১২,৪৪৫টি শূন্য পদে বিষয় ভিত্তিক ও জাতি ভিত্তিক কোথায় কত শূন্যপদ রয়েছে তার নির্ভুল তালিকা পাঠানো হবে স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)-এর কাছে। ৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার পর্যন্ত ম্যাচিং ভ্যাকেন্সি পাঠায়নি স্কুল শিক্ষা দফতর। তার ফলে নিয়োগের কাউন্সেলিং শুরু করতে পারছে না স্কুল সার্ভিস কমিশন।
৩১ অগস্টের মধ্যে কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া শেষ করে নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশের নিয়োগের সুপারিশ দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে এসএসসিকে। আর নিয়োগপত্র দেবে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী সুপারিশপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার কথা ছিল ১৫ জানুয়ারি। নবম দশমের নথি যাচাইয়ের কথা ছিল ২৬ ডিসেম্বর।
আরও পড়ুন:
কিন্তু সেই সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার দু'মাস পরেও প্রক্রিয়া শুরু করতে পারল না স্কুল সার্ভিস কমিশন। ইতিমধ্যেই রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষা, যা চলবে ১২ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আর ওই দিনই শুরু হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক, যা চলবে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। পরীক্ষা শেষ হলেই রাজ্যে বিধানসভা ভোটের দামামা বেজে যাবে। ‘যোগ্য’ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বক্তব্য, এ সবের মাঝে তাঁদের থমকে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়ার কি হবে? যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের অন্যতম আহ্বায়ক মেহবুব মণ্ডল বলেন, ‘‘ম্যাচিং ভ্যাকেন্সি শুধু নয়, নিয়োগের ক্ষেত্রে যে রোস্টার আইনগত ভাবে তৈরি করা উচিত সেটাও ঠিক মতো করছে না সরকার। এর ফলে নিয়োগের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হবে।’’
স্কুল সার্ভিস কমিশনের এক কর্তা জানান, কাউন্সেলিং শুরু করতে গেলে শূন্য পদের নিরিখে স্কুল ও বিষয়ভিত্তিক ম্যাচিং শূন্য পদ চাই। এসএসসি সূত্রের খবর, একাদশ-দ্বাদশের কাউন্সেলিং-এর ডাক পেয়েছে ‘যোগ্য’ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে ৮২৯৯ জন চাকরিহারা। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের কাছ থেকে ম্যাচিং ভ্যাকেন্সি আসার পর প্রায় ৯ থেকে ১০ দিন লাগবে কাউন্সেলিং শুরু করতে। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানাচ্ছে কমিশন। তার আগে শুরু করলে মাধ্যমিক পরীক্ষায় যাঁরা ইনভিজিলেশন-এর দায়িত্ব আছেন, সেখানে সমস্যা তৈরি হবে। একাদশ-দ্বাদশের নিয়োগ প্রক্রিয়ার পর মার্চ মাসের শুরুতেই রয়েছে গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি-র নিয়োগের পরীক্ষা। তাই মাধ্যমিকে কাউন্সেলিং-এর তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের আগে হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।