কলকাতা পুলিশের এসি ও ওসিরা প্রতেক্যেই নির্বাচনের বিষয়ে যথেষ্ট অভিজ্ঞ। তাই শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন তাঁরাই। সোমবার টালিগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে কলকাতা পুলিশের দক্ষিণ শহরতলি ও দক্ষিণ পশ্চিম ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনার, এসি এবং থানার ওসিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন নতুন পুলিশ কমিশনার রাজেশ কুমার। সেখানে এমন বার্তা দিলেন তিনি। জানালেন, ভোটের সব কাজে বাহিনীর পাশে থাকবেন। 

আসন্ন লোকসভা নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ভাবে হয়, তার জন্য চেষ্টা করা হবে বলে গত শনিবার দায়িত্ব নিয়েই জানিয়েছিলেন কলকাতা পুলিশের নতুন কমিশনার। দায়িত্ব নেওয়ার তিন দিনের মাথায় কলকাতায় অবাধ নির্বাচন করার জন্য বাহিনীর একাংশের সঙ্গে বৈঠক করে সে বিষয়েই নির্দেশ দিলেন তিনি। লালবাজার সূত্রের খবর, আগের নির্বাচনগুলিতে যে সব এলাকায় গোলমাল হয়েছিল, সেই সব জায়গা বেছে নিয়ে তিনি আলাদা ভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে বলেছেন ওসিদের। এ দিন প্রায় দু’ঘণ্টা টালিগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে ছিলেন রাজেশ কুমার। বৈঠক সেরে বেরোনোর সময়ে তিনি বলেন, ‘‘শান্তিপূর্ণ এবং নির্বিঘ্ন নির্বাচন কী ভাবে করা যায়, তার জন্য অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করেছি।’’ 

গত শুক্রবার রাতেই মাস দেড়েক আগে লালবাজারের দায়িত্ব নেওয়া পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন। শনিবার সেই জায়গায় কলকাতার পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব নেন রাজেশ কুমার। কলকাতা পুলিশে একেবারেই নতুন তিনি। পুলিশ সূত্রের খবর, নতুন কমিশনার উত্তর ডিভিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই বৈঠক করেছেন। এ দিনের বৈঠকে ছিলেন দক্ষিণ শহরতলি এবং দক্ষিণ পশ্চিম ডিভিশনের আধিকারিকেরা। একে একে সব ডিভিশনেই বৈঠক করবেন তিনি। লালবাজার জানিয়েছে, এ দিনের বৈঠকে সিপি নিজেই জানিয়েছেন, কলকাতা পুলিশে তিনি নতুন। কিন্তু বহু নির্বাচন সামলে তাঁর বাহিনী অনেকটাই অভিজ্ঞ। ফলে কোন পরিস্থিতিতে কী ব্যবস্থা নিতে হবে, তা এই আধিকারিকেরা জানেন। এক পুলিশকর্তার কথায়, ‘‘নতুন সিপি সাহেব বাহিনীর সদস্যদের উপরে ভরসা রেখেছেন। একই সঙ্গে বাহিনীর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের মনোবলও বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন তিনি।’’

এর আগের সিপি অনুজ শর্মাও বাহিনীকে অবাধ নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুত হতে বলেছিলেন। কিন্তু ভোটের আগেই তাঁকে সরে যেতে হয়েছে ওই পদ থেকে। নতুন সিপি বাহিনীর উপরে আস্থা রাখলেও নিচুতলার কর্মীরা তাতে কতটা চাঙ্গা হবেন, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে পুলিশের একাংশই। ২০১৬-এ বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে নির্বাচন কমিশন রাজীব কুমারকে সরিয়ে সৌমেন মিত্রকে সিপি পদে বসিয়েছিল। সে বার নির্বিঘ্নে ভোট করিয়ে সুনাম কুড়িয়েছিলেন সৌমেন মিত্র এবং তাঁর বাহিনী। কিন্তু ভোটের পরে সরে যেতে হয়েছিল তাঁকে। সেই সঙ্গে কলকাতা পুলিশ থেকে একাধিক থানার ওসি-সহ অফিসারদের বদলি করা হয়েছিল রাজ্য পুলিশের গুরুত্বহীন পদে।