকটা সময় দিতে হয়। অস্ত্রোপচার যত জটিল হবে, ‘হিলিং টাইম’ও ততই বাড়বে।’’

ক্লিনিকের উদ্বোধনের ঠিক আগে আগেই নৃপেন্দ্র একটি মেশিন-বেস্‌ড সার্ভিস নিয়েছিলেন, আর সেই কারণেই তার মুখে প্রদাহ হয়, মুখ অস্বাভাবিক রকম ফুলে যায়। এটাও কি পার্শ্বপ্রতক্রিয়া ছিল না? নৃপেন্দের জবাব, ‘‘এ ক্ষেত্রে আমারও খানিকটা দোষ ছিল। আমি আরও সুন্দর হওয়ার লোভে পড়ে গিয়েই সার্ভিসটি নিয়ে ফেলেছিলাম। সার্ভিস করানোর পর মনে হয়েছিল, বিষয়টি আমাকে ঠিক মানাচ্ছে না, আমি কিন্তু নিজেই সেই ফিলার রিমুভ করে দিয়েছি। এখন আবার আগের চেহারায় ফিরে গিয়েছি। প্রদাহও কমেছে।’’

নৃপেন্দ্রের মতে, সালোঁয় গিয়ে ফেশিয়াল করালেও তো অনেক সময় মুখে র‌্যাশ বেরিয়ে যায়, তার পরেও তো লোকে ফেশিয়াল করেন। নৃপেন্দ্র বলেন, ‘‘এস্থেটিক সার্জারি বিষয়টি ম্যাজিক নয়, সময় তো লাগবেই। অস্ত্রোপচারের পর আমারও প্রদাহ হয়েছেল, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রদাহ কমে গিয়েছে। প্রত্যেকের শরীর আলাদা হয়, ট্রিটমেন্ট করানোর পর এক এক জনের শরীরে এক এক রকম ভাবে রিঅ্যাক্ট করে। যদি ট্রিটমেন্ট পছন্দ না হয়, তা হলে পূর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়ার উপায়ও আছে।’’

এস্থেটিক সার্জারির ক্ষেত্রে যদি অস্ত্রোপচার করানোর পর কারও যদি ফলাফল পছন্দ না হয়, তা হলে তিনি কিন্তু আগের রূপ পেতে পারেন। নৃপেন্দ্র বলেন, ‘‘কোনও ক্লায়েন্ট আমাদের কাছে এলে আমরা প্রথমে তাঁর দাবি শুনি, তার পর আমাদের যদি মনে হয়, সেটা আদৌ তাঁকে মানাবে না, আমরা তখন সেই রকম ট্রিটমেন্ট করি না। বদলে তাঁর শরীরের জন্য যেটা প্রয়োজনীয়, সে রকম ট্রিটমেন্ট করানোর পরামর্শ দিই। বাইরে থেকে ট্রিটমেন্ট করিয়ে আমার কাজে অনেকেই আসেন, যাঁরা তাঁদের ফলাফলে সন্তুষ্ট নন। আমরা কিন্তু তাঁকে আবার আগে চেহারায় ফিরিয়ে দিই। এস্থেথিক ট্রিটমেন্টগুলি রিভার্সেব্‌ল হয়। অস্ত্রোপচারের পর ফলাফল পছন্দ না হলে সহজেই আগের চেহারা ফিরে পাওয়া যায়, তবে সেখানেও ধৈর্য রাখা ভীষণ জরুরি। রাতারাতি ফলাফলের আশা করলে হবে না। আর এ ক্ষেত্রে অবশ্যই দক্ষ চিকিৎসকের কাচেই যেতে হবে। ফিলার রিমুভ করা ততটাও সহজ কাজ নয়।’’

Aesthetic surgeon Plastic Surgeon Plastic Surgery Cosmetic Surgery
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy