E-Paper

এ এক ব্যতিক্রমী নির্বাচন

১৯৮৩-র আইএমডিটি আইন থেকে শুরু করে ২০১৯-এর এনআরসি রিপোর্ট পর্যন্ত সময় লেগেছিল ছত্রিশ বছর।

পার্থ চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ ০৮:৪৮
উৎকণ্ঠা: এসআইআর-এর শুনানিতে অপেক্ষমাণ নাগরিকরা। কৃষ্ণনগর, ফেব্রুয়ারি ২০২৬। পিটিআই

উৎকণ্ঠা: এসআইআর-এর শুনানিতে অপেক্ষমাণ নাগরিকরা। কৃষ্ণনগর, ফেব্রুয়ারি ২০২৬। পিটিআই

নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হয়ে গেছে। কিন্তু যে এসআইআর বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে গত কয়েক মাস রাজ্যে তোলপাড় চলেছে, তার এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। ২৩ আর ২৯ এপ্রিল কারা ভোট দিতে পারবেন, কারা পারবেন না, তা এখনও সঠিক জানা গেল না। শোনা যাচ্ছে, যাঁদের নাম বিবেচনাধীন ছিল, তাঁদের আবেদনগুলির যেমন যেমন নিষ্পত্তি হচ্ছে সেই অনুযায়ী প্রতি দিন নাকি সংযোজিত তালিকা প্রকাশিত হবে। তার পরেও ভোটের দিন পর্যন্ত যাঁদের নাম বিবেচনাধীন তালিকায় থেকে যাবে, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন কি না জানা নেই। সুতরাং বাদ-প্রতিবাদ, কাদা ছোড়াছুড়ি, মারামারি, খুনোখুনি নয়, নির্বাচন কমিশনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণেই আজ এ রাজ্যের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে এত বেশি উৎকণ্ঠা আর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় বিচারপতিরা প্রশ্ন তুলেছেন, অন্য রাজ্যেও তো সম্প্রতি এসআইআর হয়ে গেছে। কই, সেখানে তো এত গোলমাল হয়নি? পশ্চিমবঙ্গে হচ্ছে কেন? এর উত্তর অতি সহজ। পশ্চিমবঙ্গে এ বারের এসআইআর কেবল ভোটার তালিকা সংশোধনে সীমিত থাকেনি। প্রথম দিন থেকেই শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তারা, সকলে বলে এসেছেন পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর একটি প্রধান উদ্দেশ্য এই রাজ্যের লক্ষ লক্ষ তথাকথিত অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ভোটারকে শনাক্ত করে তালিকা থেকে বাদদেওয়া। অর্থাৎ, এসআইআর এখানে নাগরিকত্ব নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। অন্য কোনও রাজ্যে তা হয়নি। পশ্চিমবঙ্গ এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম, অভূতপূর্ব ব্যতিক্রম।

অনেকের মনে থাকতে পারে, অসমেও নাগরিকত্ব যাচাই করা হয়েছিল। ১৯৮৩-র আইএমডিটি আইন থেকে শুরু করে ২০১৯-এর এনআরসি রিপোর্ট পর্যন্ত সময় লেগেছিল ছত্রিশ বছর। তার পরেও ফলাফল নিয়ে অসমে ব্যাপক অসন্তোষ রয়ে গেছে। সেই একই কাজ অনেক বড় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে সম্পন্ন করার চেষ্টা হল তিন মাসে। পিতৃপরিচয়, জন্মস্থান, বাসস্থান ইত্যাদি সংক্রান্ত নথির সাহায্যে প্রত্যেক ভোটারের ‘ম্যাপিং’ করার পর দেখা গেল অনেকের ক্ষেত্রেই ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’ বা যুক্তিগত অসঙ্গতি রয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্র থেকেই শোনা গেল, বিশ-পঁচিশ কি আরও বেশি ভোটার নাকি একই পিতার সন্তান বলে দাবি করেছেন। পরে যখন কয়েক কোটি ভোটদাতার শুনানির পর ৬০ লক্ষ মতো ভোটারের নাম বিবেচনাধীন বলে ঘোষণা করা হল, দেখা গেল বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অসঙ্গতির কারণ একই ভোটারের বিভিন্ন নথিতে নিজের নাম বা পিতার নামের পূর্ণ অথবা সংক্ষিপ্ত রূপ কিংবা একাধিক বানান। এই সব অসঙ্গতি এখন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জেলা আদালতের প্রায় ছয়শো বিচারপতি খুঁটিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

গত কয়েক মাসে সাধারণ রাজ্যবাসীর মনে এসআইআর নিয়ে যে উৎকণ্ঠা দেখা গিয়েছে, তা প্রায় তুলনাহীন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকা দেখে নিজের নাম খোঁজা থেকে শুরু করে এনুমারেশন ফর্ম সংগ্রহ করা, তা ভর্তি করা, স্টুডিয়োতে গিয়ে ফটো তোলা, প্রয়োজনীর নথি জোগাড় করা, স্থানীয় বিএলও-র সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, সময়মতো শুনানিতে হাজির হওয়া— অন্য কাজকর্ম শিকেয় তুলে, প্রয়োজন হলে বিদেশের কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরে, বৃদ্ধ বা অসুস্থ আত্মীয়দের সঙ্গে নিয়ে এত সব কিছু করতে হয়েছে। তার মধ্যে আবার নিত্যনতুন নির্দেশ যার অর্থোদ্ধার করতে সাধারণ মানুষ কেন, বিএলও, রাজনৈতিক নেতা, আমলা, সকলেই গলদঘর্ম। এত কিছুর পর রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা— নতুন তালিকায় নাম উঠল তো? উঠল কি না জানা যাবে কী করে? না উঠলে কী করতে হবে? অন্য সময় হলে অনেকেই হয়তো হাল ছেড়ে দিয়ে বলতেন, মরুক গে যা, এ বার আর ভোটই দেব না! এত হ্যাপা পোষায় না! কিন্তু তা বলার উপায় নেই। কারণ এ তো যেমন-তেমন ভোটার লিস্ট নয়। এই তালিকায় নাম থাকা না-থাকার সঙ্গে আর কত কী যে জড়িয়ে যাবে, কে বলতে পারে? কারণ নাম বাদ যাওয়া মানে তো নিজের নাগরিকত্বের পাশেই প্রশ্নচিহ্ন পড়ে যাওয়া। তার পর কি আর সরকারি সুযোগসুবিধা পাওয়া যাবে? জমিজমা-সম্পত্তির মালিকানা বজায় থাকবে? শিক্ষা-চাকরির রাস্তা খোলা থাকবে? এত দিন ধরে যে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা নিতান্তই স্বাভাবিক মনে করতাম, তা কি আর স্বাভাবিক থাকবে? লোকে কি সন্দেহের চোখে তাকাবে? হুমকি দেবে? সরকারি দফতরে গেলে কি শুনতে হবে, ‘ভোটার তালিকায় নাম নেই, তুমি তো অনুপ্রবেশকারী’?

সে ঝুঁকি তো আর নেওয়া যায় না। তাই শত হেনস্থা আর গ্লানি মুখ বুজে না-হলেও নিরুপায় হয়ে সহ্য করতে হয়েছে। সবাই তা পারেননি। কয়েক সপ্তাহ ধরে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খবর এসেছে, এসআইআর-জনিত মানসিক উদ্বেগ সহ্য করতে না-পেরে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, কেউ কেউ আত্মহত্যা পর্যন্ত করেছেন। স্বভাবতই মানুষের মধ্যে এমন ব্যাপক অসন্তোষের ঢেউ রাজনীতির নেতা-কর্মীদের গায়ে এসে লেগেছে। বিজেপি নেতারা বলার চেষ্টা করেছেন, সমস্ত অবৈধ বহিরাগত ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার মহৎ কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে, তাতে বৈধ নাগরিকদের অল্পবিস্তর অসুবিধা হলেও তাঁরা তা মেনে নেবেন। অন্য দিকে, বিজেপি-বিরোধী দলগুলো নির্বাচন কমিশন তথা কেন্দ্রীয় সরকারের জুলুম নিয়ে সরব হয়েছে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো প্রতি দিন কমিশনের প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়ে তোপ দেগেছেন। এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় তিনি নিজে আইনজীবীর পোশাক পরে হাজিরা পর্যন্ত দিয়েছেন। এই রাজনৈতিক চাপের ফলেই শেষ পর্যন্ত শীর্ষ আদালত হস্তক্ষেপ করে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা তৈরির শেষ পর্বের কাজ প্রশাসনিক কর্মীদের হাত থেকে সরিয়ে বিচারবিভাগের হাতে অর্পণ করেছে। অভূতপূর্ব ব্যতিক্রম। ভারতের কোনও রাজ্যে এমনটা কখনও ঘটেনি।

