চটকল মালিকদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগ আনল প্রতিযোগিতা কমিশন। যার মধ্যে রয়েছে বাজারে প্রতিযোগিতা আটকাতে নিজেদের মধ্যে একজোট হয়ে ষড়যন্ত্র করা, চটের বস্তার দাম কৃত্রিম ভাবে বাড়ানো ইত্যাদি।
১৯৮৭-তে প্রধানমন্ত্রী রাজীব গাঁধীর আমলে খাদ্যশস্য ও চিনি ভরার জন্য চটের বস্তার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে আইন জারি হয়। মূলত পশ্চিমবঙ্গে পাট শিল্পের দুর্দশা কাটানোই ছিল যার উদ্দেশ্য। কিন্তু তারই সুযোগ নিয়ে এ রাজ্যের চটকল মালিকেরা কী ভাবে অনৈতিক ও বেআইনি কাজকর্ম চালিয়ে গিয়েছেন, সেই বিষয়ের তদন্ত করে এ বার রিপোর্ট জমা দিয়েছে কমিশন।
তিন খণ্ডে প্রায় ৭,০০০ শব্দের এই রিপোর্ট তৈরি হয়েছে দীর্ঘ তিন বছর তদন্তের পর। জানুয়ারিতে তা বস্ত্র মন্ত্রকে জমা দেন কমিশনের ডিরেক্টর জেনারেল এল রাজশেখর রেড্ডি। সেখানে অভিযোগ মূলত দু’টি সংগঠনের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়ান জুট মিল্স অ্যাসোসিয়েশন (আইজেএমএ), গানি ট্রেডস অ্যাসোসিয়েশন (জিটিএ)।
আইজেএমএ-র চেয়ারম্যান রাঘব গুপ্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমরা বক্তব্য জানিয়েছি। বলেছি সব অভিযোগ মিথ্যা। সবটাই চিনিকল লবির অভিযোগকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে।” অভিযুক্ত সংগঠনের বক্তব্য, “চিনিকল ব্যবসায়ীরা ১৯৮৭-র আইন ভাঙছেন বহুদিন ধরেই। ইউপিএ সরকারের এক বরিষ্ঠ মন্ত্রীর অঙ্গুলি হেলনেই তাঁরা বছরের পর বছর আইনবিরোধী কাজ করেও পার পেয়ে আসছে।” এ নিয়ে চটকল ব্যবসায়ীদের তরফে ভারতীয় জনতা পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।