গরমের সময়ে বা চাষের মরসুমে বহু জায়গায় হঠাৎই বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায়। তখন চাপ সামলাতে না পেরে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের ট্রান্সফর্মার প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ে। বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ। সূত্রের খবর, এর রক্ষাকবচ হিসেবেই ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থা চালু করতে চাইছে রাজ্য। এই ব্যবস্থায় ব্যাটারিতে সঞ্চিত বিদ্যুৎ গ্রিডে (৪১৫ ভোল্টের লো টেনশন লাইনে) দেওয়া হয়। প্রকল্পটি নিয়ে হাতেকলমে কাজ শুরু করতে চলেছে রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা। 

প্রকল্পটি চালু হলে, সে ক্ষেত্রে নতুন ব্যাটারিগুলি থেকে সরাসরি গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে। মিটবে চাহিদা। শুধু তা-ই নয়, লো-ভোল্টেজের সমস্যা থাকলেও ব্যাটারির বিদ্যুতের মাধ্যমে কিছু সময়ের জন্য সামাল দেওয়ার ভাবনা রয়েছে রাজ্যের।

এক বিদ্যুৎ কর্তার দাবি, চাহিদা কখন বাড়বে অনেক সময়েই তা চট করে বোঝা যায় না। আবার এমনও অনেক জায়গা আছে, যেখানে একটি ট্রান্সফর্মারের মাধ্যমে অনেক দূর পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। লাইন ছোট করে অতিরিক্ত ট্রান্সফর্মার বসানোরও উপায় থাকে না। এই সমস্ত ক্ষেত্রে ট্রান্সফর্মারের পাশে ব্যাটারি স্টোরেজ প্রকল্পগুলি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে ওই কর্তা জানিয়েছেন।

দিনের কোনও সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেলে পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাটারি থেকে বিদ্যুৎ চলে যাবে গ্রিডে। ট্রান্সফর্মারের উপরে চাপ বেড়ে যান্ত্রিক ত্রুটি হবে না। সূত্রের খবর, ব্যবস্থাটি ধাপে ধাপে জেলাস্তরে গড়ে তুলতে চাইছে রাজ্য। 

এই পরিকল্পনায় প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করছে দ্য এনার্জি রিসোর্স ইন্সটিটিউট (টেরি)। প্রাথমিক ভাবে কোথায় প্রকল্পগুলি গড়া হবে তা চিহ্নিত হয়েছে। ব্যাটারি স্টোরেজের ক্ষমতা হবে ঘণ্টায় ২৫০-১,০০০ কিলোওয়াট। প্রকল্পগুলি কতটা লাভজনক হতে পারে, সে ব্যাপারে সমীক্ষা চালিয়ে রাজ্যকে রিপোর্ট দেবে টেরি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এই উদ্যোগ সফল হলে পশ্চিমবঙ্গই হবে প্রথম রাজ্য যেখানে রাজ্যের গ্রিডের সঙ্গে ব্যাটারি বিদ্যুতের সংযোগ স্থাপন হবে।