যে ৬০ লক্ষ ভোটদাতার নাম ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তাঁদের মধ্যে কোনও বিশেষ গোষ্ঠীর মানুষ বেশি সংখ্যায় আছেন কি না, তাই নিয়ে জল্পনা চলেছে। শোনা গেছে, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া প্রভৃতি জেলার অনেক কেন্দ্রে নাকি জনসংখ্যার তুলনায় বেশি অনুপাতে মুসলিমদের নাম ওই তালিকায় ঢুকেছে। সেটা যদি নাম বিভ্রাটে হয়ে থাকে, তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। এমনিতেই আরবি-ফারসি নামের বাংলা বানানের কোনও সর্বজনগ্রাহ্য রীতি নেই। তার উপরে আঞ্চলিক উচ্চারণে তা প্রায়শই বিভিন্ন রূপ ধারণ করে। ফলে বিভিন্ন নথিতে একই মুসলিম ভোটদাতার নাম অথবা পিতার নাম একাধিক বানানে লিপিবদ্ধ হওয়ার ফলে ‘যুক্তিগত অসঙ্গতি’ দেখা গিয়ে থাকতে পারে।

অনেক মহলেই অবশ্য ধারণা, মুসলিমরা অধিক অনুপাতে ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় থাকার কারণ পদ্ধতির সমস্যা নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন যতটা পারা যায় মুসলিম ভোটারের সংখ্যা কমাতে চাইছে। মহিলা-ভোটার নিয়েও একই অভিযোগ উঠেছে। বিয়ের পর মেয়েদের পদবি আর ঠিকানা বদল হয়, ফলে সব নথিতে একই নাম-ঠিকানা থাকে না। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা বলছেন, লক্ষ্মীর ভান্ডার ইত্যাদি নানা প্রকল্পের জন্য মহিলারা বেশি সংখ্যায় তৃণমূলকে ভোট দেন, তাই তাঁদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। অন্য দিকে, উত্তর চব্বিশ পরগনা এবং নদিয়ার কয়েকটি কেন্দ্রে মতুয়া ভোটারদের মধ্যে অনেকেই প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে না-পারায় তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ আবার নাগরিকত্ব সংশোধন আইন অনুসারে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করে ভারতীয় নাগরিক হওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন, কিন্তু এখনও নাগরিকত্ব পাননি। গত নির্বাচনে ভোট দেওয়া সত্ত্বেও তাঁরা এ বারে ভোট দিতে পারবেন না।

২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি তাদের ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’ স্লোগান নিয়ে তৃণমূলের দুর্নীতি-অপশাসন হটিয়ে শিল্পোন্নয়ন, চাকরি আর জনকল্যাণের জোয়ার বইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। লাভ হয়নি। তাদের আসনসংখ্যা কমে গিয়েছিল। এ বার যে তাদের প্রচারের প্রধান বিষয় অনুপ্রবেশ আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তথাকথিত মুসলিম তোষণ, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। মুসলিম অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যাবৃদ্ধির ফলে পশ্চিমবঙ্গের জনবিন্যাস নাকি এত দ্রুত বদলে যাচ্ছে যে শীঘ্রই আবার নতুন করে দেশভাগের দাবি উঠতে চলেছে। অন্য দিকে, গত বার তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলার বাইরের নেতা-কর্মীদের নিয়ে এসে হিন্দিভাষী সংস্কৃতি আমদানি করার অভিযোগ এনেছিল। এ বার তাই বিজেপির প্রচারে মুহুর্মুহু বঙ্কিম-রবীন্দ্রনাথ-বন্দে মাতরম্-জয় মা কালী ইত্যাদি ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। অপর পক্ষে মুসলিম তোষণের অপবাদ ঘোচানোর জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী জগন্নাথ মন্দির, মহাকাল মন্দির ইত্যাদি স্থাপন করে কড়াপাক হিন্দুত্বের বিরুদ্ধে নরমপাক হিন্দুত্বের আশ্রয় নিয়েছেন। অন্য বিরোধী দলের মধ্যে গত বারের মতো বাম-কংগ্রেস ঐক্য থাকছে না, তারা আলাদা লড়ছে।

