হুগলি নদীর উপর হাওড়া ও কলকাতার সংযোগকারী হিসাবে প্রথমে ১৮৭০ নাগাদ তৈরি হয় পনটুন ব্রিজ, পরে ১৯৩৬-৪২ পর্বে ক্যান্টিলিভার ব্রিজে পরিবর্তিত হয়ে জন্ম নেয় ‘নিউ হাওড়া ব্রিজ’— যা তার পরের বছর ৩ ফেব্রুয়ারি কোনও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ছাড়াই জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। ব্রিটিশদের আতঙ্ক ছিল পাছে জাপানি যুদ্ধবিমান আক্রমণ করে তাই এই পন্থা। সেই সময়ে ব্রিজ তৈরিতে ২৬,৫০০ টন স্টিল জোগান দিয়েছিল ‘টাটা স্টিল’, নির্মাণ করেছিল ব্রেথওয়েট, বার্ন অ্যান্ড জেসপ। কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাবেক্ষণে তৎকালীন বিশ্বের তৃতীয়, বর্তমানে ষষ্ঠ ক্যান্টিলিভার ব্রিজে ১৯৪৬ লোকগণনায় যেখানে প্রত্যহ যান চলাচল ছিল ২৭,৪০০ ও এক লক্ষ কুড়ি হাজার মানুষ যাতায়াত করতেন, সেখানে বর্তমানে লক্ষাধিক যানবাহন ও দেড় লক্ষাধিক মানুষের নিত্য যাতায়াত। ১৯৬৫-র ১৪ জুন হাওড়া ব্রিজের নতুন নামকরণ হয় ‘রবীন্দ্র সেতু’। সেতুতে ট্রাম চলাচলের পঞ্চাশ বর্ষপূর্তির বছরে সেতুকে অতিরিক্ত চাপমুক্ত করতে ১৯৯৩-এ পাকাপাকি ভাবে ট্রাম লাইন তুলে ফেলা হয়। ২০০৬-এ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য আলোকিত ব্রিজের এলিট ক্লাবে অন্তর্ভুক্তির কারণে লন্ডন ব্রিজ ও সিডনি হারবার ব্রিজের সঙ্গে উচ্চারিত হয় এই ব্রিজের নাম। ২০১৪-তে সিসাবিহীন ২৬ হাজার লিটার রঙে সাত মাস সময়ে রঞ্জিত হয়ে তা অন্য মাত্রা পায়। ২০১৮-য় এল ই ডি প্রযুক্তির আলোয় আরও মোহময় রূপ নেওয়া সেতুর ৭৫ বছর উপলক্ষে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল, টাটা স্টিল ও কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের উদ্যোগে হল ‘হাওড়া ব্রিজের ৭৫ বর্ষ’ পালন অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনী (চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত)। কলকাতার দুই আইকন হাওড়া ব্রিজ ও ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল। তাদের এহেন সম্মিলনে আয়োজিত প্রদর্শনীতে সংক্ষিপ্ত তথ্যসহ অল্প কয়েকটা ছবি বিস্ময় জাগায়।

 

প্রয়াণ

১৯৮১-তে কর্মসূত্রে বীরভূমে তিলপাড়া ব্যারেজের কাছে ডেরা বাঁধতে হয়েছিল মণীন্দ্র গুপ্তকে, আর তাতেই লেখা হয়ে উঠেছিল তাঁর আশ্চর্য স্মৃতিকথা অক্ষয় মালবেরী-র প্রথম পর্ব। এর পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্ব জুড়েও সেই অখণ্ড অনুভূতিময় স্মৃতিগদ্য। পাশাপাশি একের পর এক প্রবন্ধসংকলন চাঁদের ওপিঠে, পরবাসী, কুড়ানী ও দারুমাসান, জনমানুষ ও বনমানুষ-এর গদ্যে অন্তর্মুখী ঋজুতার সঙ্গে সকৌতুক উষ্ণতার বিরল সমাহার। কবিতাগ্রন্থাদির মধ্যে টুংটাং শব্দ নিঃশব্দ রবীন্দ্রপুরস্কার ও বনে আজ কনচের্টো সাহিত্য অকাদেমি সম্মানে ভূষিত। শিল্পীর জীবন নিয়ে লিখেছেন রং কাঁকর রামকিঙ্কর। সাম্প্রতিক দুটি উপন্যাস নুড়ি বাঁদর ও নেংটি। ছবিও আঁকতেন তিনি। বরিশালের গৈলা গ্রামে জন্মানো (১৯২৬) মানুষটির পরবর্তী জীবন কেটেছে শিলচর ও কলকাতায়। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ছিলেন, যুদ্ধশেষে কলকাতায় ফিরে যন্ত্র-নকশার শিক্ষক হন। চলে গেলেন নিঃশব্দে। স্মরণ ৫ মার্চ সন্ধ্যা ৬টায় মহাবোধি সোসাইটি হলে, ‘আদম’ পত্রিকার উদ্যোগে, তাঁকে নিয়ে পত্রিকাটির একটি স্মারক-সংখ্যাও প্রকাশ পাবে।

