দলের দফতরে মহিলা মোর্চার এক নেত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠল বিজেপির এক নেতার বিরুদ্ধে। সোমবার রাতে তিনি রানাঘাট মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত রাখালরঞ্জন সাহা বিজেপির নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার অফিস সম্পাদক। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত অবশ্য পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেনি।

প্রার্থী নিয়ে ডামাডোলে এমনিতেই রানাঘাট কেন্দ্রে বিজেপির ছন্নছাড়া দশা। এই ঘটনা নতুন করে তাদের অস্বস্তি বাড়াল। রানাঘাটে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে বিজেপির নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সদর দফতর। মহিলা মোর্চার ওই নেত্রীর অভিযোগ, গত ১১ এপ্রিল প্রচারের কিছু জিনিসপত্র আনতে দফতরে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময়েই দলের অফিস সম্পাদক রাখালরঞ্জন সাহা তাঁকে একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। বিষয়টি তিনি সেই সময়ে দলের অন্যদেরও জানিয়েছিলেন বলে তাঁর দাবি। 

এ দিন তিনি বলেন, “আমি দলের কাছে দাবি করেছিলাম, রাখাল সাহার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সে যাতে দলীয় দফতরে না ঢুকতে পারে, সেই  ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু দল এখনও কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছি।”

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

অভিযুক্ত রাখাল সাহা বিজেপির নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তথা রানাঘাট কেন্দ্রের প্রার্থী জগন্নাথ সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। অভিযোগ অস্বীকার করে রাখাল পাল্টা দাবি করেন, “আমি ওই মহিলাকে এর আগে দলের এক কর্মীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরেছিলাম। তা ছাড়া উনি দলের নানা কাজে অহেতুক নাক গলিয়ে সমস্যা তৈরি করেন। তাঁকে এ সব করতে আগে নিষেধও করা হয়েছিল। সেই আক্রোশে এখন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনছেন।” যা শুনে মহিলা নেত্রী বলছেন, “ওঁর নামে অভিযোগ করায় এখন উনি মিথ্যা বলছেন।” 

এ প্রসঙ্গে জগন্নাথ বলেন, “দলকে ওই মহিলা আগে এই কথা জানাননি। দু’জনের কাছেই তাঁদের কথা শুনব। তার পরে যা ব্যবস্থা নেওয়ার, তা নেওয়া হবে।” দলের মধ্যে জগন্নাথের বিরোধী বলে পরিচিত, বিজেপির নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি দিব্যেন্দু ভৌমিক বলেন, “আমাদের দল এই ধরনের ঘটনাকে প্রশ্রয় দেয় না। আশা করব, দল এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে।” পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।