নানা পুজো উপলক্ষে নির্মিত বিভিন্ন মূর্তিগুলির সম্মুখভাগ বিশেষ যত্নসহকারে দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষক করে বানানো হলেও, পিছনের অংশ অতি দায়সারা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ভাবে অসম্পূর্ণ এবং অত্যন্ত দৃষ্টিকটু করে রাখা হয়। পিছনের অংশে খড়, কাঠ, পেরেক, দড়ি, চট, বাঁশ, মাটি ও বাখারি এমন ভাবে বেরিয়ে থাকে যে, সে দিকে দৃষ্টি গেলে তা ভয়াবহ রকম বিকৃত ও খণ্ডিত মনে হয়। এই দৃশ্য বিশেষ করে প্রতিমা ভাসানের সময় স্পষ্ট চোখে পড়ে।

শাস্ত্রে রয়েছে, প্রতিমা ধ্যানের অনুরূপ সুগঠিত ও সম্পূর্ণ না হলে প্রতিমার পুজো নিষ্ফল হয়, কারণ মূর্তিতে ঐশীশক্তি আসে না। অথচ শাস্ত্রানুযায়ী নানা মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে মূর্তিতে পূজারম্ভের প্রাক্কালে প্রাণপ্রতিষ্ঠার বিধান বিদ্যমান। ‘নগ্নং ভগ্নং ন পূজয়েৎ’ অর্থাৎ নগ্ন বা ভগ্ন মূর্তি পূজ্য নহে।

যন্ত্রতত্ত্ব ও দেবতত্ত্ব অনুসারে দেবীর মুখ্য শরীরের বিষয় সূক্ষ্ম ভাবে অঙ্কিত করবার নির্দেশ রয়েছে। দেবীর উক্তি: ‘‘অকৃত্বা সুষমাং রেখা না কৃত্য সুষমং রেখং মমাঙ্গ ক্ষতি বেরাত্রে শাপৌভবতি...।’’ অর্থাৎ আমার পূজার যন্ত্রে যদি রেখা সুষম না হয়, তা হলে আমার অঙ্গের হানি ঘটে এবং আমি ওই আধারে অধিষ্ঠান করি না।

সীতারাম বেহানী

কলকাতা-২৯

 

দুর্গা-দাক্ষিণ্য

কর্মব্যস্ত জীবনে দিনগত পাপক্ষয়ের মধ্যে বেঁচে থাকতে থাকতে আমরা ভুলে যাই যে, উন্নয়ন আর নাগরিকের মাঝে সরকার মধ্যস্থতাকারী মাত্র। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা তাকে মসনদে বসাই রাস্তাঘাট-জল-বিদ্যুৎ ও শিক্ষা-স্বাস্থ্যের মতো পরিষেবাগুলো সহজে আমাদের দরজায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য। ভুলে যাই, যেটাকে অনুদান বলা হয় সেটা আসলে অধিকার। সরকার সম্পর্কে তৈরি হওয়া এই সহজ ধারণাটা মাথায় রাখলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্গা-দাক্ষিণ্যের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

প্রায় আঠাশ হাজার দুর্গাপুজো কমিটিকে দশ হাজার টাকা করে অনুদানের যে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী করেছেন, তা শুধু হাস্যকরই নয়, আর্থিক দোলাচলে থাকা এই ধর্মনিরপেক্ষ সমাজের পক্ষে উদ্বেগজনকও। প্রথমত, এটা অনুদান, না কি ধর্মীয় তাসের সূক্ষ্ম চালে আসন্ন নির্বাচনগুলোতে ভোট কেনার উৎকোচ, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। বিজেপির রামকে ঠেকাতে এ ভাবে পার্বতী-তোষণের মাধ্যমেই হয়তো হিন্দু ভোটবাক্স নিজেদের কব্জায় রাখতে চাইছে তৃণমূল। মুসলিম ভোটারদের তুষ্ট করতে ইমাম ভাতা দেওয়ার মতোই এটাও রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্টতার নিদর্শন।

দ্বিতীয়ত, মানু্ষের কষ্টার্জিত আয় থেকে, সম্পত্তি থেকে, নিত্যব্যবহার্য জিনিসের দাম থেকে কেটে নেওয়া নানাবিধ কর ও রাজস্বের টাকায় এবং আকণ্ঠ দেনার দায়ে যে সরকার চলছে, উন্নয়নের ‘মিডলম্যান’ হিসেবে তাদের কি আদৌ কোনও নৈতিক হক আছে সেই টাকা ধর্মীয় মচ্ছবে-প্রমোদে খরচ করার?

যেখানে হাতে-গোনা ক’টা ব্রিজের রক্ষণাবেক্ষণ হয় না; পরিবহণ-শিক্ষা-স্বাস্থ্যের পরিকাঠামোয় যেমন স্বনির্ভরতার অভাব, ধীরে ধীরে বেসরকারিকরণের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে; খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি-কালোবাজারিতে রাশ টানতে হিমশিম খেতে হচ্ছে; সেখানে জনস্ফূর্তিতে উৎসাহ দেওয়ার এই প্রশাসনিক বাহুল্য কেন?

কর্মীদের যখন পাহাড়প্রমাণ মহার্ঘভাতা বাকি, তখন বিনোদন বা সৌন্দর্যায়নে আপাত-দেউলিয়া সরকারের এই দিলদরিয়া চাল কেন? একটা কথা অবশ্য বলতেই হবে, পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতিতে সিদ্ধহস্ত সিপিএমও ধর্ম নিয়ে ঘোমটার আড়ালেই বরাবর নৃত্যরত থেকেছে। কিন্তু তা এই সরকারের একই রকম আচরণের অজুহাত হতে পারে না।

আশঙ্কা হয়, এই হঠাৎ-পাওয়া সরকারি টাকার গন্ধে হাজার হাজার পুজো কমিটি তো ঝাঁপিয়ে পড়বেই, উপরন্তু পাড়ায় পাড়ায় গজিয়ে উঠবে একাধিক দুর্গাভক্তের দল। আর দশ হাজার টাকায় তো দশভুজাবন্দনা সম্ভব নয়! ফলে বল্গাহীন ভক্তির গুঁতোয় আর চাঁদার জুলুমে নাস্তানাবুদ হবেন সাধারণ মানুষ। এর পর কালের নিয়মে কালী, গণেশ বা মনসা পুজোতেও সরকারি অনুদানের দাবি উঠবে। এই হাস্যকর তোষামোদই তখন আবার সরকারের কাছে বুমেরাং হয়ে যাবে না তো!

সুগত কর্মকার

কলকাতা-১৩৭

 

ফিরিয়ে দিন

এ বার দুর্গাপূজার জন্যও ‍ভাতা প্রদান! ‘নেই রাজ্য‍’-এর ভাঁড়ারে এত টাকা আসে কী করে? আশা করি, পূজা কমিটিগুলো এই অনুদান গ্রহণ করে জনগণের টাকার অপচয়ে ইন্ধন জোগাবে না। কারণ এই যে শুরু, এর শেষ কোথায়? দুর্গাপূজা যদি পায় তা হলে অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান পাবে না কেন? না কি তা যাতে পায়, তার পথই প্রশস্ত হল? সরকার যা করে করুক, পূজা কমিটিগুলো নিশ্চয় এই প্ররোচনায় পা দেবে না। বরং একটি কমিটিরও এই টাকা গ্রহণ না করে সরকারের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া উচিত, করের টাকা নিয়ে এ ভাবে নয়ছয় করা যায় না, তা একান্ত অন্যায়, ‍অপরাধ।

কৌশিক সরকার

রঘুনাথপুর, পুরুলিয়া

 

শহুরে নকশাল

‘গিরিশের বিরুদ্ধে’ (৯-৯) খবর পড়ে জানলাম, গিরিশ কারনাডের বিরুদ্ধে এক আইনজীবী অভিযোগ করেছেন, কারণ গিরিশ ‘আমিও শহুরে নকশাল’ প্ল্যাকার্ড গলায় ঝুলিয়েছিলেন। এই ‘শহুরে নকশাল’ কথাটি ভাষাভাণ্ডারে নতুন সংযোজন, এখনও পর্যন্ত ‘শহুরে নকশাল’ কোনও সংগঠনের রূপ পায়নি, কোনও সংগঠিত আন্দোলন করেনি, এ এক প্রতিবাদের নাম মাত্র। নকশালপন্থী বহু রাজনৈতিক দল বা সংগঠন ভারতে আছে, যারা নিষিদ্ধ নয়। নকশালপন্থী বক্তব্য প্রকাশ করাকেও ভারত সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেনি। নিষিদ্ধ মাওবাদী সংগঠনগুলির সঙ্গে নকশালপন্থাকে গুলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না।

রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ তুলে কিছু মানুষকে দেশদ্রোহী প্রমাণ করার এই খেলা বহুল ব্যবহৃত। এই প্রবণতা গণতন্ত্রের পক্ষে ভয়ঙ্কর। গণতন্ত্রের কোনও স্তম্ভই যদি ‘নকশাল’ বা ‘শহুরে নকশাল’ শব্দবন্ধ ব্যবহারকে বেআইনি না ঘোষণা করে থাকে, তবে এই আস্ফালন কেন?

রাজদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

কলকাতা-৫৫

 

বিপদে টিআরপি

প্রাকৃতিক অথবা মানব অবহেলাজনিত বিপর্যয় নানা ভাবে ঘটতে পারে এবং ঘটছেও নিয়মিত। কিন্তু দেখা যাচ্ছে বিপর্যয় ঘটলেই, নানা রঙের নেতা-মন্ত্রী-সান্ত্রি দলে দলে হাজির। বলা হচ্ছে এটা তাঁদের মানবিক মুখ। অবস্থা নিজের চোখে দেখা কিংবা উদ্ধারকার্য তদারকি করাই তাঁদের উদ্দেশ্য। সঙ্গে অবশ্যই পুলিশ, নিরাপত্তারক্ষী, দেহরক্ষী এবং পারিষদবর্গ। সরেজমিন তদন্ত কিংবা উদ্ধারকার্য তদারকির জন্য বিশেষ বিশেষ দফতর আছে। বিশেষজ্ঞরা আছেন। তাঁদের কাজগুলো ঠিক ভাবে করতে দিন।

আর রাজনীতিকদের সঙ্গে অগুন্তি সংবাদমাধ্যম ও ক্যামেরা, বুম, ওবি ভ্যান অকাতর প্রশ্নবাণ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন অকুস্থলে। টিআরপি বাড়ানোর অশুভ প্রতিযোগিতায় মুমূর্ষু ব্যক্তির ওপরও ক্যামেরা তাক করছেন, টাটকা বাইট পাওয়ার জন্য। এই রকম পরিস্থিতিতে রাজনীতিকরা ভোটের পারানি কুড়নোর এবং সাংবাদিককুল তাঁদের টিআরপি তথা বিজ্ঞাপন-বৃদ্ধির প্রক্রিয়ায় একটু রাশ টানলে ভাল হত না?

সুদীপ বিশ্বাস

উত্তরপাড়া, হুগলি

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট,  কলকাতা-৭০০০০১।

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।

 

ভ্রম সংশোধন

২৪-৯ তারিখে ৫-এর পাতায় প্রকাশিত স্টেশনের ছবির নীচে লেখা হয়েছে: ফুটব্রিজ বন্ধ টিটাগড় স্টেশনে। ঘটনাটি ইছাপুর স্টেশনের। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।