E-Paper

বেপরোয়া মিনিবাসে উঠতে গিয়ে পড়ে মাথায় চোট, মৃত্যু যুবকের

দেবেন্দ্রচন্দ্র দে রোড এমনিতেই একটি সঙ্কীর্ণ রাস্তা। গাড়ির চাপও ভালই থাকে। ওমরের পরিবারের অভিযোগ, ওই সঙ্কীর্ণ রাস্তা ধরে তীব্র গতিতে চলছিল মিনিবাসটি। ওমর বাসে ওঠার জন্য দরজার পাশের হাতল ধরেছিলেন। কিন্তু বাসটি না থামায় তিনি ভারসাম্য হারিয়ে রাস্তায় পড়ে যান।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৫:২৮
ওমর আলি গাজি।

ওমর আলি গাজি। — ফাইল চিত্র।

শহরে ফের গতির বলি হলেন এক যুবক। এ বার ঘটনাস্থল ট্যাংরা থানা এলাকার দেবেন্দ্রচন্দ্র দে রোড। সেখানে শুক্রবার সন্ধ্যায়মিনিবাসের বেপরোয়া গতির জেরে মৃত্যু হয়েছে ওমর আলি গাজির (৪১)। পুলিশ জানিয়েছে, বেপরোয়া ভাবে চলছিল মিনিবাসটি। ওই বাসে উঠতে গিয়ে ভারসাম্য রাখতে নাপেরে পড়ে যান ওমর। রাস্তায় পড়ে মাথায় আঘাত পান তিনি। ওমরকে উদ্ধার করে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। পুলিশ এখনও পর্যন্ত ওই মিনিবাসের নাগাল পায়নি। যদিও মৃতের পরিবার জানিয়েছে, বাসের নম্বর তাদের কাছে রয়েছে। বাসটির বিরুদ্ধে মামলা করবেন পরিজনেরা। বাসটি ট্যাংরা থেকে হাওড়া রুটে চলে বলে দাবি মৃতের পরিবারের।

দেবেন্দ্রচন্দ্র দে রোড এমনিতেই একটি সঙ্কীর্ণ রাস্তা। গাড়ির চাপও ভালই থাকে। ওমরের পরিবারের অভিযোগ, ওই সঙ্কীর্ণ রাস্তা ধরে তীব্র গতিতে চলছিল মিনিবাসটি। ওমর বাসে ওঠার জন্য দরজার পাশের হাতল ধরেছিলেন। কিন্তু বাসটি না থামায় তিনি ভারসাম্য হারিয়ে রাস্তায় পড়ে যান। মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। এমনকি, বাসের চাকা ওমরের পায়ের উপর দিয়ে চলে যায় বলেও অভিযোগ মৃতের পরিজন ও প্রতিবেশীদের।

ওমরের বাড়ি ৬৬ নম্বর দেবেন্দ্রচন্দ্র দে রোডে। দুর্ঘটনাস্থলের কাছেই। পরিজনেরা জানান, বাড়ি থেকে বেরিয়েই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন ওমর। কাজে যাওয়ার তাড়া ছিল তাঁর। তাই বাসে চাপতে গিয়েছিলেন। কিন্তু চালক বাস না থামানোয় দুর্ঘটনা ঘটে।

শনিবার ওমরের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, প্রত্যক্ষদর্শীরা বাসটিকে ছেড়ে দেওয়ায় প্রতিবেশীরা আফসোস করছেন। ওমর ছিলেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে। দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের কাজ করতেন তিনি। তাঁর এক ভাই আগে মারা গিয়েছেন। মা, দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে থাকতেন ওমর। বৃদ্ধা মা হাসিনা বিবি বললেন, ‘‘আমার দুই ছেলেই চলে গেল। আমি কাকে নিয়ে থাকব? আমাদের দেখবে কে?’’

স্থানীয়েরা জানান, ওমর জখম হওয়ার পরে মিনিবাসটিকে ধরে ফেলা হয়েছিল। কিন্তু বাসের চালক তাঁর মালিকের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। ভিতরে থাকা যাত্রীরাও বাসের নম্বর রেখে দিয়ে সেটিকে ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন। ওমরের এক আত্মীয়ার কথায়, ‘‘বাসের চালক জানিয়েছিলেন, মালিককে নিয়ে আসবেন। কিন্তু সেই যে বাসটি চলে গেল, আর সেটির কোনও হদিস নেই। আমরা পুলিশে অভিযোগ করেছি। মামলা করা হবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Mini Bus Accidental Death Bus Accident

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy