দেশে দীর্ঘ সাত দফার ভোট পর্ব শেষ হয়েছে রবিবার। আর তা মিটতেই সোমবার থেকে পর পর দু’দিন বাড়ল পেট্রল-ডিজেলের দর। ভোট পর্বে কোনও কোনও দিন ওই দুই জ্বালানির দর বাড়লেও অনেক দিনই আবার তা অপরিবর্তিত থেকেছে। অথবা কমেছে। গুজরাত, কর্নাটকের মতো কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা ভোটের অতীতের অভিজ্ঞতার নিরিখে বিরোধী দলের পাশাপাশি পাম্প মালিকদের অনেকের আশঙ্কা, ভোট মিটে যাওয়ায় এ বার ফের চড়তে পারে তেলের দর।

ইন্ডিয়ান অয়েল (আইওসি) সূত্রের খবর, কলকাতায় আজ, মঙ্গলবার পেট্রল ও ডিজেলের দর সোমবারের তুলনায় লিটার পিছু যথাক্রমে ৫ ও ১০ পয়সা বেড়ে হচ্ছে ৭৩.২৪ টাকা ও ৬৭.৯৬ টাকা। সোমবার তা বেড়েছিল যথাক্রমে ৮ ও ১৫ পয়সা। এর আগে গত ৪ মে শেষ বার একই সঙ্গে দুই জ্বালানির দাম বেড়েছিল।

লোকসভার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছিল গত ১১ এপ্রিল। ১২, ১৪, ২৫ এবং ৩০ এপ্রিলও দু’টি জ্বালানির দাম একসঙ্গে বেড়েছিল। তবে ৯ মে থেকে  ছ’দিনে পেট্রল ও ডিজেল লিটারে মোট যথাক্রমে ১.৬৩ টাকা ও ৭১ পয়সা কমে।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

তেলের দরের ওঠানামার হিসেব জটিল। অশোধিত তেলের দর, বিশ্ব বাজারে পেট্রল-ডিজেলের দর, ডলারের সাপেক্ষে টাকার দামের মতো অনেকগুলি বিষয়ের উপর তা নির্ভর করে। কিন্তু তার পরেও গুজরাত ও কর্নাটকের ভোটের কথা মনে করিয়ে দেশের বাজারে তেলের দর নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধীরা। তাঁদের অভিযোগ, ওই দুই রাজ্যের ভোটের সময়ে তেলের দাম বাড়ায়নি সংস্থাগুলি। কিন্তু ভোট মিটতেই চড়চড় করে তা বাড়তে থাকে। লোকসভা নির্বাচনের সময়েও বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দর ঊর্ধ্বমুখী ছিল। কিন্তু ভারতে পেট্রল-ডিজেলের দাম সে ভাবে বাড়েনি। বিরোধীদের ব্যাখ্যা, ভোটের মরসুমে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এড়াতে তেল সংস্থাগুলিকে দাম না বাড়াতে কার্যত নির্দেশ দেয়
মোদী সরকার।

একই অভিযোগ, ওয়েস্ট বেঙ্গল পেট্রলিয়াম ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট তুষার সেনের। তাঁর আশঙ্কা, এ বার ধাপে ধাপে কিছু দিনেই বেশ কিছুটা বাড়তে পারে পেট্রল-ডিজেলের দাম।

ভোটের সময় দাম কমিয়ে রাখার অভিযোগ অবশ্য কখনওই মানেনি কেন্দ্র বা তেল সংস্থাগুলি। বরং তেল সংস্থা সূত্রের দাবি, বিশ্ব বাজারের তেলের দরের প্রভাব দেশের বাজারে পড়তে সপ্তাহ দুয়েক সময় লাগে। পাশাপাশি মাঝে ডলারের সাপেক্ষে বেড়েছিল টাকার দাম। ফলে আমদানি খরচও কম ছিল।