কোনও শহর ও তার শহরবাসী কি নোবেল শান্তি পুরস্কার পেতে পারেন না? সচরাচর কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকেই এমন পুরস্কার দেওয়া দস্তুর। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টদের ধরপাকড়, হেনস্থা, দমন-পীড়নের মুখে আমেরিকার মিনিয়াপোলিসের নাগরিকরা যে ভাবে রুখে দাঁড়িয়েছেন, তা নোবেলের দাবিদার— এই বলে নরওয়ের নোবেল কমিটিকে চিঠি লিখেছে সংবাদ প্রতিষ্ঠান ‘দ্য নেশন’। সেখানে লেখা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায়, শান্তিময় পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে নোবেল কমিটির বেঁধে দেওয়া যে মাপকাঠি, তার প্রতিটির মুখ উজ্জ্বল করেছেন মিনিয়াপোলিসবাসী। আইসিই এজেন্টরা যেখানে শহরের অভিবাসীদের লক্ষ্য করে গোটা শহরেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে, মানুষ সেখানে ভয়ঙ্কর শীত সয়েও সম্মিলিত অহিংস প্রতিবাদে নেমেছেন; যাঁরা ভয়ে বাড়ি থেকে বেরোচ্ছিলেন না তাঁদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌঁছে দিয়েছেন, যাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেতে পারেননি তাঁদের আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সহমানুষের অধিকার রক্ষায় এর চেয়ে বড় কাজ আর কী!
একসূত্রে: মিনিয়াপোলিসের রাজপথে শহরবাসীর শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ। ছবি: রয়টার্স।
শিশুর জন্য নয়
ফ্রান্সে দ্রুতগতির রেল পরিষেবায় নতুন উচ্চ-সুবিধাযুক্ত কোচ যোগ হয়েছে। আরামের খাতিরে, নির্জনতা ও শান্তি বজায়ে সেখানে শিশুদের প্রবেশাধিকার নেই। বিতর্কের ঝড় উঠেছে: দেশের হাই কমিশনার ফর চিলড্রেন বলেছেন, শিশুদের সহ-ভ্রমণই স্বাভাবিক, অসুবিধা থাকলে সহায়ক ব্যবস্থা রাখলেই হয়, ওদের বাদ দেওয়া কেন? রেল সংস্থা জানিয়েছে, মোট আসনের সামান্য অংশ এই পরিষেবায় বরাদ্দ, এমন কোচ শুধু সপ্তাহের কাজের দিনে চলবে। দামও আকাশছোঁয়া, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় কুড়ি হাজার। অনেকে বিমানেও এমন ‘শুধুই বড়দের জন্য’ আলাদা ‘জ়োন’-এর দাবি তুলছেন। অন্য দিকে শঙ্কা, এর পর কি বয়স্ক, বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদেরও নানা অজুহাতে ‘প্রবেশ নিষেধ’ বলে আলাদা কোচ তৈরি হবে? বৈষম্য বলশালী হবে?
পাছে লোকে
শীতকালীন অলিম্পিক্স শুরু হয়েছে ইটালিতে। এ বারের অলিম্পিক্সে খুব কথা হচ্ছে এক ডেটিং অ্যাপ ঘিরে। এলজিবিটিকিউ+ মহলে জনপ্রিয় অ্যাপটিতে এমনিতে অ্যাপ-ব্যবহারকারীর ‘লোকেশন’ দেখা যায়; অ্যাপ-কর্তৃপক্ষ এই ‘ফিচার’টি অলিম্পিক্স-স্থলে বন্ধ করে দিয়েছেন। কারণ: অ্যাথলিটদের নিরাপত্তা। ইটালিতে আসা অ্যাথলিটদের মধ্যে অন্তত ৪৪ জন এলজিবিটিকিউ+ গোষ্ঠীর মানুষ আছেন, তদুপরি এমন অনেক অ্যাথলিটও থাকতে পারেন যাঁরা যৌনপরিচয় প্রকাশ্যে আনতে চান না, ‘লোকেশন’ অন থাকলে এঁদের মনঃসংযোগ থেকে নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা, উটকো বা ভিন্ন যৌনতা-বিদ্বেষী লোক চড়াও হতে পারে— তাই এ ব্যবস্থা।
কূটনীতির কোপে
জাপানের পান্ডা-প্রেমীদের বড় দুঃখ, ভবিষ্যতে দেশে কি আর পান্ডার দেখা মিলবে না? সম্প্রতি টোকিয়োর এক চিড়িয়াখানা থেকে শেষ দু’টি জায়ান্ট পান্ডা ভাই-বোনকে চিনে ফেরত পাঠানো হল, বেজিং-টোকিয়ো কূটনৈতিক টানাপড়েনের জেরে। পান্ডা দু’টি জাপানে জন্মালেও, চিনের ‘পান্ডা কূটনীতি’র নিয়মানুসারে প্রাণীগুলির মালিকানা তাদের। এমনিতে চিন সরকার পান্ডাকে ‘শুভেচ্ছাদূত’ গণ্য করে এবং সেই সব দেশে তাদের পাঠায়, যাদের সঙ্গে তারা সম্পর্ক পোক্ত করতে আগ্রহী। সেই নীতি অনুসারে জাপানে প্রথম পান্ডা আসে ১৯৭২-এ। এ দিকে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন আপাতত পান্ডার জায়গাটি যেমন ছিল তেমনই থাকবে, তাঁরা সহজে হাল ছাড়তে রাজি নন!
দেখা: সেই দু’টি পান্ডার একটি। ছবি: রয়টার্স।
‘চাকা বন্ধ’
লম্বা কাজের শিফট, ছুটি প্রায় নেই, সুযোগ-সুবিধাও কমছে। মালিকপক্ষ তথা সরকারের সঙ্গে বসেও সুরাহা মেলেনি। জার্মানিতে সরকারি পরিবহণ কর্মীরা তাই কর্মবিরতি তথা ধর্মঘটে। শ্রমিক সংগঠন ফের্দি-র এক লক্ষেরও বেশি সদস্য কর্মী তাতে শামিল, বার্লিন হামবুর্গ ব্রেমেন-সহ দেশের নানা শহর ও প্রদেশে পরিবহণ কার্যত শিকেয় উঠেছে, প্রায় দেড়শো শহরে প্রভাব পড়েছে। একে প্রচণ্ড শীত, তায় পথে বাস-ট্রাম, শহরতলি থেকে বড় শহরে পৌঁছনোর রেলগাড়ি নেই— ক্ষোভ বাড়ছে নাগরিকদের। কর্তৃপক্ষ প্রমাদ গুনে ৯ ফেব্রুয়ারি ফের আলোচনায় ডেকেছেন আন্দোলনকারী কর্মীদের।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)