গেস্ট হাউসের ঘর ভাড়া করে রমরমিয়ে চলছিল ভুয়ো নিয়োগপত্র তৈরি করে প্রতারণার কারবার। ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি কেউ। কিন্তু, আচমকাই পর্দা ফাঁস হয়ে গেল লোকসভা নির্বাচন উপলক্ষে রুটিন তল্লাশি করতে গিয়ে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনেই বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে এলাকার বিভিন্ন গেস্ট হাউসে তল্লাশি চালাচ্ছিল নিউটাউন থানার পুলিশ। রাত ন’টা নাগাদ পুলিশকর্মীরা পৌঁছন ডি-ই ব্লকের ৪০ নম্বর বাড়িতে। বহুতলের চারতলায় গোটাটাই একটি গেস্ট হাউস। সেখানে রুটিন তল্লাশি করতে গিয়ে পুলিশকর্মীরা জানতে পারেন একটি ঘরে চার জন যুবক রয়েছেন। সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা ওই ঘরের দরজা খুলতে বলেন বোর্ডারদের।

ঘরে ঢুকে তল্লাশি চালাতে গিয়ে তাজ্জব হয়ে যান পুলিশকর্মীরা। তাঁরা দেখেন, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনে নিয়োগের প্রচুর ফাঁকা এবং ভরা নিয়োগপত্র ঘর জুড়ে রয়েছে। ঘরে থাকা যুবকদের প্রশ্ন করলে তাঁরা অসংলগ্ন কথা বলতে শুরু করেন পুলিশের দাবি। শেষ পর্যন্ত জেরার মুখে তাঁরা স্বীকার করেন যে, তিন মাসের জন্য গেস্ট হাউসের ওই ঘর ভাড়া করে তারা বিভিন্ন সরকারি চাকরির ভুয়ো নিয়োগপত্র তৈরি করে প্রতারণা করতেন চাকরি প্রার্থীদের সঙ্গে।

আরও পড়ুন: বাগুইআটিতে ‘তোলা’র টাকা না পেয়ে ব্যবসায়ীদের মারধর, টাকা ছিনতাই, ধৃত ৩ সিভিক ভলান্টিয়ার

আরও পড়ুন: সেনার পোশাকে নিউজিল্যান্ডের মসজিদে বন্দুকবাজের হামলা, হত ৪৯, রক্ষা বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের

পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় জানা গিয়েছে, ধৃতরা বিভিন্ন সরকারি চাকরির ওয়েবসাইটে দেওয়া পরিক্ষার্থীদের তালিকা দেখে তাঁদের রোল নম্বর এবং বাকি তথ্য সংগ্রহ করতেন। তার পর ওই চাকরি প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলা হত, তাঁরা চাকরির ব্যবস্থা পাকা করে দেবেন। বিনিময়ে মোটা টাকা দাবি করা হত চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে। টাকা পেলে তাঁরা ভুয়ো নিয়োগপত্র দিতেন।

এ ভাবে গত কয়েক মাসে অনেকের সঙ্গেই প্রতারণা করেছে ওই চক্র। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতেরা হলেন হাওড়ার গোপাল প্রামাণিক এবং সন্তোষ শর্মা, হুগলির অভিজিৎ ছেত্রী এবং রিজেন্ট পার্কের তন্ময় মাহাতো। ধৃতদের এ দিন বারাসত আদালতে পেশ করা হবে। এক তদন্তকারী আধিকারিক বলেন, “আমরা ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে চাইব। কাদেরকে তারা প্রতারণা করেছে জানার জন্য জেরা করা প্রয়োজন।”

(শহরের সেরা খবর, শহরের ব্রেকিং নিউজ জানতে এবং নিজেদের আপডেটেড রাখতে আমাদের কলকাতা বিভাগ পড়ুন।)