বিজেপির আশা, একাদিক্রমে পনেরো বছর সরকারে থাকার ফলে একটা শাসক-বিরোধী হাওয়া নিশ্চয় এ বার তৃণমূল কংগ্রেসকে টলিয়ে দেবে। শহরাঞ্চলে যে শাসক-বিরোধী মনোভাব যথেষ্ট আছে, তা দৈনন্দিন কথাবার্তাতেই স্পষ্ট শুনতে পাওয়া যায়। দুর্নীতি, দলবাজি, গাজোয়ারি, তোলাবাজি, চাকরির অভাব, সরকারি প্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থা, এই সব নিয়ে শহরের অধিকাংশ মানুষ তিতিবিরক্ত। প্রশ্ন হল, ভোটের দিন যত এগিয়ে আসবে, কত সংখ্যায় শহরবাসী মনস্থির করবেন যে এ বার তাঁদের ভোটে বিজেপি ক্ষমতায় আসাটাই কাম্য। ও-দিকে গ্রামাঞ্চলের মানুষের হিসেব কিন্তু অন্য। নানা জনকল্যাণ প্রকল্পের উপর তাঁদের অনেকেই নির্ভরশীল। তা ছাড়া শহরের কেন্দ্রের তুলনায় গ্রামের কেন্দ্রের সংখ্যা অনেক বেশি।

নির্বাচন কমিশনের অভূতপূর্ব তৎপরতা, বিপুল সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি, নতুন রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়েও পশ্চিমবঙ্গের এই ব্যতিক্রমী নির্বাচনের প্রাক্কালে জল্পনা চলেছে। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার আগে থেকেই নির্বাচন কমিশন এই রাজ্যের প্রশাসন আর পুলিশকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক রদবদল শুরু করে দিয়েছে। এখন প্রতি বিধানসভা কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসারদের ঝাড়াইবাছাই চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এ যেন অঘোষিত রাষ্ট্রপতির শাসন। জোগাড়যন্ত্রের বহর দেখে প্রবীণেরা অনেকে বলছেন, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, মণিপুর, জম্মু-কাশ্মীরে এককালে এই ভাবে ভোট হত বটে; তবে তফাত হচ্ছে, সে-সব নির্বাচনে স্থানীয় শক্তিশালী রাজনৈতিক দলগুলো ভোটে দাঁড়াত না, ভোট বানচাল করার চেষ্টা করত। এখানে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো শুধু ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে না, আপ্রাণ চেষ্টা করছে তাদের সমর্থকদের সঙ্ঘবদ্ধ করে ভোটের দিন বুথে বুথে নিয়ে এসে ভোট দেওয়াতে। ফলে উত্তাপ যে ক্রমশ বাড়বে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

নতুন রাজ্যপালের আকস্মিক আবির্ভাবেও জল্পনার অন্ত নেই। আর এন রবি প্রাক্তন পুলিশকর্তা, কর্মজীবনে গোয়েন্দা হিসাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছিলেন, সিবিআই আইবি দফতরের শীর্ষে ছিলেন। পরে সীমান্ত রাজ্য নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল নিযুক্ত হন তাঁর এই প্রশাসনিক দক্ষতার সুবাদে। সম্প্রতি তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হিসাবে তিনি নানা রাজনৈতিক আর ধর্মীয় বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে সে রাজ্যের ডিএমকে নেতৃত্বের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। বিধানসভার অধিবেশন শুরুর দিন প্রথা মেনে সরকারের প্রস্তুত করা বিবৃতি পাঠ না-করেই তিনি সভা ছেড়ে চলে যান। এ-হেন কড়া রাজ্যপালকে ঠিক এই সময় পশ্চিমবঙ্গে পাঠানোর পিছনে কেন্দ্রের কোনও চক্রান্ত লুকিয়ে আছে কি না, তাই নিয়ে স্বভাবতই তৃণমূল নেতারা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

আগামী কয়েক সপ্তাহ যে ঘটনাবহুল হতে চলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু একটা বিষয় সব রাজনৈতিক দলাদলির ঊর্ধ্বে,অর্থাৎ ‘এক জন বৈধ ভোটারও তাঁর ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন না’, এই নীতি যেন পালিত হয়, সেটা দেখা এখন বিচারবিভাগের কর্তব্য। এটাই রাজ্যবাসীর কাম্য।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

SIR

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy