Common superstitions of Indian culture - Anandabazar
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সম্পাদক সমীপেষু: পাঁজিতে লেখা আছে

Panjika

Advertisement

বাংলা সাল শেষ হতে চলল। কিছু দিনের মধ্যেই অনেকে নতুন পঞ্জিকা সংগ্রহ করতে সচেষ্ট হবেন। পরিতাপের বিষয়, এখনও দু’একটি পাঁজির পাতায় কন্যার বিবাহ ছয় থেকে আট/নয় বছর বয়সে দেওয়ার নিদান জারি রয়েছে। যদিও আঠারোর কমে বিবাহ বেআইনি। এ ছাড়াও বিবাহ সংক্রান্ত আরও নানান অবৈজ্ঞানিক পরামর্শ তো আছেই। পাঁজিতে মুদ্রিত পরামর্শ ও বিধিনিষেধকে অনেকেই বেদবাক্য মনে করেন। এটাই একমাত্র কারণ না হলেও, যখন লাগাতার সরকারি প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বাল্যবিবাহ ঘটেই চলেছে, তখন এ বিষয়ে নজর দিতে হবে। পাঁজির পাতা থেকে বেআইনি ও সমাজের পক্ষে অনিষ্টকর এই সমস্ত নিদান অবিলম্বে দূর করতে সরকারি নির্দেশ প্রয়োজন।

সাধন মুখোপাধ্যায়

অরবিন্দনগর, বাঁকুড়া

 

এমন ছবি!

গত ২৭ মার্চ আনন্দবাজার পত্রিকার প্রথম পাতায় বোমায় জখম পুলিশকর্তার যে ছবিটি ছাপা হয়েছে, তাতে পাঠকের মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে, এটা ক্যাপশনে স্বীকার করেই নেওয়া হয়েছে। এবং বলা হয়েছে, বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরার স্বার্থে এটা নাকি জরুরি ছিল। কিন্তু কতটা জরুরি ছিল, তা ঠিক করার মাপকাঠিটা ঠিক কী? জখম ব্যক্তির প্রতি পূর্ণ সমবেদনা জানিয়েও এ কথা বলা যায় যে, এক জন পাঠকের কোনও বীভৎস দৃশ্য দেখার যেমন অধিকার আছে, তেমনই না-দেখার‌ও তো অধিকার আছে। অনেকেই প্রাতরাশের টেবিলে কাগজ নিয়ে বসেন, কিশোর পাঠক‌ও তো হামলে পড়ে খেলার পাতার জন্য, তাদের কি না-চাইতেও বাধ্য করা হল না এমন দৃশ্য দেখতে! সে দিন ছিল উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিন, প্রতি দিনের অভ্যাসবশত কোনও পরীক্ষার্থী সকালের কাগজে চোখ বোলাতে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখে কতটা বিচলিত হয়ে পড়বে!

সুদীপ দাস

কলকাতা-২৮

 

যত দোষ...

‘গড়ার কারণ’ শীর্ষক পত্রের লেখক অর্জুন সেনগুপ্ত মূর্তি গড়া মহৎ কর্ম নয় বোঝাতে গিয়ে মার্ক্স এবং কমিউনিস্টদের টেনে এনেছেন (২৩-৩)। এ যেন ধান ভানতে শিবের গীত। মার্ক্সবাদীরা আসার পরই কি রাজনৈতিক নেতাদের মূর্তি গড়ার রীতি শুরু হয়? এই ধারণা তিনি কোথা থেকে পেলেন বোঝা গেল না। তিনি কলকাতা বা অন্য শহরগুলিতে ক’টা মার্ক্স লেনিন স্তালিনের মূর্তি দেখেছেন? এসপ্ল্যানেডে লেনিন এবং মার্ক্স–এঙ্গেলসের মূর্তি ছাড়া বাকি সব মূর্তিই তো দেশীয় রাজনীতিক এবং মনীষীদের, যা সারা শহর ছড়িয়ে আছে। সেগুলি কি কমিউনিস্টদের তৈরি? পরাধীন ভারতেও ব্রিটিশ রাজপুরুষদের মূর্তির ছড়াছড়ি ছিল শহরে।

লেখক বলেছেন, মূর্তি স্থাপনের সঙ্গে মিশে আছে আত্মবিশ্বাসের অভাব। সভ্যতার শুরুতে মানুষ যখন ছিল মূলত প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল, সে দিন হয়তো এ কথা সত্য ছিল, কিন্তু আজ আর তা কোনও ভাবেই সত্য নয়। আধুনিক যুগে কবি সাহিত্যিক বিজ্ঞানী সমাজসংস্কারক বিপ্লবীদের মূর্তি স্থাপনের মধ্যে কোথাও আত্মবিশ্বাসের অভাব লক্ষিত হয় না। বরং এগুলি যেন আত্মবিশ্বাসেরই প্রতীক। তেমনই এগুলি ঈশ্বরপ্রেমী ডানপন্থীদের কীর্তিও নয়। এগুলি গণতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন মানুষের, মহৎ কীর্তিমান ও কীর্তিমতীর প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন। তাঁদের শিক্ষণীয় জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়ার উদ্দেশ্যেই গড়ে তোলা। যেমন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। কোনও অসহায়তা থেকে নয়, বাঙালি তথা ভারতবাসী তাঁর মূর্তি স্থাপন করেছে গভীর শ্রদ্ধা বোধ এবং কৃতজ্ঞতা থেকে। সমাজে যাঁরা পথপ্রদর্শক, দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী, তাঁদের মহত্ত্বকে স্বীকার করতে, সেই শ্রেষ্ঠত্ব থেকে প্রেরণা সংগ্রহ করতেই মানুষ এই সব মূর্তি স্থাপন করে৷