 

কথকতা

আসিফ খান দেহলভি। পেশা গল্প বলা। হারিয়ে যাওয়া দিনের, গঙ্গা-যমুনা তেহজিবের কিস্সা বলেন তিনি। আদিম পুরাণকথকের পেশা কেন বেছে নিয়েছেন, এর জবাবে দিল্লি ক্যারাভানের প্রতিষ্ঠাতা, ইতিহাসের ছাত্র, আপাদমস্তক সুফি-ঘরানায় বিশ্বাসী আসিফ বলেন, এই দেশের শিকড়ের সন্ধান দিতে পারে শুধু আখ্যান আর রুবারু— মুখোমুখি সংলাপ। আসিফ দেহলভি (সঙ্গের ছবি) কলকাতায় আসছেন ‘শাম-এ-আওধ’ নিয়ে, ২৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪.৩০ থেকে ৬.৩০, আইসিসিআর যামিনী রায় গ্যালারিতে। উদ্যোগে ক্যালকাটা ক্যারাভান ও আইসিসিআর। সঙ্গে থাকবেন আখতারনামা-র লেখক শামিম আহমেদ, আওধ রাজবংশের শাহানশা মির্জা, সুপর্ণা দেব, নবনীতা মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।

 

শতবার্ষিকী বইমেলা

আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার বয়স হল ৪২। কিন্তু একশো বছর আগেও বইমেলা? ১৯১৮ সালের এপ্রিল মাসে বঙ্গীয় জাতীয় শিক্ষা পরিষৎ-এর (প্রতিষ্ঠা ১৯০৬) উদ্যোগে পালিত হয় ‘শিক্ষা সপ্তাহ’। এই অনুষ্ঠানের অঙ্গ হিসাবে ছিল দুটি প্রদর্শনী। একটি শিল্প-প্রদর্শনী, অপরটি বইয়ের প্রদর্শনী। ‘বইমেলা’ নামের প্রচলন না হলেও সেই বইয়ের প্রদর্শনীতে কলকাতার বিশিষ্ট প্রকাশকরা যোগ দিয়েছিলেন। পরিষৎ কর্তৃপক্ষের মতে, সেটিই কলকাতার প্রথম ‘বইমেলা’, এমনকী সম্ভবত ভারতেরও প্রথম। এ-বার তারই শতবর্ষ উদ্‌যাপন করছে পরিষৎ। নিজ প্রাঙ্গণে, ২১-২৫ ফেব্রুয়ারি, রোজ ১১-৭টা। ২১ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টায় মেলার উদ্বোধন করবেন শঙ্খ ঘোষ। ২২-২৫ প্রতি দিন বিকেলে থাকবে বই সংক্রান্ত নানা বিষয়ে বক্তৃতা। বলবেন সৌরীন ভট্টাচার্য, রামকুমার মুখোপাধ্যায়, স্বপন চক্রবর্তী।

 

