E-Paper

জগা

কালো, গাঁট্টাগোঁট্টা চেহারা। গোঁফে আর কদমছাঁট চুলে ছিট-ছিট সাদার ছোপ ধরেছে। বয়স বাড়ছে, তবু এখনও অসুরের খাটনি খাটতে পারে। বিউলির ডাল আর দিশি মুরগির ঝোল দিয়ে ভাতের পাহাড় চালান করে পেটে। অম্বল কী, হাঁটুর ব্যথা কাকে বলে জানে না আজ অবধি।

মহুয়া চৌধুরী

শেষ আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৬:১৮

ছবি: মহেশ্বর মণ্ডল।

কেউ টের পায় না, জগার বুকের মধ্যে হাঁ-হাঁ করা একটা ভয়ানক খাদ রয়ে গেছে সেই কবে থেকে। আজ এত বছরেও ভরাট হয়নি।

কালো, গাঁট্টাগোঁট্টা চেহারা। গোঁফে আর কদমছাঁট চুলে ছিট-ছিট সাদার ছোপ ধরেছে। বয়স বাড়ছে, তবু এখনও অসুরের খাটনি খাটতে পারে। বিউলির ডাল আর দিশি মুরগির ঝোল দিয়ে ভাতের পাহাড় চালান করে পেটে। অম্বল কী, হাঁটুর ব্যথা কাকে বলে জানে না আজ অবধি। দিনের বেলা জগাকে বসতে দেখেনি কেউ। আর রাত দশটা বাজল তো সোজা বিছানায়। এক ঘুমে রাত কাবার। ডাকাত পড়লেও ভাঙবে না সে ঘুম। নাকের তুমুল বাদ্যি শুনে বৌ গৌরী রোজ গজগজ করে, “যেন কুম্ভকর্ণের দাদাঠাকুর!”

শীত কি গ্রীষ্ম, যখন দেখো একই পোশাক। হাতকাটা গেঞ্জি আর রং-জ্বলা প্যান্ট। পাড়াপড়শি কেউ কখনও তার জ্বরজারি দূরের কথা, হাঁচি-কাশিরও শব্দও শোনেনি। ‘জগদ্ধাত্রী ইলেকট্রিক্যালস’-এর অকালে বুড়িয়ে যাওয়া মালিক রত্নেশবাবু বাঁকা হাসি হেসে বলে, “পাগলদের ঠান্ডা লাগে না।” রত্নেশবাবুর বাবা দীপ্তেশবাবুর সময় থেকে জগা আছে। হেড মিস্তিরি ছিল তখন বিভূতি। যন্তর নাকি কথা বলত তার সঙ্গে।

হঠাৎ এক দিন জগার বাবা দুম করে মরে গেল তিন দিনের জ্বরে। তখনই পাশের ঘরের বিভূতিজেঠা খিচুড়ি ইস্কুল ছাড়িয়ে জগদ্ধাত্রী ইলেকট্রিক্যালস-এ এনে জুতে দিয়েছিল তাকে। নিজে হাতে ধরে কাজ শেখাতে লেগেছিল বারো বছুরে জগাকে। তা বিভূতি গত হয়েছে, সে-ও কত বছর হয়ে গেল। এখন জগা একাই একশো।

লোকের ছোট-বড় সমস্যায় যখন-তখন ব্যাগ ঝুলিয়ে ছুটছে খদ্দেরদের বাড়ি। আগে সাইকেল ছিল। এখন স্কুটি। কার কলঘরের হিটার খারাপ হয়েছে তো, কারও পাখা ঘ্যাঁস-ঘ্যাঁস আওয়াজ ছাড়ছে। কার আবার ফ্রিজের আলো কেটে গেছে। শহরের এ তল্লাট থেকে ও তল্লাট পর্যন্ত তার আনাগোনা। ছোট শহর। সবাই চেনে। খদ্দের-বাড়িতে তার ভারী খাতির। হাতের কাজ ভাল, মিষ্টি ব্যবহার। গিন্নিদের, মেয়েদের সর্বদা ‘মা’ বলে ডাকে। সবাই খুশি। পয়সা কামায় ভালই।

তবে খদ্দের-বাড়ি ছাড়া, ঘরে-বাইরে সর্বত্র দাপট খুব। এমনিতে কারও সাতে পাঁচে থাকে না। কিন্তু তার সঙ্গে ছ্যাঁচড়ামো করতে এলে পার পাবে না কেউ। আশপাশের লোকে ওকে সমঝে চলে।

ক্লাস সিক্স পর্যন্ত বিদ্যে জগার। ফাঁকি দেয়নি বোঝাই যায়। গড়গড়িয়ে বাংলা কাগজ পড়তে পারে। বানান করে করে ইংরেজিও। আর অঙ্কে যে কেমন দড়, সে প্রমাণ তো স্বচক্ষে দেখেছিল লোকে। ফিচেল হারু মুদি এক বার হিসাবের গরমিল করেছিল। ঠকিয়ে পাঁচ টাকা বেশি নেওয়ার ধান্দা। ভুরু কুঁচকে অনেক ক্ষণ ধরে কাগজটা দেখেছিল জগা। তার পরেই হুঙ্কার, “এক থাবড়ায় মুখ ভেঙে দেব, মুদির পো। হতচ্ছাড়া চিটিংবাজ!”

হারু সেই রণং দেহি মূর্তি দেখে ঘাবড়ে ঘ। ল্যাজ-গোটানো কুকুরের মতো মিয়ানো গলায় দু’-এক বার কেঁউ-কেঁউ করেই এক্কেবারে চুপ।

একমাত্র ছেলে তনুর বাইশ বছর বয়স হল। মোবাইলের দোকানে কাজ করে রোজগারপাতি ভাল। কিন্তু বাপের সামনে এখনও একেবারে কেঁচো। বৌ গৌরীও ভিতরে ভিতরে ভয়ই পায়। ঘাঁটায় না সহজে। তবে গৌরী জানে, লোকটার ভিতরে ভিতরে খানিক ছেলেমানুষিও রয়ে গেছে। তনু তখন সবে মাস দুয়েকের। প্রায় রাতেই খিদেয় কেঁদে জেগে যেত ছেলে। গৌরী ঘুমচোখে ছেলেকে বুকের কাছে চেপে ধরত। জগার কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙত না তাতে। তবে এক দিন হঠাৎই ভেঙেছিল। ছেলে তখন চোঁ-চোঁ করে মায়ের বুকের দুধ টানছে। আধো অন্ধকার ঘরে আচমকা ও দৃশ্য দেখে জগা কেমন ফ্যালফেলিয়ে তাকিয়েছিল সে দিকে। তার পর উঠে আলো জ্বালিয়ে কাছ ঘেঁষে গিয়েছিল। চোখ বড় বড় করে একদৃষ্টে তাকিয়েছিল। আরও ভাল করে দেখছে যেন। দেখতে দেখতে এক সময়ে মুখে অদ্ভুত এক হাসি ফুটে উঠেছিল। অবোধ বাচ্চার মতো খুশির হাসি। গৌরী লজ্জা পেয়েছিল। আবার মায়াও হয়েছিল বরের জন্য। শুনেছে, তার জন্মের সময়েই মা মরেছে। সেই কষ্ট নিশ্চয়ই রয়ে গেছে মনে। তবে নিজের দুঃখ-দুর্বলতা বাইরে আনার মানুষই সে নয়। তার পরে এক দিন গৌরী বলতে গিয়েছিল, “আহা, মা কী বস্তু জীবনে জানলে না গা।”

খিঁচিয়ে উঠেছিল জগা, “যাও যাও, নিজের কাজে যাও। ভাট বোকো না।”

গৌরী বিরক্ত হয়ে নিচু গলায় গজগজ করেছিল, “ব্যাটাছেলে নিজের তেজের চোটেই গেল, একটা ভাল কথা বলতে গেলেও দোষ...”

