Advertisement
E-Paper

ব্যাঙ্ক ধর্মঘটে বিপুল সাড়া, এটিএম বন্ধে নাকাল গ্রাহক

আইবকের সাধারণ সম্পাদক সৌম্য দত্ত জানান, ‘‘এ দিন ধর্মঘটে গ্রাহক এবং অন্যান্য শিল্পের সমর্থনও মিলেছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২১ ০৬:৩৭

দেশ জুড়ে দু’দিনব্যাপী ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের প্রথম দিনে বিপুল সাড়া মিলেছে, দাবি করল ব্যাঙ্ক শিল্পের ইউনিয়নগুলি। জানাল, এ রাজ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সব শাখা বন্ধ ছিল। কাজ হয়নি বেসরকারি এবং বিদেশি ব্যাঙ্কগুলির সিংহভাগ শাখাতেও। প্রায় একই ছবি দেখা গিয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। টাকা তোলা, জমা দেওয়া, পাঠানো, চেক ক্লিয়ারেন্স সব কিছুই ধাক্কা খেয়েছে। তবে রাজ্যের ৯০ শতাংশের মতো এটিএমের ঝাঁপ বন্ধ থাকায় চরম নাকাল হয়েছেন মানুষ। অনেকেরই অভিযোগ, প্রয়োজনের তাগিদে টাকা তুলতে দৌড়োদৌড়ি করতে হয়েছে শহর জুড়ে। হাতে গোনা কয়েকটি এটিএমের সামনে দেখা গিয়েছে লম্বা লাইন। তার উপরে সেই লাইনে বহু গ্রাহকের মাস্কহীন মুখ করোনা সংক্রমণ নিয়েও বাড়িয়েছে উদ্বেগ।

আমজনতার এমন ভোগান্তির জন্য মোদী সরকারকেই দুষেছে বিরোধী কংগ্রেস। ধর্মঘটী ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলির বার্তা, সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ককে বেসরকারি সংস্থার কাছে বেচে দিলে যে বহু কর্মী রুটি-রুজি হারাবেন এবং মানুষদের স্বার্থে কোপ পড়বে, সেটা এখন স্পষ্ট বলেই ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাকে নজিরবিহীন সাড়া মিলেছে সোমবার। মঙ্গলবারও মিলবে।

রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে অর্থপ্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর অবশ্য এ দিনই বলেছেন, বেসরকারি উদ্যোগপতিদের হাতে তুলে দেওয়া হলেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কর্মীরা চাকরি হারাবেন না। এখনকার মতোই সব সুবিধা পাবেন। তাঁর দাবি, ‘‘ব্যাঙ্ক বিক্রির সময় ক্রেতা এবং সরকারের মধ্যে যে চুক্তি হবে, তাতেই পুরো বিষয়টি উল্লেখ থাকবে।’’ তবে ইউনিয়নগুলির তোপ, মন্ত্রীর কথায় চিঁড়ে ভিজবে না। বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে না-এলে আরও বড় আন্দোলন দেখবে সরকার। কংগ্রেস নেতা রণদীপ সিংহ সূরজেওয়ালা বলেন, ‘‘রাজকোষ ভরাতে কেন্দ্র ব্যাঙ্ক-সহ বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে লাগামছাড়া ভাবে বেসরকারি ক্ষেত্রের হাতে তুলে দিতে চাইছে। এর প্রতিবাদে ব্যাঙ্কের ১০ লক্ষ কর্মীর এই ধর্মঘটের পাশে রয়েছে কংগ্রেস।’’

ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দু’দিনের এই ধর্মঘট ডেকেছে এই শিল্পের কর্মী এবং অফিসারদের ন’টি ইউনিয়নের যৌথ মঞ্চ ইউনাটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন্স। মঞ্চের আহ্বায়ক গৌতম নিয়োগী এবং ব্যাঙ্ক কর্মীদের সংগঠন এআইবিইএর সভাপতি রাজেন নাগরের দাবি, দেশে ব্যাঙ্কের কর্মী-অফিসাররা ধর্মঘটে যে রকম স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে যোগ দিয়েছেন, তা আগে দেখা যায়নি। রাজ্যে ব্যাঙ্কের শাখাগুলির পাশাপাশি ৯০ শতাংশের মতো এটিএম বন্ধ ছিল। হাসপাতাল-সহ কিছু অত্যাবশ্যক ক্ষেত্রের এটিএমকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।’’

আইবকের সাধারণ সম্পাদক সৌম্য দত্ত জানান, ‘‘এ দিন ধর্মঘটে গ্রাহক এবং অন্যান্য শিল্পের সমর্থনও মিলেছে। এই আন্দোলনের প্রভাব আসন্ন বিধানসভা ভোটে পড়বে।’’ সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক সঞ্জয় দাসের দাবি, ধর্মঘটীদের পাশে দাঁড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সংগঠন-সহ অন্যান্য ক্ষেত্রের অনেক ইউনিয়ন। এ দিন কলকাতায় ব্যাঙ্ক কর্মীদের মিছিলে তাদের সদস্যরাও পা মেলান।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy