বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা দানা বাঁধছে ইতিমধ্যেই। এ বার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ উঠে এল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক বয়ানেও।

মার্কিনদের তাঁর হুঁশিয়ারি, নির্বাচনে তিনি হেরে গেলে রসাতলে যাবে আমেরিকার অর্থনীতি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ ভাবে ভোট প্রচারে মন্দার ভয়কে কাজে লাগাতে চেয়েছেন ঠিকই, কিন্তু ঘনিষ্ঠ মহলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁর দেশের অর্থনীতির অবস্থা নিয়ে। তাঁর আশঙ্কা, যত দিনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঘণ্টা বাজবে, তত দিনে হয়তো গভীর সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে থাকবে মার্কিন অর্থনীতি।

বিশেষজ্ঞদেরও দাবি, আমেরিকার আকাশে মন্দার মেঘ জমাট বাঁধার লক্ষণ ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। তা সে বন্ড বাজারেই হোক বা কারখানায় উৎপাদন সঙ্কোচনে। চিন-মার্কিন শুল্ক যুদ্ধের জেরে ধাক্কা খেয়েছে চিনের অর্থনীতিও। ভারতের মতো শ্লথ হয়েছে তার বৃদ্ধির গতিও। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ধাক্কা খেয়েছে উৎপাদন। হাল খারাপ জার্মানি, ব্রিটেনেরও। এই দুই দেশেই জিডিপি কমেছে সরাসরি। এই ভয়কে পুঁজি করেই ট্রাম্পের দাবি, ভোটে জিতে তিনি ফিরলে আমেরিকা বাঁচবে। তাঁর কথায়, ‘‘তোমরা আমাকে ভালবাস বা ঘৃণা কর, আমাকে ভোট দিতে হবেই।’’

বিশ্ব অর্থনীতির ছবি

• ইইউ-তে এপ্রিল-জুনে বৃদ্ধি ০.২%। জুনে সঙ্কুচিত শিল্পোৎপাদনও (-১.৬%)।
• এপ্রিল-জুনে জার্মানিতে জিডিপি কমেছে ০.১%।
• ওই সময়ে ব্রিটেনের জিডিপি কমেছে ০.২%। ২০১২ সালের পরে প্রথম।
• শুল্ক-যুদ্ধের জেরে ধাক্কা খেয়েছে চিনের আর্থিক বৃদ্ধি। ১৭ বছরে সর্বনিম্ন শিল্প বৃদ্ধির হারও।
• টানা আট মাস কমার মুখে জাপানের রফতানি।
• জুলাইয়ে আমেরিকাতে কল-কারখানায় উৎপাদন কমেছে ০.৪%। শিল্প সঙ্কুচিত ০.২%।
• ট্রাম্পের দেশে টানা তিন মাস কমেছে বাড়ি তৈরি।
• আর্থিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে প্রায় এক দশক পরে সুদ কমিয়েছে মার্কিন শীর্ষ ব্যাঙ্ক ফেডারেল রিজার্ভ।
• ২০০৭ সালের পরে বুধবার এই প্রথম মার্কিন মুলুকে ২ বছরের সরকারি বন্ডের তুলনায় কমে গিয়েছিল ১০ বছর মেয়াদের বন্ডের প্রকৃত আয় (ইল্ড)। সাধারণত মন্দার আগে যা ঘটে।
• ভারতেও গত অর্থবর্ষে বৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে সাত শতাংশের নীচে (৬.৮%)।
• দেশের বাজারে চাহিদা নেই। ধুঁকছে গাড়ি শিল্প। ধাক্কা লেগেছে ভোগ্যপণ্যের বিক্রিবাটায়। নতুন কাজ তৈরি তো দূর, আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বহু লক্ষ ছাঁটাইয়ের।