কর্মজীবন শেষ হয়েছে গত বছরের (পড়ুন ২০২৫ সাল) ৩১ ডিসেম্বর। ওই তারিখে অবসর নেওয়া কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের ইতিমধ্যেই পেনশনের তালিকায় উঠেছে নাম। কিন্তু, তাঁদের মনেই এ-বার অষ্টম বেতন কমিশনকে কেন্দ্র করে দানা বাঁধছে সন্দেহ। নতুন নিয়মে আগামী দিনে সংশোধিত পেনশন পাবেন তাঁরা? নাকি তাঁদের ব্রাত্য রাখবে কমিশন? এই সমস্ত প্রশ্নে দিন দিন দেশ জুড়ে তীব্র হচ্ছে জল্পনা।
সম্প্রতি, এই ইস্যুতে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধরী। তাঁর কথায়, ‘‘অষ্টম বেতন কমিশনকে কর্মচারীদের মাস মাইনে, ভাতা ও পেনশনের ব্যাপারে সুপারিশ করতে বলা হয়েছে। সেই রিপোর্ট হাতে পেলে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’ অর্থাৎ অবসরপ্রাপ্তরা যে সংশোধিত পেনশনের সুবিধা পাবেন, তা একরকম স্পষ্ট করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তবে কোনও সুনির্দিষ্ট তারিখের উল্লেখ করেননি তিনি।
বর্তমানে মূলত দু’টি আইনের উপর ভিত্তি করে অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন ঠিক করে থাকে কেন্দ্র। সেগুলি হল ২০২১ সালের কেন্দ্রীয় সিভিল সার্ভিসেস (পেনশন) এবং ২০২৩ সালের কেন্দ্রীয় সিভিল সার্ভিসেস (এক্সাঅর্ডিনারি পেনশন) বিধিমালা। ফলে আগামী দিনে অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ মেনে সংশোধিত পেনশন চালু করতে হলে নতুন করে দিতে হবে বিজ্ঞপ্তি। অপ্রত্যক্ষ ভাবে এ ব্যাপারে কিছুই করতে পারবে না সরকার।
গত বছর অর্থ আইন, ২০২৫ চালু করে কেন্দ্র। পঙ্কজ চৌধরীর কথায়, ‘‘এর চতুর্থ অংশে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের পেনশনের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। বর্তমানে যে নিয়মে প্রতিরক্ষা এবং অন্য পেনশনগুলি দেওয়া হচ্ছে, তার কোনও রকম বদল করেনি সরকার।’’ আর তাই পেনশনভোগীদের অযথা এই নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশে কী হারে বাড়তে পারে বেতন? কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের কাছেই সেই কথা জানতে চেয়েছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। সেই লক্ষ্যে চালু করা হয়েছে ওয়েবসাইট। সেখানে ঢুকে নিজের মতামত জানাতে পারবেন তাঁরা। পাশাপাশি, বর্ধিত পেনশনের ব্যাপারে পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ পাবেন অবসরপ্রাপ্তেরাও। চলতি বছরের ১৬ মার্চ পর্যন্ত এই ব্যবস্থা চালু থাকবে বলে জারি হয়েছে বিজ্ঞপ্তি।
গত বছরের (পড়ুন ২০২৫ সাল) ৩ নভেম্বর অষ্টম বেতন কমিশন গঠন করে কেন্দ্র। ইতিমধ্যেই সংসদকে তার ‘টার্মস অফ রেফারেন্স’ (টিওআর) বা কমিশন গঠনের শর্তাবলি জানিয়েছে সরকার। সংশোধিত বেতন ও পেনশনের ব্যাপারে সুপারিশ করতে ১৮ মাস সময় পাবে তারা। ফলে আগামী বছর এটি চালু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।