প্রায় মাস দেড়েক ধরে ডায়রিয়ায় ভুগছিলেন বছর সত্তরের এক বৃদ্ধা। মলের সঙ্গে অনবরত রক্ত বেরোচ্ছিল তাঁর। অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছিল না। শনিবার দক্ষিণ শহরতলির এক লিভার চিকিৎসার হাসপাতালে প্রায় মরণাপন্ন ওই রোগীর শরীরে ‘ফিকাল মাইক্রোবায়োটা ট্রান্সপ্লান্ট’ হল।

রোগীর পরিবার সূত্রের খবর, নমিতা মজুমদার নভেম্বরে গুরুতর ডায়রিয়ার সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। অ্যান্টিবায়োটিকেও কাজ না হলে বিভিন্ন পরীক্ষায় ধরা পড়ে তাঁর কোলনে এক ধরণের ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া রয়েছে। গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট অভিজিৎ চৌধুরী বলেন, ‘‘রোগীর কোলনে ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া ক্লসট্রিডিয়াম ডিফিসিল খাদ্যনালীতে আলসার করেছিল। ওই ব্যাক্টেরিয়া মারতে তাই ভাল ব্যাক্টেরিয়া পাঠানো হল।’’

কী ভাবে? চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা, প্রত্যেক মানুষের শরীরেই ভাল এবং খারাপ ব্যাক্টেরিয়া থাকে। যাঁরা সুস্থ, তাঁদের শরীরে ভাল ব্যাক্টেরিয়া বেশি। অসুস্থদের ক্ষেত্রে এর ঠিক বিপরীত পরিস্থিতি হয়। যখন কোনও ডায়রিয়ার রোগী ওষুধে সাড়া দেন না, তখন সুস্থ ব্যক্তিকে দাতা হিসেবে বেছে তাঁর মল পরীক্ষা করে দেখা হয় কোনও সংক্রমণ আছে কি না। তা না থাকলে বিশেষ প্রক্রিয়ায় মল গ্রহণযোগ্য করে এন্ডোস্কোপি এবং কোলোনোস্কোপির মাধ্যমে রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়।

ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব লিভার অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ সায়েন্সেসে চিকিৎসাধীন নমিতাদেবীর ডায়রিয়া কমল কি না তা দেখা হবে ৭২ ঘণ্টা পরে। গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট সৃজন মজুমদার বলেন, ‘‘দু-তিন সপ্তাহ বাদে কোলোনোস্কোপি করে দেখা হবে নমিতাদেবীর শরীরে প্রতিস্থাপিত ভাল ব্যাক্টেরিয়ার প্রভাবে আলসার কমানো গিয়েছে কি না।’’