E-Paper

হিসাব-পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল আইএমএফ, শুক্রে প্রথম বার বেরোচ্ছে নতুন অঙ্কে আর্থিক বৃদ্ধির হার

মুশকিল হল, ২০১১-১২ সালের পরে মানুষের কেনাকাটার ধরন, জীবনযাত্রায় অনেক বদল এসেছে।

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৭
আইএমএফ বা আন্তর্জাতিক অর্থভান্ডার।

আইএমএফ বা আন্তর্জাতিক অর্থভান্ডার। ফাইল চিত্র।

ভারত আর্থিক বৃদ্ধির হারে গোটা বিশ্বের মধ্যে এগিয়ে বলে মোদী সরকার ঢাক পিটিয়ে থাকে। কিন্তু আর্থিক বৃদ্ধির হিসাব ঠিক মতো হচ্ছে কি না, তা নিয়েই ঘরে-বাইরে প্রশ্ন উঠছিল। দেশের জিডিপি ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধীরা। তিন মাসে আগে আইএমএফ বা আন্তর্জাতিক অর্থভান্ডারও ভারতের জিডিপি হিসাবের পদ্ধতিতে খামতি রয়েছে বলে জানায়। ভারতের জিডিপি-রহিসাবের পদ্ধতিকে তৃতীয় সারিতে রেখে ‘সি’ রেটিং দেয় তারা।

এই প্রশ্নের মুখে কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান মন্ত্রক শুক্রবার নতুন হিসাবের জিডিপি প্রকাশ করতে চলেছে। এত দিন ২০১১-১২ অর্থবর্ষকে ভিত্তিবর্ষ ধরে বা সেই বছরের বাজারদরের নিরিখে জিডিপি-রঅঙ্ক কষা হত। শুধুমাত্র উৎপাদিত জিনিসপত্রের দামের ভিত্তিতে হিসাব করলে, দাম বাড়লে জিনিসপত্রের উৎপাদনও বেড়েছে বলে ভ্রম হতে পারে। তাই কোনও একটি বছরের বাজারদরকে ভিত্তি করে হিসাব করা হয়, মূল্যবৃদ্ধিকে বাদ দিয়ে বাস্তবে জিডিপি বা মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের পরিমাণ কতখানি বেড়েছে।

মুশকিল হল, ২০১১-১২ সালের পরে মানুষের কেনাকাটার ধরন, জীবনযাত্রায় অনেক বদল এসেছে। কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান মন্ত্রক এ বার তাই ২০২২-২৩ অর্থবর্ষকে ভিত্তিবর্ষ ধরে জিডিপি বা দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের হিসাব প্রকাশ করতে চলেছে। অর্থাৎ, ২০২২-২৩ সালের ভিত্তিতে অর্থনীতির বহর কতখানি বেড়েছে বা কমেছে, তার হিসাব হবে। নতুন পদ্ধতিতে জিএসটি, ই-বাহন পোর্টালের গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের তথ্য, ক্রেতাদের ব্যয় সমীক্ষার রিপোর্টের উপরে নির্ভর করা হবে।

ভারতে জিডিপি হিসাব করার পদ্ধতি নিয়ে আইএমএফ-এর মূলত তিনটি আপত্তি ছিল। এক, অনেক পুরনো ভিত্তিবর্ষ। দুই, পাইকারি বাজারের মূল্যবৃদ্ধির পরিসংখ্যানের উপরে অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা। তিন, মাত্র একবার মূল্যবৃদ্ধিকে বাদ দিয়ে হিসাব কষা বা ‘সিঙ্গল-ডিফ্লেশন’। পরিসংখ্যান মন্ত্রকের সচিব সৌরভ গর্গ জানিয়েছেন, নতুন পদ্ধতিতে আইএমএফ-এর উদ্বেগ দূর করার চেষ্টা হয়েছে। সূত্রের বক্তব্য, নতুন পদ্ধতিতে মূল্যবৃদ্ধি বাদ দিয়ে কোনও সংস্থার উৎপাদন বাস্তবে কতখানি বেড়েছে, তা দেখা হবে। একই সঙ্গে ওই সংস্থার কাঁচামালের পরিমাণও বাস্তবে কতখানি বেড়েছে, তা-ও মূল্যবৃদ্ধি বাদ দিয়েই দেখা হবে।

শুক্রবার পরিসংখ্যান মন্ত্রক নতুন পদ্ধতিতে আর্থিক বৃদ্ধির চলতি আর্থিক বছর (২০২৫-২৬)-এর তৃতীয় ত্রৈমাসিক বা অক্টোবর-ডিসেম্বরের আর্থিক বৃদ্ধির হার প্রকাশ করবে। নতুন পদ্ধতিতে চলতি অর্থবর্ষের আর্থিক বৃদ্ধির পূর্বাভাসও জানাবে। যা বাজেটের আগে ৭.৪ শতাংশ বলে প্রথম আগাম পূর্বাভাস করা হয়েছিল। তার সঙ্গে গত তিনটি অর্থ বছরের আর্থিক বৃদ্ধির হারও নতুন পদ্ধতিতে কত ছিল, তা জানাবে তারা। যাতে তার সঙ্গে চলতি অর্থ বছরের তুলনা করা যায়। কিন্তু চলতি অর্থবর্ষের আর্থিক পূর্বাভাসের ভিত্তিতে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বাজেট পেশ করেছেন। সেই হিসাব বদলে গেলে গোটা বাজেটের অঙ্ক বদলে যেতে পারে বলে তিনি নিজেই জানিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে কী পরিস্থিতি তৈরি হবে, শুক্রবার মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরন তার ব্যাখ্যা দেবেন।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Indian Economy Narendra Modi

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy