লোকসভা নির্বাচনে বড় জয়ের পর আলিপুরদুয়ার জেলা জুড়ে এবার যোগ শিবিরের আয়োজন করেছিল বিজেপি৷ কিন্তু তাতে বাদ সাধল নেতাদের ঘুম! দলের অন্দরের খবর, সাত সকালে উঠতে না পারায়, জেলার বিভিন্ন প্রান্তের অনেক নেতাই এ দিন দলের যোগ শিবিরে যোগ দিতে পারেননি৷ তবে বিষয়টিকে অবশ্য গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপির জেলা শীর্ষ নেতৃত্ব৷ বরং দলের আয়োজিত যোগ শিবিরকে ঘিরে সাধারণ মানুষের ‘উৎসাহে’ খুশি তাঁরা৷

গত কয়েক বছর থেকে প্রতি বারই আলিপুরদুয়ার জেলায় যোগ দিবসের আয়োজন করে আসছেন বিজেপি নেতারা৷ তবে দলীয় সূত্রের খবর, এতদিন আলিপুরদুয়ার-ফালাকাটা সহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকাকে বেছে নিয়ে এই শিবিরের আয়োজন করে আসছিল দল৷ তবে এ বারের যোগ দিবসের আগেই অবশ্য জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে৷ সদ্য শেষ হওয়া লোকসভা নির্বাচনে প্রায় আড়াই লক্ষ ভোটের ব্যবধানে তৃণমূলকে হারিয়ে দিয়েছে বিজেপি৷ জেলার প্রতিটি বিধানসভার পাশাপাশি আলিপুরদুরদুয়ার পুর এলাকা ও বেশিরভাগ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এগিয়ে থেকেছেন বিজেপি প্রার্থী৷ এর প্রভাব পড়ে দলের যোগ দিবসে দলের শিবির আয়োজনেও৷ লোকসভা নির্বাচনে ব্যাপক জয়ের ফলে শুক্রবার জেলার প্রতিটি মণ্ডলে যোগ শিবিরের আয়োজন করেছিলেন বিজেপি নেতারা৷ অঞ্চল ধরে ধরেও দলের তরফে এই আয়োজন করা হয়৷ বেশিরভাগ জায়গাতেই সকাল সাতটা থেকে আটটা পর্যন্ত চলে এই শিবির৷ কিন্তু খোদ বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের একাংশের অভিযোগ, “সকালে ঘুম না ভাঙায় অনেক মণ্ডলের শিবিরেই গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকজন নেতা এ দিন যোগ শিবিরে যোগ দিতে পারেননি৷” যাঁদের মধ্যে কোনও কোনও মণ্ডল সভাপতিও রয়েছেন বলে খবর৷

শিবিরে যোগ দিতে না পারা বিজেপির এক মণ্ডল সভাপতি বলেন, ‘‘শিবিরের প্রস্তুতির সব খুঁটিনাটি দিক খতিয়ে দেখতে গিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে শুতে একটু দেরি হয়ে গিয়েছিল৷ ফলে এ দিন সাতটার মধ্যে ঘুম থেকে উঠতে পারিনি৷ তবে বাড়িতে অবশ্য যোগাসন করেছি।’’

যদিও নেতাদের একাংশের যোগ শিবিরে যোগ দিতে না পারার বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপির আলিপুরদুয়ার জেলা শীর্ষ নেতৃত্ব৷ দলের জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, “নেতারা এগিয়ে আসাতেই এ দিন জেলার প্রতিটি মণ্ডলের পাশাপাশি সকাল থেকে সুষ্ঠুভাবে যোগ শিবির করা সম্ভব হয়েছে৷ আমি নিজেও জয়গাঁয় দলের একটি শিবিরে যোগ দিই৷ ঘুম না ভাঙার কারণে কোনও কোনও নেতা শিবিরে যোগ না-ই দিতে পারেন৷ সেটা কোনও বড় বিষয়ও নয়৷ কারণ শিবিরে যোগ না দিলেও ওই নেতারা বাড়িতে যোগাসন করেছেন৷”

তবে দলের যোগ শিবিরে সাধারণ মানুষের যোগদানে দারুণ খুশি বিজেপির নেতারা৷ দলের জেলা নেতৃত্বের দাবি, তাঁদের আয়োজিত শিবিরগুলিতে কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি অনেক সাধারণ মানুষও যোগ দেন৷ তাঁদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আরও অনেক সংগঠন নিজেদের উদ্যোগে এ দিন যোগ শিবির করে৷