E-Paper

ভারত-সহ সাড়া বিশ্বে ব্যাহত সরবরাহ, গ্যাসের জোগান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে দেশে

যুদ্ধের জেরে গত কয়েক দিন ধরে গ‍্যাস আনার জন‍্য কোনও জাহাজ পাঠানো সম্ভব হয়নি বলে বুধবার শেয়ার বাজারকে জানিয়েছে ভারতের সর্ববৃহৎ এলএনজি আমদানিকারী সংস্থা ‘পেট্রোনেট’। একই কথা বলেছে কাতার এনার্জি। দেশে গ্যাসের জোগানে রাশ টানা শুরু করেছে গুজরাত গ্যাস-ও।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬ ০৮:১৬

—প্রতীকী চিত্র।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি তেলের সঙ্গে সঙ্গে চিন্তা বাড়াচ্ছে রান্নার গ‍্যাস (এলপিজি) থেকে গাড়ি, কল-কারখানায় ব্যবহারের গ্যাসের জোগান নিয়েও। ইরানের হামলার কারণে ‘কাতার এনার্জি’ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এর ফলে ভারত-সহ সারা বিশ্বে এই গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে দেশে বিভিন্ন সংস্থা সরবরাহ কমিয়েছে ৪০% পর্যন্ত। সরকারের তরফে চাহিদা মাফিক গ্যাসের জোগান নিয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে। দেশের বাজারে গ্যাস বুকিং-এর পরে ২-৩ দিনের মধ্যে তা পাওয়াও যাচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা, যুদ্ধের এই অবস্থা আরও দিন সাতেক বহাল থাকলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারে।

যুদ্ধের জেরে গত কয়েক দিন ধরে গ‍্যাস আনার জন‍্য কোনও জাহাজ পাঠানো সম্ভব হয়নি বলে বুধবার শেয়ার বাজারকে জানিয়েছে ভারতের সর্ববৃহৎ এলএনজি আমদানিকারী সংস্থা ‘পেট্রোনেট’। একই কথা বলেছে কাতার এনার্জি। দেশে গ্যাসের জোগানে রাশ টানা শুরু করেছে গুজরাত গ্যাস-ও। তথ্য বলছে, দেশে বছরে ২.৭ কোটি টন এলএনজি প্রয়োজন হয়। তার ৪০ শতাংশের বেশি সরবরাহ করে কাতারের সংস্থাটি। আবার সারা বিশ্বে যে পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ হয়, তার ২০%-২২% হয় ইরান ও ওমানের মধ্যের সমুদ্র প্রণালী হরমুজ দিয়ে। ফলে তা বন্ধ হলে ভারত-সহ গ্যাস আমদানিকারী সব দেশই সমস্যার মুখে পড়বে। সরবরাহ সঙ্কটের আশঙ্কায় এ দিন দেশের বাজারে পেট্রোনেটের শেয়ার দর ৯% পড়ে গিয়েছে।

সরকারি সূত্র অবশ্য জানাচ্ছে, ভারতে বর্তমানে ৩০ দিনের মতো এলপিজি মজুত রয়েছে। আর এলএনজি রয়েছে ২০ দিনের মতো। তবে সেই সংখ্যাটা কতটা ঠিক, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই পরিস্থিতিতে দেশের কাছে সমাধান সূত্র হতে পারে রাশিয়ার তেল ও গ‍্যাস। কারণ, হরমুজ বন্ধ থাকায় সে দেশটির বহু জাহাজ ভারতের আশপাশেই রয়েছে। সেখান থেকে যোগান বাড়ানো যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও বিশেষজ্ঞ সংস্থাগুলির একাংশ বলছে, দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা করা না গেলে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিকের দিকে না গেল টান পড়বে জোগানে। তা কী করে আটকানো যায়, চলছে সেই পথেরই খোঁজ।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Cooking Gas LPG Crude Oil Iran-Israel Situation West Asia

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy