স্বপ্নের বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনা হয়ে গেলে হাতে চলে আসে দলিল। অনেকেই মনে করেন, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিটির মালিকানার সেটাই চূড়ান্ত নথি। এ দেশের আইন কিন্তু একেবারে অন্য কথা বলছে। বাড়ি বা ফ্ল্যাটের বৈধ মালিকানা পেতে সরকারি রেকর্ডে থাকতে হবে নাম। তার জন্য স্থানীয় পুর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগযোগের পরামর্শ দিচ্ছেন প্রশাসনিক কর্তা-ব্যক্তিরা।
বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার পর তার দলিল হাতে পেলেও বহু ক্ষেত্রে দেখা যায় পুরসভা বা পুরনিগমের রাজস্ব বিভাগের খাতায় সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিক হিসাবে পূর্ববর্তী ব্যক্তির নাম রয়ে গিয়েছে। আর তাই নিয়ম অনুযায়ী, কেনাকাটার প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেলে পুর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে মালিকানা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি নিশ্চিত করতে হবে। একেই বলা হয় মিউটেশন।
সম্পত্তির মিউটেশন হয়ে গেলেই নতুন মালিকের নাম নথিভুক্ত করে ফেলবে ভূমি রাজস্ব বিভাগ। পরবর্তী পর্যায়ে বৈধ মালিক হিসাবে তাঁকেই দিতে হবে কর। একটি উদাহরণের সাহায্যে বিষয়টি বুঝে নেওয়া যেতে পারে। ধরা যাক কোনও একজন ব্যক্তি একটি বাড়ি কিনলেন। দলিল হাতে পাওয়ার পর ওই সম্পত্তি মিউটেশন করাতে হবে তাঁকে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলে পুরোপুরি ভাবে তাঁর নামে হবে ওই সম্পত্তির মালিকানা।
সম্পত্তির মিউটেশন আবার দাখিল-খারিজ নামেও পরিচিত। সেই নথি হাতে পেলে পুর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির উপর কর নির্ধারণ করতে পারবে। অর্থাৎ, মিউটেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বাড়ির মালিককে দু’টি কর দিতে হবে। একটি হল জমির উপর কর, যা নেবে ভূমি রাজস্ব বিভাগ। অপরটি বাড়ি বা ফ্ল্যাটের কর, যা পুর কর্তৃপক্ষের কাছে জমা করতে হবে তাঁকে।
সম্পত্তির মিউটেশনের প্রক্রিয়া বেশ সরল। এর জন্য বাড়ি বা ফ্ল্যাটের ক্রেতাকে একটি আবেদনপত্র জমা করতে হয়। তার সঙ্গে দিতে হবে কোর্ট ফি স্ট্যাম্প। এ ছাড়া ভূমি রাজস্ব বিভাগ এর জন্য আরও কিছু নথি চাইতে পারে। সম্পত্তিভেদে সেটা ঠিক করবেন ওই দফতরের কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিক। গোটা প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে ১৫ থেকে ৩০ দিন সময় লাগতে পারে।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, জমির উপর কর এড়াতে অনেকেই বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার পর তার মিউটেশন করাতে চান না। এর জন্য কিন্তু সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে তাঁকে। তা ছাড়া সম্পত্তির জালিয়াতি থেকে প্রকৃত মালিককে রক্ষা করে মিউটেশনের নথি, বলছেন প্রশাসনিক কর্তা-ব্যক্তিরা।