অতিথি

২০১৫-য় সাড়া-জাগানো উপন্যাস লিখেছিলেন কলকাতার সাহেবি আমলের ভূতেদের নিয়ে (গোস্টস অব ক্যালকাটা)। সেবাস্টিয়েন অর্টিজ ছদ্মনামের আড়ালে রয়েছেন ফ্যাব্রিস এতিয়েন, কয়েক বছর আগে যিনি ছিলেন কলকাতার ফরাসি কনসাল। এই সদ্য আবার ঘুরে গেলেন মহানগরে। পার্ক স্ট্রিটের আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ-এ প্রকাশিত হল তাঁর নতুন বই বার্মিজ পোর্ট্রেটস (সম্পর্ক)। সেবাস্টিয়েন শোনালেন তাঁর কলকাতা আর ইয়াঙ্গনের অভিজ্ঞতা, কীভাবে দুটো শহরেই ইংরেজদের প্রভাব থেকেছে। জানালেন, কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিংস আর ইয়াঙ্গনের সেক্রেটারিয়েটের স্থপতি একই ব্যক্তি! ইয়াঙ্গনের ট্যাক্সিচালক, যৌনকর্ম়ী, ফটোগ্রাফিক স্টুডিয়োর মালিক, যুবক চিত্রশিল্পী— এমন সব সাধারণ মানুষের দিনলিপি ফুটে উঠেছে সেবাস্টিয়েনের উনিশটি গল্পে। বিভিন্ন গল্পে দীর্ঘ ছায়া ফেলেছে মায়ানমারের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও তার নেত্রী আউং সান সু কি।

 

বাংলার ইতিহাস

বাঙালির ইতিহাসের অভাব নিয়ে বঙ্কিমচন্দ্রের চেতাবনির পর সচেতন বাঙালি ইতিহাস বড় কম লেখেনি। প্রাচীন ও মধ্যযুগের পাশাপাশি আলো পড়েছে আধুনিক ইতিহাসেও। তবে সামগ্রিক অবলোকনের শেষ উদ্যোগের পর কেটে গিয়েছে অর্ধশতক— নরেন্দ্রকৃষ্ণ সিংহ সম্পাদিত দ্য হিস্টরি অব বেঙ্গল (১৭৫৭-১৯০৫) প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৬৭ সালে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এ-বার এগিয়ে এসেছে এশিয়াটিক সোসাইটি। সব্যসাচী ভট্টাচার্যের সম্পাদনায় তিন খণ্ডে পরিকল্পিত হয়েছে ‘আধুনিক বাংলার ইতিহাস’। দেশবিদেশের প্রায় সত্তর জন ইতিহাসবিদ এই প্রকল্পে যুক্ত হয়েছেন। সম্প্রতি সোসাইটি আয়োজিত কর্মশালায় ত্রিশ জন গবেষক তাঁদের প্রবন্ধ পেশও করেন। সব্যসাচীবাবুর কথায়, গত অর্ধশতকে ইতিহাস রচনার পদ্ধতিতে নানা পরিবর্তন ঘটেছে এবং বহুমাত্রিক অন্বেষণ তার বিষয়বস্তু হয়েছে। এই প্রকল্পে তাই তিনি বহুমাত্রিক ইতিহাসচর্চার উপরই জোর দিচ্ছেন।

 

কথা-সন্ধ্যা 

দেশে পা রাখলে ‘রেড কার্পেট’ অপেক্ষা করে থাকবে ওঁর জন্য, বলা হয়েছিল। সেটা আশির দশক, কেনিয়ার একনায়ক মোয়ি-র জমানায় বুঝে নিতে অসুবিধে হয়নি, ইঙ্গিতটা কী। ‘অন্য রকম’ নাটক লেখার জন্য ’৭৭-এর শেষে বিনা বিচারে জেলবন্দি হয়ে ছিলেন এক বছর, এ-বার আর স্বদেশেই ফিরতে পারলেন না গুগি ওয়া থিয়োঙ্গো। ডেভিল অন দ্য ক্রস উপন্যাসের লেখক নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছেন ইংল্যান্ড-আমেরিকায়, তুলনামূলক ও আফ্রিকান সাহিত্য পড়িয়েছেন একগুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয়ে। জেলে বইপত্র মিলত না, কাগজ বলতে টয়লেট পেপার, তাতেই লিখেছিলেন উপন্যাস। তার চেয়েও বড় কথা, সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, ইংরেজিতে আর নয়, মাতৃভাষা গিকুয়ু-তে লিখবেন এখন থেকে। মাতৃভাষা, আফ্রিকা, এই মহাদেশের সাহিত্য, মানবাধিকার, সাধারণ মানুষ— এই তাঁর লেখালিখি আর বেঁচে থাকার অবলম্বন, গুগি বলছিলেন কলকাতায় বসে। প্রকাশিত হল ওঁর নতুন বই সিকিয়োর দ্য বেস (সিগাল বুকস), সিগাল ফাউন্ডেশন ফর দি আর্টস ও ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল আয়োজন করেছিল ওঁকে ঘিরে এক অপূর্ব কথা-সন্ধ্যার। সেখানে গুগি বললেন রবীন্দ্রনাথ, মহাভারত নিয়েও। এই জানুয়ারিতে আশি-পেরনো মানুষটির কলম ও বাক এখনও সপ্রতিভ। সঙ্গে তাঁরই ছবি।

 

কলকাতার ঐতিহ্য

১৯৯৪ সালে প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ নিশীথরঞ্জন রায় প্রয়াত হওয়ার পর ১৯৯৬ সাল থেকে তাঁরই প্রতিষ্ঠিত সংস্থা ‘সোসাইটি ফর প্রিজারভেশন, ক্যালকাটা’ প্রতি বছর নিশীথরঞ্জন রায় স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করে আসছে। এই বক্তৃতা নানা বিষয়ের উপর হলেও, মুখ্যত এই ঔপনিবেশিক শহরের ঐতিহ্যের কথা মনে রেখে বিষয় নির্বাচন করা হয়। এই ঐতিহ্য আমরা প্রতিনিয়ত প্রত্যক্ষ করি, কিন্তু যা দেখি তার বাইরেও কিছু বিষয় অবজ্ঞাত এবং উপেক্ষিত থেকে যায়। এ-বছরে তাই নিশীথরঞ্জন রায় স্মারক বক্তৃতার বিষয় ‘কলকাতার ভূগর্ভের উপেক্ষিত ঐতিহ্য’, বলবেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টায় পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি সভাগৃহে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সংস্থার সভাপতি অরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

শিল্পপতি

বছর দশেক বয়সে পিতৃবিয়োগের পর কৃষ্ণনগর বাসের পাট চুকিয়ে চলে আসতে হয়েছিল রেলকর্মী দাদার কর্মস্থল হাওড়ার শিবপুরের শালিমারে। ম্যাট্রিকের পর কলকাতার রিপন কলেজ থেকে বি এসসি। অধ্যাপক-পুত্র হলেও বাসনা ছিল শিল্পসাধনার। শুরুতে শিবপুর বাজারে একটি আটাকল বসান, আটার ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেল পঞ্চাশের মন্বন্তরে। পরের বছরেই শালিমারে গড়লেন ইঞ্জেকশনের অ্যামপুল তৈরির কারখানা। শেষে ১৯৪৫ সালে সূত্রপাত সেই প্রতিষ্ঠানের যার জন্য পরবর্তী কালে বাংলার অন্যতম সফল শিল্পপতি হিসাবে দেশজোড়া খ্যাতির অধিকারী হন প্রকৃতিনাথ ভট্টাচার্য। নরেন্দ্রপুরে দশ বিঘা জমিতে গড়ে উঠল শালিমার কেমিক্যাল ওয়ার্কস-এর নারকেল তেল তৈরির কারখানা। একে একে হায়দরাবাদে আরও তিনটি। শিল্পপতি প্রকৃতিনাথের ছিল শিবপুর অন্ত প্রাণ। শিবপুরের সব গঠনমূলক ও সেবামূলক প্রয়াসে ছিলেন ওতপ্রোত, মুক্তহস্ত। ১৯৮৮ সালে তিনি প্রয়াত হন। জন্মশতবর্ষে সম্প্রতি তাঁকে স্মরণ করলেন তাঁরই স্কুল শিবপুর দীনবন্ধু ইনস্টিটিউশনের (মেন) প্রাক্তনীরা।

 

ক্লাব-নাটক

‘ক্লাব’ মানে শুধু আড্ডা, খেলাধুলা, খাওয়াদাওয়া বা ফুর্তিই নয়, ক্লাব মানে কৃষ্টি, সংস্কৃতিও! ক্লাবগুলোর মধ্যে মেলবন্ধন এবং বাংলা নাটকের প্রসারের উদ্দেশ্যে ২০০৩ সালে প্রথম আউটরাম ক্লাব আরও পাঁচটি ক্লাবকে নিয়ে নাট্যোৎসবের সূচনা করে। পরে আরও দুটো ক্লাব যোগ দেয়। মোট আটটি প্রতিষ্ঠান সম্মিলিত ভাবে— ক্যালকাটা ক্লাব, আউটরাম ক্লাব, ক্যালকাটা রোয়িং ক্লাব, লেক ক্লাব, ডালহাউসি ইনস্টিটিউট, ক্যালকাটা ইন্টারন্যাশনাল ক্লাব, ইন্ডিয়ান লাইফ সেভিং সোসাইটি এবং দক্ষিণ কলিকাতা সংসদ— চার দিন ধরে আটটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের নাটক নিয়ে প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির তৃতীয় বা চতুর্থ সপ্তাহে এই উৎসবের আয়োজন করে। এ-বছর এই নাট্যোৎসব দেখা যাবে ২১-২৪ ফেব্রুয়ারি, উত্তম মঞ্চে। অভিনেতারা সবাই এই আট ক্লাবের সদস্য-সদস্যা এবং পরিবার থেকে। গত চোদ্দো বছর ধরে এই উৎসবে অভিনয় জগতের বিশিষ্টরা আতিথ্য গ্রহণ করেছেন যেমন, তেমনই আবার সম্মানিতও হয়েছেন।

 

ফানুসশিল্পী

স্কটিশ চার্চ কলেজিয়েট স্কুল ও আনন্দমোহন কলেজের প্রাক্তনী বিডন স্ট্রিট ভোলানাথ ধামের অজয় দত্ত জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই বাবা যাদবলাল ও জ্যাঠামশাই মাধবলালকে দেখতেন কালীপুজোর আগে ফানুস সৃজনে, যা পুজোর দিন বিকালে ছাড়া হত। ছ’সাত বছর বয়সে ফানুস কাগজের ছাঁট নাড়াঘাটা ও তৈরিতে সহায়তা করতে করতেই আগ্রহ, ছোটপিসিমা গৌরীর সহায়তায় পঞ্চম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার পর প্রথম ফানুস তৈরি করা। বাবা কিছু ভুলত্রুটি সংশোধন করে দিয়েছিলেন, তবে হতাশ করেননি। লাট্টু বেলুন কেটলি বল তারা ফুটবল ফানুসের সঙ্গে স্বাধীনতার পঞ্চাশ উপলক্ষে বিশেষ ফানুস, এ-ছাড়া নতুন যোগ করেছেন ঘড়ি, মিকি মাউস, রাশিচক্র, ট্রাইবাল মুখোশ, অ্যানিমেশন প্রিন্টিং। ভবিষ্যতে পশুপাখিদের রূপ দিতে চান ফানুসে। আগে সুইডেন অস্ট্রিয়া নরওয়ে-র টিসু কাগজে কাজ করলেও এখন চিন ও ভারতের কাগজেই তৈরি করেন। ১৭-১৮ ফেব্রুয়ারি নিজের বাড়িতে ফানুস কর্মশালা করলেন ‘হামদোস্তি’-র আয়োজনে ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন ফর দ্য আর্ট-এর সহায়তায় ‘চিৎপুর লোকাল আর্ট ফেস্টিভ্যাল’— টেলস অব চিৎপুর’-এর অঙ্গ স্বরূপ অনুরাধা পাঠকের প্রজেক্ট ‘কোর্টইয়ার্ড অ্যাক্টিভিটি অ্যান্ড সোশ্যাল স্ট্রাকচার’ হিসাবে। সেই ফানুস ছাড়া হবে ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৫টায় বেনিয়াটোলার অমৃতলাল দাঁ দেবোত্তর এস্টেটের হেমকুটিরে। এ-ছাড়া যাদবপুর বিদ্যাপীঠে ২১ ফেব্রুয়ারি বইমেলাতেও উড়বে তাঁর তৈরি ফানুস।