তবে মা-বেটায় পটে খুব। ছেলের সব কথাবার্তা মায়ের সঙ্গেই। চুপি চুপি। জগা সে সব জানতেও পারে না।

এমনিতে জগা সারা দিন নিজের কাজ নিয়েই ব্যস্ত। ইদানীং যে তার ঘরে কুয়াশার মতো এক ‘টেনশন’ ঘনিয়ে উঠেছে, তা নজরে আসেনি তার। মায়েতে-ছেলেতে শুকনো মুখে শলা-পরামর্শ চলে। মাঝে মাঝে উপায় না দেখে তিতিবিরক্ত হয়ে মা খেঁকিয়ে ওঠে, “ভাব করার আর মেয়ে পেলি না? একে বিধবা— তার ওপর আবার—”

তনু জিভ দিয়ে শুকনো ঠোঁট চাটে। নিজেকে সামলে নিয়ে উদাস স্বরে বলে, “যদি না চলে, গলার দড়ি তো আর কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।”

গৌরী তখন হাঁ-হাঁ করে ওঠে, “দুগ্‌গা দুগ্‌গা! অমন কথা মুখ থেকে বারও করিস নে বাবা। আমি কি তাই বলেছি? কিন্তু তোর বাপকে তো চিনিস।”

এই বিদ্‌ঘুটে প্রণয়পর্বটিতে ফেঁসে মহা ফাঁপরে পড়ে গেছে বেচারা তনু। কিন্তু বাবলির ওই পানপানা মুখ, ছোট্ট কপাল আর টানা চোখ দুটো স্বপ্নের মধ্যেও ডাকে তাকে। দেখলে মনে হয়, এ মেয়ের বুকের মধ্যে যেন ছায়াঢাকা এক পুকুর রয়েছে। দু’দণ্ড তার সঙ্গে কথা কইলেও শান্তি। চার বছর আগে বয়স যখন পনেরো, তখন বিয়ে হয়েছিল তার। দেড় বছরের মধ্যে তিন মাসের ছেলে কোলে বিধবা। আহাম্মক বরটা মোবাইল কানে রেললাইন পেরোতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়েছিল। বাবলির সামান্য যেটুকু গয়না ছিল, শ্বশুরবাড়ির লোক তা-ও কেড়ে নিয়েছে। ছেলেসুদ্ধু তাড়িয়ে দিয়েছে ‘অলক্ষুনে’ ‘রাক্ষুসি’ বলে। সেই থেকে বাপের ঘরে দিন কাটছে। মজুর বাপ তার এখনও পর্যন্ত এই মেয়ের বিয়ের দেনাই শোধ করে উঠতে পারেনি। এর নীচে আরও দুটো বোন। কনট্রাক্টর মাঝে মাঝে বসিয়ে দেয়। পুরো টাকা হাতে মেলে না।

চতুর্দিকে জেরবার হয়ে মাঝে মাঝে মায়ের মেজাজ চড়ে যায়। মরা জামাইকে কষে গাল পাড়ে। কখনও বা বেমক্কা পিটিয়ে দেয় নাতিটাকে। ককিয়ে কেঁদে ওঠে বাচ্চাটা। বাবলি মায়ের হাত ছাড়িয়ে টেনে নেয় ছেলেকে। মা তখন বাবলিকে নিয়ে পড়ে। সব খুইয়ে ‘আপদ বালাই’ নিয়ে মেয়ে কিনা ঘাড়ে চড়ে গিলতে এল! তার পর মেজাজের পারা নামলে নিজেই কেঁদেকেটে বুক চাপড়ে একাকার করে। বাপের বাড়ি যেন বিষ হয়ে উঠেছে বাবলির কাছে।

তনু বলেছে, বিধবা বলে তবুও যদি মেনে নেয়, ছেলে সমেত বাবলির ও বাড়িতে যাওয়া চলবে না কিছুতেই। অভিমানী গলায় বাবলি বলেছে, “এখানে যে কেউ ওকে দু’চক্ষে দেখতে পারে না...”

তনু বলে, “কেন, আমি টাকা দেব যা লাগবে। আসল কথা হল টাকা, তোমার মা রয়েছে, দু’-দুটো বোন... টাকা পেলে ঠিকই দেখবে। তুমি ইয়ে... মাঝে মাঝে আসবে...” শেষের লাইনটা বলতে গিয়েও, নিজের বাপের মুখ মনে করে গলা কাঁপে তনুর।

গলায় দড়ি, বিষ খাওয়া ইত্যাদি ভয় দেখিয়ে মা-কে কব্জা করে ফেলা সোজা। কিন্তু বাবা? বাবা এখনও পর্যন্ত কিছুই জানে না। শুনলে কী মূর্তি ধরবে কে জানে! একে বিধবা, তায় বাচ্চা সমেত মেয়েমানুষ— দক্ষযজ্ঞ লেগে যাবেই।

পৌষ সংক্রান্তি কেটে গেছে। তবু পিঠে গড়ার পালা চলেইছে গৌরীর। দু’-চারটেতে পোষাবে না। পিঠে হলে জগা রাতে ভাত খায় না। দুপুরে গোকুল পিঠের জন্য নারকেলের ছাঁই তৈরি করেছে। ওদিকে চিনির রস ফুটছে। গরম গরম ভেজে রসে ফেলার অপেক্ষা। এ দিকে পাটিসাপটা, দুধপুলিরও আয়োজন চলেছে।

জগা মুখ ফুটে কোনও দিন রান্নার ভালমন্দ বলে না। কিন্তু হাবভাব দেখে আজ গৌরী বুঝেছে যে, পিঠে খেয়ে মনটা তার খুশ। গৌরীর বুক ধুকপুক করছে। খাওয়ার পরে মশলার কৌটো এগিয়ে দিয়ে বলল, “যদি রাগারাগি না করো, একটা কথা বলি।”

গৌরী ফিকে একটা হাসি হাসল, “বলি কী, ছেলে যে দিনে দিনে বিয়ের যুগ্যি হয়ে উঠল। বিয়ে তো দেখাশুনো করে দিতেই হত, তা ছেলে ও কাজটা সেরে রেখেছে। দিব্যি দেখতে শুনতে গো সে মেয়ে। ছবি দেখেছি। ঠান্ডা স্বভাব। তিন বোনের মধ্যে বড়। বাপ নবীনপুরের ওদিকে থাকে, তবে দিতে-থুতে পারবে না। গরিব গেরস্ত...” একটু থমকায়।

জগার মুখে হাসি ফোটে, “ভাল কথা তো! আমরা কি মেয়ের বাপের দেওয়া-থোওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি? একটা ছেলে আমার। তা পণের কড়ি নিয়ে কি বেচে দেব তাকে?”

গৌরীর বুকের মধ্যে ঝড় বয়। সে জানে, ঘরের চেহারা পুরো পাল্টে যাবে এক্ষুনি। ঠাকুরকে স্মরণ করে বুকের মধ্যে বইতে থাকা ঝড়ের তোড়েই এ বার ভাসিয়ে দেয় বাকি কথাগুলোকে।

“একটিই খুঁত। মেয়েটা বিধবা। একটা ছেলে কোলে... তবে আমি সাফ বলে দিয়েছি, অন্য রক্তের ঝাড় এ বাড়িতে আনা চলবে না। তার দাদামশাই-দিদিমা আছে, মাসিরা আছে, নেহাত তনুর মন পড়েছে তাই, বলেছে ও মেয়ের সঙ্গে বিয়ে না দিলে গলায় দড়ি দেবে গো, নয়তো তনুর আমার বিয়ের ভাবনা! ওগো তুমি অমত কোরো না, ও বাচ্চা এ বাড়ির চৌকাঠ মাড়াবে না। জানি পাঁচ জনে পাঁচ কথা বলবে... কিন্তু আমাদের ছেলের প্রাণটা তো আগে... বলো না গো...”

এক নিঃশ্বাসে বলে চলে গৌরী। তার কথা এলোমেলো হয়ে যায়। এ বার বুঝি আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ হবে। বরের মুখের দিকে তাকাতে পারছে না সে। ব্যাকুল হয়ে নিজের হাতের নোয়াটা ঘোরাতে থাকে শুধু।

একটাও কথা বলে না জগা। কেমন থম মেরে চেয়ে থাকে। গৌরীর মনে হয়, যেন বুঝতে পারছে না কথাগুলো। তার পর কেমন অচেনা মানুষের মতো এলোমেলো পায়ে ঘরে চলে যায় জগা।

নিজের মধ্যেকার হু-হু খাদের সামনে দাঁড়িয়েছে এখন সেই মানুষটা। ঝুঁকে দেখছে তল নেই তার। আগুনের ভাপ উঠে আসছে। একটা মেয়েলি গলা চিৎকার করছে। নোংরা গালাগালের বন্যা। ঝনঝন করে কী পড়ল... আরও একটা... আরও একটা... তার পরে কী যেন! ছবি, শব্দেরা তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। ঘরে ভ্যাপসা গন্ধ! ভাত পুড়ে গেছে! নোংরা জামা ডাঁই হয়ে পড়ে আছে মেঝেতে। কে যেন বলছে, “তোর মা তোকে ফেলে পিরিতির লোকের সঙ্গে ভেগেছে...” কী নিষ্ঠুর ওই গলাটা। কারা যেন কুৎসিত হাসি হাসছে। আঙুল উঁচিয়ে দেখাচ্ছে... “ওই ছেলেটা! ওই ছেলেটা! ওর মা ওকে ফেলে চলে গেছে।” কলতলায়, গলির মোড়ে, শনিমন্দিরের সামনে... কারা বলে? দিন রাত সারা ক্ষণ?

ছেলেটা চার দিকে বোবা চোখ তুলে খুঁজে চলে, মায়ের মুখ, কপালের বড় টিপটা, মায়ের গন্ধমাখা কাপড়! মুঠোর মধ্যে তার ধরা পড়ে কেবল খাদের ফাঁকা। কোথাও কিছু নেই।

এক দিন ট্রেনে চড়ে ছেলেটা, বাবার সঙ্গে। অনেক পিছনে পড়ে থাকে ঘরটা। ট্রেনের জানলায় আড়ের দিকে গাঁথা ঠান্ডা গরাদগুলোতে মুখ ছোঁয়ায়। হু হু হাওয়া বয়। গাছপালা ছোটে পিছন দিকে। ধুলোয় ভরে যায় তার চুল, সারা মুখ, হাত।

কত পথের শেষে নতুন ঘর পায়। এক চিলতে ঘরের বারান্দায় বসে আটা মেখে স্টোভে রুটি বানায় বাবা। কত সময়ে পুড়ে যায়। ঘরে কেরোসিনের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। কানে আসে বাবা কাদের যেন বলে, “জন্ম দিতে গিয়ে ওর মা মরেচে গো। মা-হারা ছেলেটা আমার।”

ওই কথাটাই আঁকড়ে ধরে সে-ও। কেউ এখানে নিষ্ঠুর তামাশা করে না। পাশের ঘরগুলোর মাসি-কাকিরা নরম চোখে তাকায়। খিচুড়ি ইস্কুল ভাল লাগে তার। আরও ভাল লাগে, বিভূতিজেঠার ঘরটা। আধা অন্ধকার ঘরে হরেক যন্ত্রপাতি। প্লায়ার্স, স্ক্রু ডাইভার, এক্সটেনশন বাক্স, এমনই সব নাম তাদের। বিভূতিজেঠা বাড়ি এলেই ছেলেটা পায়ে পায়ে গিয়ে ঢোকে তার ঘরে। ওখানকার হাওয়া জুড়ে ধুলোর গন্ধ। নীচে নামিয়ে আনা তারের মুখে একটা বাল্‌ব জ্বলে। তার তলায় বসে ভুরু কুঁচকে কী যেন কাজ করে চলে বিভূতি। কী সব পজ়িটিভ... নেগেটিভ... আলোর ফুলকি ঝিকিয়ে ওঠে।

রাত করে ছেলে ফেরে। এক বুক ভয় নিয়ে মায়েতে ছেলেতে ফিসফিসানি চলে।

আচমকা দরজা খুলে বেরিয়ে আসে জগা, যেন একটা বুনো মোষ। দু’চোখ জ্বলছে। শ্বাস পড়ছে ঘন ঘন। চাপা গর্জন করে ওঠে, “ঘরে আনতে হলে দু’জনকেই আনতে হবে। মা-বাচ্চাকে দু’ঠাঁই করতে দেব না। খবরদার!”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Bengali Short Story Bengali Story Short story

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy