খাজনা তো কবেই মকুব হয়েছে!

• স্বাতী ভট্টাচার্য (‘খাজনা মকুব করে...’, ২৮-৪) খুব সঙ্গত কয়েকটি প্রশ্ন তুলে ধরেছেন। প্রথম প্রশ্ন, ঠিক কী মকুব হয়েছে, ভূমি সংস্কার বিভাগের অফিসাররা এখনও জানেন না। এতে অস্বাভাবিকতার কিছু নেই। বর্তমান রাজ্য সরকারের এ রকম চটকদারি চমকদারি ঘোষণা সরকারি নথিতে সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই মিডিয়াতে প্রচারিত হয়। চটকদারি চমকদারি বলছি এই কারণে যে, সেচসেবিত এলাকায় ছয় একর (অ-সেচসেবিত এলাকায় আরও বেশি) পর্যন্ত কৃষি জমির খাজনা ১৯৮৫ সাল থেকেই মকুব। চাষিদের দিতে হয় শুধু পিডব্লিউ সেস, শিক্ষা সেস এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান সেস বাবদ সামান্য অঙ্ক। অঙ্কটি এতই সামান্য যে চাষিদের কাছ থেকে এই সেস বাবদ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বার্ষিক আয় মাত্র ৬-৭ কোটি টাকা। কিন্তু এই সামান্য অঙ্ক মকুব করা হয়নি। কারণ, কৃষকদের কাছে তা হলে তাদের জমি সংক্রান্ত কোনও নথিই থাকবে না। জমির রেকর্ড অব রাইটস (আরওআর) চাষির জীবনে বহু বিষয়ে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। মুখ্যমন্ত্রী কি এই সেসগুলো তুলে দিয়ে চাষিকে তাদের আরওআর পাওয়া থেকে বঞ্চিত করে যাচ্ছেন? সে ক্ষেত্রে তো তিনি চাষির উপকার না করে অপকার করবেন। এই প্রসঙ্গে উঠে এসেছে মিউটেশন ও কনভারশন-এর প্রশ্ন। ভূমি সংস্কার বিভাগে এই দুই কাজের ক্ষেত্রেই সীমাহীন অনিয়ম। রাজ্যের বাজেট বইয়ে এই কাজ বাবদ ফি আদায়ের যে হেড অব অ্যাকাউন্ট রয়েছে সেখানে আদায়ের পরিমাণ শূন্য দেখানো রয়েছে। ধরে নেওয়া যেতে পারে যে, এই কাজের জন্য বিপুল পরিমাণ আদায়ীকৃত অর্থ ‘ঘুষ’ হিসেবেই পকেটস্থ হয়ে চলেছে। এ ব্যাপারে ভূমি সংস্কার তথা মুখ্যমন্ত্রী কিছু করবেন কি?

সুখবিলাস বর্মা

জলপাইগুড়ি

 

প্লাস্টিক ইত্যাদি

• বাঁকুড়া জেলা পরিষদ নববর্ষ উদ্‌যাপন করল। ১৪২৪ সালকে স্বাগত জানাতে বাঁকুড়া জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে বিকেল ৫টায় বিচিত্রানুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। আয়োজনের কোনও রকম ঘাটতি ছিল না। গলা ভেজানোর জন্য শরবত, লস্যির স্টল ও প্রাঙ্গণের আশেপাশে ফুচকা ও পাপড়ি চাটের স্টল সবই বিনা পয়সায়। নববর্ষকে স্বাগত জানাতে নামীদামি শিল্পীর বাংলা ও হিন্দি গানের আসর বসেছিল। হাজির ছিলেন পুরসভার কর্তাব্যক্তিগণ ও প্রশাসনের ছোট-বড় কর্তারা। বাংলা গানের চেয়ে হিন্দি গানের প্রাধান্য ছিল। কর্তাব্যক্তিরা তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করলেন।

শরবত, লস্যি ও ফুচকা, পাপড়ি চাটের জন্য লম্বা লাইন। প্লাস্টিক গ্লাসে শরবত ও লস্যি আর থার্মোকলের বাটিতে ফুচকা, পাপড়ি চাট হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। খাও আর ফেলে দাও। ডাস্টবিন তুলনায় কম ছিল। ফলে সারা চত্বর কাপ ও বাটিতে ভরে গিয়েছিল। দৃশ্যদূষণ তো বটেই, পরিবেশ দূষণও বইকী।

প্রশাসনের কি সাত খুন মাফ? যা খুশি তা-ই করতে পারে? জনগণ করলে দোষী। পুরসভাও প্রশাসনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছিল। জেলা প্রশাসন ও পুরসভা বাঁকুড়া শহরে প্লাস্টিক গ্লাস, চায়ের কাপ ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছেন। পুরসভা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মাইকে পোস্টারে প্রচার অভিযান চালিয়েছিল। এই দুটি বস্তু ব্যবহারের ফলে মানুষের শরীরে মারণরোগ বাসা বাঁধতে পারে এবং আটকে দিতে পারে জলের স্তর। কিন্তু এই আবেদন-নিবেদনকে তোয়াক্কা না করে দেদার আখের রস লস্যি প্লাস্টিক গ্লাসে বিক্রি হচ্ছে। থার্মোকলের বাটিতে ফুচকা। পাপড়ি চাট ঘুগনি বিক্রি হচ্ছে প্রশাসনের নাকের ডগায়। পুরসভা ও প্রশাসনের কাছে আবেদন, আসুন না, শহরে, বাজারে, গ্রামেগঞ্জে প্লাস্টিক, থার্মোকল নিষিদ্ধ করে নির্মল বাংলা গড়ে তুলি।

সনাগিরি হেম্ব্রম

প্রতাপবাগান, বাঁকুড়া

 

নারী বিবর্জিতা

• কর্মসূত্রে প্রতি দিন সকালে শহিদ ক্ষুদিরাম মেট্রো স্টেশনে উঠে সন্ধ্যায় আবার এই স্টেশনে ফেরত আসতে হয়। যাতায়াতের পথে প্রতি দিন একটি প্রশ্ন কুরে কুরে খায়।

পুরুষের সঙ্গে নারীর তুল্যমূল্য অধিকারের প্রশ্নে যাঁরা সতত সরব, তাঁদের প্রতি আমার অসীম শ্রদ্ধা, কিন্তু তাঁরা কি কখনও একটা ব্যাপার লক্ষ করে দেখেছেন? মেট্রো স্টেশনগুলো যখন একের পর এক পেরিয়ে যায়— কবি সুভাষ, শহিদ ক্ষুদিরাম, কবি নজরুল, মহানায়ক উত্তমকুমার, নেতাজি ভবন, রবীন্দ্র সরোবর, রবীন্দ্রসদন— এমন কত নাম চোখে পড়ে। অনেক স্টেশনের নামই কোনও না কোনও কৃতী পুরুষের নামে।

হ্যাঁ, পুরুষ। সেখানে ঠাঁই নেই কোনও কৃতী মহিলার। অথচ আমাদের বঙ্গে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, রাসসুন্দরী দেবী, জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, সুচিত্রা সেন, তৃপ্তি মিত্র, মহাশ্বেতা দেবী— এমন কৃতী কন্যাদের অভাব নেই। কিন্তু মেট্রো স্টেশনগুলির নামকরণের সময় এক জন বাঙালি কন্যার নামও মনে পড়ল না কর্তৃপক্ষের! এমনকী তার পরেও এখন যখন কলকাতা মেট্রো লাইনের সম্প্রসারণ হচ্ছে, তখনও স্টেশন-নামের ক্ষেত্রে কোনও বঙ্গনারীর নাম চোখে পড়েনি! কেন মেয়েদের প্রতি এই বঞ্চনা?

মধুরাই গঙ্গোপাধ্যায়

কলকাতা-৯৪

 

ভ্যানো প্লাস

• দমদমের বাসিন্দা হিসাবে বিগত দু’ বছর ধরে সকাল-বিকেলে দেখছি মোটর চালিত ভ্যান-রিকশা (যেটা ভ্যানো হিসাবে খ্যাত) শাকসব্জি, লোহা, সিমেন্ট, ইট, পাথর বহন করে নিয়ে চলেছে। কালো ধোঁয়ার জন্যে রাস্তায় যাতায়াত করা যাচ্ছে না। তার সঙ্গে চলছে শব্দদূষণ। মহামান্য উচ্চ আদালত যখন অটো রিকশা বাতিল করে এলপিজি চালিত অটো চালানো বাধ্যতামূলক করল, তার পর এই নতুন দূষণসর্বস্ব ভ্যানো কোথা থেকে এল! প্রশাসনই বা নির্বিকার কেন?

এখানেই শেষ নয়। সম্প্রতি আরও একটি নতুন যান চলছে দমদম অঞ্চলে। সাইকেল রিকশায় মোটর লাগিয়ে ঊর্ধ্বশ্বাসে চলছে রিকশাচালক। সরু চাকার কারণে মাঝে মাঝে দুর্ঘটনা ঘটছে। সওয়ারি আহত হচ্ছেন। দেখার কি কেউ নেই? কী করে পুরসভা বা প্রশাসন এদের লাইসেন্স দিচ্ছেন জানি না। এ ব্যবস্থা আর কত দিন চলবে?

সুবীর সেন

কলকাতা-২৮

 

গড়িয়া স্টেশন

• গড়িয়া হল শিয়ালদহ সাউথ সেকশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাত কারণে স্টেশনটি অত্যধিক অবহেলিত। স্টেশনটি খুবই সংকীর্ণ। প্লাটফর্ম-এর সত্তর শতাংশ জায়গাই হকারদের দখলে। টিকিট কাউন্টারটি ছোট। এর মধ্যে দিয়েই যাওয়া-আসার পথ। তাই সব সময় ধাক্কাধাক্কি লেগেই থাকে। আরও অদ্ভুত ব্যাপার হল, এখানে ট্রেন আসা-যাওয়ার কোনও ঘোষণা হয় না। ফলে যাত্রীদের এগিয়ে গিয়ে দেখতে হয় কোন ট্রেন আসছে। স্টেশনের শেডও খুব ছোট। রেল কর্তৃপক্ষ যেখানে যাত্রী-স্বাচ্ছন্দ্যের কথা বলছে, সেখানে এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি স্টেশনের এই অবস্থা একেবারেই মানানসই নয়।

শোভন মণ্ডল

কলকাতা-১৫২

 

কলুপুকুর রোড

• চন্দননগর উড়ালপুলের সংযোগকারী রাস্তা— যাকে কলুপুকুর রোড বলে— তার মেরামতি অবিলম্বে শুরু করা প্রয়োজন (‘চন্দননগর উড়ালপুলে আতঙ্ক’, ২৫-৩)। চন্দননগরের লক্ষ্মীগঞ্জ বাজারের কাছে গঙ্গার ওপর একটি সেতু নির্মাণ করে, পূর্ব দিকে একটি রাস্তা বিটি রোড অবধি নিয়ে যাওয়া হলে সর্বসাধারণের অশেষ উপকার হয়। কারণ এর ফলে চন্দননগরের পশ্চিমে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে, দিল্লি রোড থেকে উড়ালপুল, কলুপুকুর রোড হয়ে বিটি রোডে পৌঁছনো যাবে এবং ঈশ্বর গুপ্ত সেতুর ওপর চাপ কমবে।

স্বপন ভট্টাচার্য

শ্রীপল্লি, চন্দনগর

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট,

কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in