ইন্দ্রজিৎ মিত্র

কলকাতা–৪

 

কোন অধিকারে

‘অধীর-তালুকে আবার বিধায়ক টানল তৃণমূল’ (১৯-৩) শীর্ষক প্রতিবেদন প্রসঙ্গে কিছু বলার আছে। মুর্শিদাবাদ বিধানসভার এক জন সাধারণ ভোটার হিসাবে কংগ্রেসের নির্বাচিত বিধায়ক শাওনি সিংহরায়ের এই দলবদল সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক এবং প্রতারণার সামিল বলে মনে করি। গত ভোটের আগে যখন পাড়ায় পাড়ায় ‘হাত’ প্রতীকে ভোট ভিক্ষা করেছিলেন তখন মানুষ তাঁকে নির্বাচিত করেন। গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত শাওনি আজ যখন তৃণমূলে গেলেন (পদত্যাগ না করে), তখন কি সেই জনগণের দরবারে গিয়ে অনুমতি নিয়েছেন? মানুষ তাঁকে ভোটে জেতালেন ‘হাত’ চিহ্নে আর তিনি দল বদল করলেন নিজের মর্জিতে? এটা কী ধরনের গণতন্ত্র? মানুষের অনুভূতি, ভোটের কোনও মূল্য নেই?

তৃণমূলের এই গণতন্ত্রবিরোধী ও স্বৈরাচারী ক্রিয়াকলাপ বাংলায় নজির সৃষ্টি করেছে। উন্নয়নের জোয়ারে নাকি বাংলা ভাসছে। সেই উন্নয়নের সরকারি টাকা পেতে কেন ২৯৪টি বিধানসভা, ৪২টি লোকসভা, রাজ্যের সব পুরসভা, জেলাপরিষদ ও পঞ্চায়েত তৃণমূলের হতে হবে? টাকাটা কি তৃণমূলের পার্টি ফান্ডের না সরকারি? নিজের রাজ্যে এ ভাবে বিরোধীদের জব্দ করে, তৃণমূল নেত্রী দিল্লি গেলে তাঁর মনে পড়ে বিরোধীদের গণতান্ত্রিক অধিকারের কথা। তৃণমূলের এই রাজনৈতিক দ্বিচারিতা বন্ধ হোক।

অশোক পাল

ফুলবাগান, মুর্শিদাবাদ

 

মেট্রোয় বাংলা

কলকাতা শহরের অন্যতম লাইফলাইন মেট্রো রেল, বলা ভাল বাঙালির সংস্কৃতিরও অঙ্গ এটি। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিষ্ঠান হওয়ার জন্য এখানে বাংলা ও ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি হিন্দিতেও যাত্রীদের জন্য নির্দেশনামা লক্ষ করা যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে হিন্দি ও ইংরেজির পাশে অত্যন্ত অকিঞ্চিৎকর ও অসম্মানজনক ভাবেই সামান্য ঠাঁই দেওয়া হচ্ছে কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা বাংলাকে। ট্রেনের মধ্যে যাত্রীদের জন্য যে নির্দেশনামা রেকর্ড করে শোনানো হয়, তাতে প্রথমে থাকে হিন্দি, তার পর থাকে ইংরেজি, সব শেষে ঠাঁই মেলে বাংলার। এ ছাড়া অশুদ্ধ বানানে বাংলায় নির্দেশনামার নজির তো আছেই। এখন মেট্রো রেলের টিকিট কাউন্টারগুলির সামনে বড় বড় ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড বসানো হয়েছে, যাতে থাকছে কিছু জরুরি তথ্য, যেমন নারী সহায়তা নম্বর, কিছু নির্দেশও থাকছে যাত্রীদের জন্য। কিন্তু বোর্ডে এই নির্দেশ ও উপদেশ হিন্দি ও ইংরেজিতেই দেওয়া হচ্ছে, বাংলায় নয়।

মাল্যবান চট্টোপাধ্যায়

কলকাতা-৪১

 

আন্ডারপাস

‘হাতি বনাম রেলগাড়ি’ (১৪-৩) চিঠিটি পড়লাম। রেলগাড়ির সঙ্গে হাতির সংঘর্ষ বন্ধ করতে হলে হাতির দলের চলাচলের রাস্তায় রেললাইনের তলায় একাধিক আন্ডারপাস নির্মাণ করতে হবে। বিদেশের উন্নত দেশগুলিতে যেখানে জঙ্গলের মধ্য দিয়ে রেললাইন গিয়েছে, সেখানে এই ব্যবস্থা আছে। সাধারণত, হাতির দল একটি নির্দিষ্ট রাস্তা বা করিডর দিয়েই যাতায়াত করে। এই যাতায়াতের রাস্তায় একাধিক আন্ডারপাস নির্মাণ করতে হবে এবং আন্ডারপাসের উপরে রেললাইনের দু’দিক অনেকটা অংশ লোহার রেলিং দিয়ে ঘিরতে হবে, যাতে হাতির দল রেললাইন পেরোতে না পারে। ওই আন্ডারপাসগুলির মধ্যে হাতির প্রিয় খাদ্য, যেমন ঘাস, কলাগাছ বনকর্মীরা পর্যাপ্ত পরিমাণে রেখে আসবেন। বড় বড় পাত্রে জলও থাকবে। খাদ্যের লোভে হাতিরা আন্ডারপাসগুলিতে ঢুকবেই। এক বার অভ্যাস হয়ে গেলে, হাতির দল ওই আন্ডারপাসগুলি যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করবে। অবশ্যই নির্দিষ্ট সময় অন্তর আন্ডারপাসগুলিতে খাদ্য ও জল রেখে আসতে হবে।

বিকাশ দাস

শিলিগুড়ি, দার্জিলিং

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট,

কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন
বাছাই খবর

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন