Advertisement
E-Paper

এই গভীর অসুখ সারছে না কেন?

একের পর এক হাসপাতাল সোমবার রাতে যে ভাবে ভর্তি নিতে অস্বীকার করল পুলিশকর্মী তাপস ঘোষের বাবাকে তাকে দুর্ভাগ্যজনক এবং লজ্জাজনক ছাড়া আর কিছু বলা যাচ্ছে না।

অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০১৯ ০০:৫৪
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

শুধু জনমুখী বা সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্প ঘোষণা করলেই চলে না, প্রায় প্রতি পদক্ষেপে সতর্ক এবং কঠোর নজরদারি রাখতে হয় তার রূপায়ণের দিকে। এই নজরদারি না থাকলেই প্রশাসনের একেবারে নাকের নীচে বসেই চলে অধিকার থেকে বঞ্চিত করার খেলা। সোমবার রাতভর এক পুলিশকর্মীর অভিজ্ঞতা তেমনই আখ্যান লিখল।

পুলিশকর্মী তাপস ঘোষের বাবা মধু ঘোষ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন মূত্রনালীর সংক্রমণে। নবদ্বীপ থেকে বাবাকে কলকাতায় তো তাপস ঘোষ নিয়ে এলেন। কিন্তু তার পরে রাতভর যে দুঃস্বপ্ন তাঁকে দেখতে হল, বাবার জীবদ্দশাতে তো বটেই, নিজের আয়ুষ্কালেও তিনি তা বলতে পারবেন কি না, সে নিয়ে সংশয় রয়েছে। সরকারি কর্মীদের এবং তাঁদের পরিবারের জন্য যে স্বাস্থ্যবিমার ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার, সেই বিমায় বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও ক্যাশলেস চিকিত্সা পাওয়ার কথা রাজ্য সরকারি কর্মীদের বা তাঁদের পরিজনদের। কিন্তু নামী বেসরকারি হাসপাতালগুলো সেই ক্যাশলেস পরিষেবা দিতে একেবারেই ইচ্ছুক নয় বলে অভিযোগ। একের পর এক হাসপাতাল সোমবার রাতে যে ভাবে ভর্তি নিতে অস্বীকার করল পুলিশকর্মী তাপস ঘোষের বাবাকে তাকে দুর্ভাগ্যজনক এবং লজ্জাজনক ছাড়া আর কিছু বলা যাচ্ছে না।

রাজ্য সরকারের স্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে। কোন কোন হাসপাতাল সরকারি স্বাস্থ্যবিমার আওতায় নগদহীন চিকিত্সা পরিষেবা দিতে বাধ্য, তার সুনির্দিষ্ট তালিকা রয়েছে। তা সত্ত্বেও প্রত্যাখ্যাত হচ্ছেন নাগরিক। এমন সব হাসপাতাল পরিষেবা দিতে অস্বীকার করছে, অত্যন্ত সুবিদিত ভাবেই যেগুলোর দিকে খুব কড়া নজর রয়েছে রাজ্য সরকারের। এমন এক নাগরিককে প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে, যিনি নিজে এক জন পুলিশ অফিসার। এক বার ভাবুন! কলকাতা থেকে দূরে বা রাজ্যের বিভিন্ন প্রত্যন্ত প্রান্তে সরকারের নিরন্তর নজরদারির বাইরে যে সব বেসরকারি হাসপাতাল, সেখানে তা হলে পরিস্থিতিটা কী রকম? তাপস ঘোষের মতো পুলিশ অফিসার যাঁরা নন, নাগরিক হিসেবে যাঁরা আরও সাধারণ, তাঁদের জন্য পরিস্থিতিটা তা হলে কী রকম?

সম্পাদক অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা আপনার ইনবক্সে পেতে চান? সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন

রাজ্যের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে এই রকম নানা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির খবর প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহলেও রয়েছে। খবর রয়েছে বলেই বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারীদের স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু সতর্কবার্তা দিয়েই যে প্রশাসন ক্ষান্ত হয়েছে, নজরদারি যে চলছে না এমন নয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রশাসনিক ভরকেন্দ্রের একেবারে নাকের ডগায় বসে বেশ কিছু বেসরকারি হাসপাতাল সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতায় পরিষেবা না দেওয়ার যে সব ফিকির খুঁজে বার করছে, তা দেখলে বিস্মিত হতে হয়। এ রাজ্যের বর্তমান সরকার যে সব ক্ষেত্রের উন্নতিতে অগ্রাধিকার দিয়েছে, স্বাস্থ্য পরিষেবা সেগুলোর অন্যতম। রাজ্যের প্রত্যেক নাগরিকের কাছে সুলভে সুচিকিত্সার বন্দোবস্ত পৌঁছে দেওয়ার নানা প্রকল্প হল মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প। বহু বিজ্ঞাপিত এবং বহু চর্চিত এই সব প্রকল্পের কথা এখন মুখে মুখে ফেরে। তা সত্ত্বেও বঞ্চিত হতে হচ্ছে নাগরিককে। স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রের পরিস্থিতিটা তা হলে কতটা অস্বাস্থ্যকর, এ বার বোঝা যাচ্ছে কি? সরকারের প্রত্যক্ষ নজরদারির আওতায় থেকেও নামী বেসরকারি হাসপাতালগুলোর এই দুঃসাহস হয় কী ভাবে? বজ্র আঁটুনিতেই কি ফস্কা গেরো হল?

আরও পড়ুন: অসুস্থ বাবাকে নিয়ে দৌড় সাব-ইনস্পেক্টরের, সরকারি বিমা শুনেই মুখ ফেরাল ৪ হাসপাতাল

Newsletter Anjan Bandyopadhyay অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় Medical Negligence Health Insurance Cashless Treatment Sub Inspector Health Police
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy