• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বিদ্যুৎ নিয়ে বিক্ষোভে রণক্ষেত্র মেটিয়াবুরুজ, মাথা ফাটল বিধায়কের

Agitation
বিদ্যুৎ নিয়ে বিক্ষোভের পর নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা পুলিশের। মঙ্গলবার মেটিয়াবুরুজে। —নিজস্ব চিত্র

ছ’দিন পার, এখনও আগের অবস্থায় ফেরেনি দক্ষিণ কলকাতার বহু এলাকা। জল-বিদ্যুতের দাবিতে বিভিন্ন জায়গায় দফায় দফায় চলছে বিক্ষোভ-অবরোধ। রাস্তা থেকে গাছ সরানো হয়েছে অনেক জায়গায়, তবে বহু এলাকা আগের মতোই বিদ্যুৎহীন। বিদ্যুৎ না থাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল মেটিয়াবুরুজ এলাকায়। মাথা ফাটল এলাকার বিধায়ক আবদুল খালেদ মোল্লার। আমপানের তাণ্ডবের পর থেকেই ওই এলাকা বিদ্যুৎহীন। তা নিয়ে মাঝেমধ্যেই ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়াচ্ছিল। মঙ্গলবার তা চরম আকার নেয়। এ দিন মেটিয়াবুরুজের কাঞ্চনতলা এলাকায় পৌঁছন বিধায়ক আবদুল খালেদ মোল্লা। তারপরেই শুরু হয় ব্যাপক ইটবৃষ্টি। মাথা ফাটে বিধায়কের। বন্দর এলাকার চার-পাঁচটি থানার পুলিশ। ঘটনাস্থলে যান পদস্থ পুলিশ কর্তারাও। এখনও ওই এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে।  একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বিধায়ককে।

মেটিয়াবুরুজের মতো শহর কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তেই চলছে বিক্ষোভ, অবরোধ, অশান্তি। চরম নাকাল হচ্ছেন পুর বাসিন্দারা। বহুতলে বালতি করে জল তুলতে হচ্ছে। অভিযোগ, এই অসহায়তার সুযোগ নিয়ে একাংশের ব্যবসায়ী মুনাফা লুটতে ময়দানে নেমে পড়েছেন। জলের চাহিদা মেটাতে জেনারেটরের চাহিদাও এখন তুঙ্গে। এবং জেনারেটর ভাড়া করতে হাতে ছ্যাঁকা লাগার জোগাড়।

মঙ্গলবারের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সিইএসসি কর্তৃপক্ষ। আমপান (প্রকৃত উচ্চারণ উম পুন) আছড়ে পড়ার পর ছ’দিন হয়ে গেলেও দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় এখন বিদ্যুৎ ফেরেনি। ধৈর্যের বাধ ভেঙেছে বাসিন্দাদের। করোনা-আশঙ্কা ভুলে তাই রাস্তায় অবরোধে সামিল হচ্ছেন শহরবাসী।

গত কয়েক দিনের মতো এ দিনও বেহালা, বাঘাযতীন, গড়িয়া, নেতাজিনগর, টালিগঞ্জের একাংশে বিদ্যুৎ না আসায় চলছে বিক্ষোভ। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ‘‘এটা সিইএসসি-র কাজ। আমাদের নয়। প্রাক্তন কাউন্সিলরদের দেখা নেই। বয়স্ক থেকে রোগীরা সব থেকে বেশি সমস্যায় পড়়েছেন।’’ গড়িয়ার পুতুল পার্কের কাছে জল-বিদ্যুতের দাবিতে চলছে বিক্ষোভ। গরফার আশুতোষ পল্লিতেও একই অবস্থা। কবে আলো-পাখা চলবে, তার কোনও প্রতিশ্রুতি নেই সিইএসসি-এর তরফে। বেহালার সেনআটি, শকুন্তলা পার্ক, শিবরামপুর, কালীপুর, পর্ণশ্রী, সরশুনায় গত ছ’দিন ধরে বিদ্যুৎহীন। এমনকি, শিবরামপুরের হাসপাতালও বিদ্যুৎহীন।

আরও পড়ুন: হাওড়া, কলকাতা সচল হতেই শিকেয় দূরত্ব বিধি, বাড়ছে করোনা শঙ্কা

লকডাউনের কারণে ঘরে বসে সরশুনার বাসিন্দা শঙ্কর সেন। কাজ নেই। বিদ্যুৎ না থাকায় বউ-মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন শঙ্কর। তাঁর কথায়: “জেনারেটরম্যানের হাতে-পায়ে ধরে এই ক’দিন ধরে হাজার টাকা দিয়ে এক ট্যাঙ্ক করে জল কিনেছি। কবে আসবে ইলেকট্রিক। কেউ বলতে পারছেন না।” পাড়ার লোকজন নিয়ে সরশুনা থানায় গিয়েছিলেন, তারা কোনও কথা শোনেনি বলে অভিযোগ। বেহালার বহু এলাকাতেই একই অবস্থা। বেহালার কালীপুরেও একই ছবি। টাকা দিলেও পাওয়া যাচ্ছে না জেনারেটরম্যানকে। যাদবপুর, গরফা, সেনআটিতে চরম জলসঙ্কট শুরু হয়েছে। পুরসভার জলের গাড়িও এলাকায় পৌঁছচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁদের। গত কয়েক দিন ধরেই জলের জন্যে হাহাকার করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ ওই সব এলাকার বাসিন্দাদের। পাড়ায় টিউবওয়েল থাকলেও তা হাতে গোনা। সেখানেও লম্বা লাইন।

আরও পড়ুন: করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই উদ্বেগ বাড়িয়ে পঙ্গপালের হানা পাঁচ রাজ্যে

অনেক এলাকায় গাছ পড়ে রয়েছে। তার একাংশ কেটে রাস্তায় গাড়ি চলাচলের মতো জায়গা করেছে পুরসভা। তবে সম্পূর্ণ রূপে রাস্তা থেকে গাছ সরানো সম্ভব হয়নি। উল্টোডাঙা থেকে সল্টলেকেরও বহু এলাকায় একই অবস্থা। পুরসভার কর্মীদের সঙ্গে সেনাও রাস্তায় গাছ সরানোর কাজে হাত লাগিয়েছেন। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, কলকাতা পুলিশ, দমকল কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন। কিন্তু কেন এত দিন সময় লাগছে, তার কোনও সদুত্তর নেই পুলিশ-প্রশাসনের কাছে। কলকাতা পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম, এই বিদ্যুৎহীন পরিস্থিতির জন্যে সিইএসসি-কেই দুষছেন। এর সঙ্গে পুরসভার কোনও যোগ নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। আমপানের তাণ্ডবে শহরে সাড়ে পাঁচ হাজার গাছ পড়েছে। তার অধিকাংশই সরানো গিয়েছে। বিদ্যুৎহীন এলাকায় যাতে দ্রুত আলো ফিরে আসে, তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন ফিরহাদ হাকিম।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন