E-Paper

সম্পাদক সমীপেষু: খাবারে বিষ রং

আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মিষ্টি বিশেষত, বোঁদে, জিলিপি, অমৃতি, বিরিয়ানি বা পোলাওতে সানসেট ইয়েলোর পরিবর্তে সস্তার, ভারতে নিষিদ্ধ মেটানিল ইয়েলো রং মেশানো হয়। দীর্ঘ ব্যবহারে এই রং থেকে মস্তিষ্কের ক্ষতি, কিডনি বা ফুসফুসের বিভিন্ন রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

শেষ আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৬ ০৬:২৯

‘খাবারের নমুনায় ভেজাল, ১১৮ জনের বিরুদ্ধে পুর মামলা’ (২৫-২) শীর্ষক সংবাদসূত্রে দু’চার কথা। রেলস্টেশন থেকে ১৫০ টাকা কিলোগ্রাম দরে পনির কিনে অনেক অফিসযাত্রীকে বাড়ি ফিরতে দেখে আশ্চর্য হই। দামে সস্তা, তাই বিক্রি ভালই হয়। অল্প কিছু ক্ষণের মধ্যে ট্রে খালি হয়ে যায়। অথচ, ভাল মানের পনিরের দাম কিলোগ্রাম প্রতি ৪০০-৪৫০ টাকা। অর্ধেকেরও কম দামে ভাল পনির কী ভাবে মেলে— কেনার সময় এই যুক্তিটি কেন শিকেয় তুলে রাখেন ক্রেতারা, বুঝি না।

এ দেশে খাদ্য সংক্রান্ত আইন অনুসারে কয়েকটি রংকে নিয়ন্ত্রিত আকারে খাদ্যে ব্যবহারে অনুমতি দেওয়া আছে। যেমন, পনসিউ ফোরআর, কারময়সিন, এরিথ্রোসিন, টারট্রাজ়িন, সানসেট ইয়েলো এফসিএফ, ইন্ডিগো কারমাইন, ব্রিলিয়ান্ট ব্লু এফসিএফ ইত্যাদি। অথচ আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মিষ্টি বিশেষত, বোঁদে, জিলিপি, অমৃতি, বিরিয়ানি বা পোলাওতে সানসেট ইয়েলোর পরিবর্তে সস্তার, ভারতে নিষিদ্ধ মেটানিল ইয়েলো রং মেশানো হয়। দীর্ঘ ব্যবহারে এই রং থেকে মস্তিষ্কের ক্ষতি, কিডনি বা ফুসফুসের বিভিন্ন রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। শহরতলি থেকে লোকাল ট্রেনের ভেন্ডার কামরায় যে টন টন ছানা প্রতিদিন কলকাতায় পৌঁছে মিষ্টিতে রূপান্তরিত হয়, সেই ছানার বেশির ভাগটাই সালফিউরিক অ্যাসিডে কাটা দুগ্ধজাত বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। এ ছাড়া রাঙা আলু, জেলি, জ্যাম, সস, ক্যান্ডিতে লাল বর্ণ করতে নিষিদ্ধ রোডামাইন বি রং ব্যবহার করা হয়ে থাকে। খাদ্যের মাধ্যমে নিষিদ্ধ রং সেবনে শরীরের মূত্রাশয়, প্লীহা ও যকৃতের ক্ষতি হতে পারে। পটল, ঝিঙে, ঢেঁড়স, ব্রকোলি-কে তরতাজা দেখাতে নিষিদ্ধ ম্যালাকাইট গ্রিন রং ব্যবহার করা হয়। এই রঙেও শরীরের ক্ষতি হয়। এ ছাড়াও, মুড়িতে ইউরিয়া, চা পাতায় কোল টার ডাই, রাস্তায় বিক্রি হওয়া চাউমিনে আজিনামোটো ব্যবহার করা হয়।

তাই প্রশাসনকেও অনুরোধ, এই ধরনের অপকর্ম বন্ধ করার জন্য শীঘ্র কড়া পদক্ষেপ করা হোক, যে-হেতু এই সমস্ত ক্ষেত্রে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি জড়িয়ে থাকে।

সরিৎশেখর দাস, কলকাতা-১২২

ভুলের মাসুল

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে দেখা যাচ্ছে অঙ্ক প্রশ্নপত্রে ভুল কিংবা সিলেবাস বর্হিভূত প্রশ্ন থাকছে। এর ফলে অনেক ছাত্রছাত্রীই বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছে। সমাধান করতে গিয়ে উত্তর না-মেলায় অনেক সময় কেটে যাচ্ছে। যার ফলে সময়ের অভাবে অনেকে জানা প্রশ্নও ভুল করছে, না হলে ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। বেশির ভাগ পরীক্ষার্থী ভুল অঙ্কের সমাধান না মেলায় খাতায় সেটা কেটে দেয়। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নির্দেশ অনুসারে, ভুল অঙ্কের সমাধানের চেষ্টা করলেই নম্বর দেওয়া হবে। কিন্তু যারা সমাধান করার চেষ্টা করার পর, সেই ভুল অঙ্কটি বাতিল করেছে, তাদের ক্ষেত্রে কী হবে? এ ক্ষেত্রে যে সময় ব্যয় হল তারই বা কী হবে? এ বারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় এ রকম দু’টি ভুল অঙ্ক রয়েছে। একটির ক্ষেত্রে বোর্ড নম্বর দেওয়ার নির্দেশ দিলেও, অপরটির ক্ষেত্রে নীরব।

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার অঙ্ক প্রশ্নপত্রেও ৪০ নম্বরের মধ্যে ১০ নম্বর বাইরে থেকে এসেছে। এ ক্ষেত্রেও ঢালাও নম্বর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ রকম হলে পরীক্ষার্থীর মান যাচাই হবে কী করে?

গৌতম সিংহ রায়, মিঠিপুর, মুর্শিদাবাদ

কবে বাড়বে?

হাওড়ার সাঁকরাইল অঞ্চলে একটি নামকরা জুটমিলের এক জন কর্মচারী ছিলাম আমি। দীর্ঘ দিনের বঞ্চনা, মাথাভারী প্রশাসন, কর্মচারীদের আলস্য-উদাসীনতা, সর্বোপরি সরকারের দূরদর্শিতার অভাবের কারণে চটকলটি বন্ধ হয়ে যায় ২০০৯ সালে। তখন থেকেই অর্থাৎ সতেরো বছর ধরে শুনে আসছি, এ বার পেনশন বাড়বে। প্রতি বছর কেন্দ্রীয় বাজেটের আগে আমার মতো অসংখ্য মানুষ, যারা ইপিএফ-এর ন্যূনতম পেনশনগ্রাহক, তীর্থের কাকের মতো হাপিত্যেশ করে বসে থাকি এই আশায় যে, এ বার পেনশন বাড়াবে সরকার। কিন্তু তা হয় না। ফলে কোনও রকমে চলে দারিদ্রের সংসার। এই অবসরপ্রাপ্ত, দারিদ্রক্লিষ্ট মানুষগুলির জন্য ব্যবস্থা তবে কী হবে? কেন্দ্রীয় সরকার তথা পেনশন দফতরের কি এঁদের অবস্থার দিকে এখনও দৃষ্টি পড়বে না?

স্বপন কুমার ঘোষ, আন্দুল, হাওড়া

ট্রেনে দেরি

গত মাসে আমি সস্ত্রীক হাওড়া থেকে মনমাড যাই হাওড়া-পুণে এসি দুরন্ত এক্সপ্রেস ট্রেনে। ট্রেনটি ভোর পাঁচটা পঁয়ত্রিশে ছাড়ে। পরের দিন ভোর চারটেয় মনমাড পৌঁছনোর কথা ছিল। সেইমতো আমি সচখণ্ড এক্সপ্রেসে মনমাড থেকে ঔরঙ্গাবাদ (শম্ভাজিনগর) রিজ়ার্ভেশন করে রাখি। দুরন্ত চার ঘণ্টা দেরিতে যাচ্ছে দেখে আমি পরবর্তী দশটা পঁয়তাল্লিশের ট্রেনে আবার রিজ়ার্ভেশন করে রাখি। কিন্তু দুরন্ত সাত ঘণ্টার বেশি দেরি করায় সেই ট্রেনটিও পাইনি। পরে আর ট্রেন না থাকায় অনেক টাকা দিয়ে গাড়ি বুক করে ঔরঙ্গাবাদ পৌঁছই। ফলে, সে দিনের বেড়ানো বাতিল করতে হয়।

ফেরার সময় দুরন্ত এক্সপ্রেসে বিলাসপুর থেকে বুকিং ছিল। ট্রেনটি বিলাসপুরে সাড়ে আট ঘণ্টা দেরিতে আসে এবং ওই দিন সন্ধ্যার পরিবর্তে পরের দিন সকাল সাড়ে এগারোটা অর্থাৎ চোদ্দো ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছয়। আমি ফেরার দিনই রেলমন্ত্রীর দফতরে সব তথ্য জানিয়ে একটি ইমেল করি। তার কোনও উত্তর আসেনি। আমার প্রশ্ন, যেখানে প্রতিদিন ঢাকঢোল পিটিয়ে বন্দে ভারত ইত্যাদি ট্রেনের সুবিধা নিয়ে প্রচার চলছে, সেখানে সুপারফাস্ট ট্রেনের এমন দুরবস্থা কেন? খোঁজ নিয়ে জানলাম, এক দিন নয়, গত কয়েক মাস ধরেই দূর পাল্লার ট্রেনগুলির এই অবস্থা। নতুন ট্রেনের ঘোষণা না করে বরং বর্তমান সমস্যাগুলির উপরে আগে নজর দিলে হয় না?

শিবপ্রসাদ রায় চৌধুরী, শিবপুর, হাওড়া

জোরজুলুম

শিয়ালদহ-ধুলাগড় রুটে চলাচলকারী বেসরকারি বাসগুলোর বেপরোয়া আচরণ ও নিয়ম-বহির্ভূত ভাড়া আদায়ের প্রতি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বর্তমানে এই রুটে যাত্রীদের নিত্য দিন এক চরম অরাজকতার শিকার হতে হচ্ছে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও, এই রুটের অধিকাংশ বাসে যাত্রীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ১২ টাকা নেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, বাস-কর্মীদের আচরণ। কোনও সচেতন যাত্রী যদি ন্যায্য ভাড়া দিতে চান বা ভাড়ার চার্ট দেখতে চান, তবে কন্ডাক্টর ও চালকরা জোটবদ্ধ হয়ে তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন। আমার বিনীত অনুরোধ, সংশ্লিষ্ট পরিবহণ দফতর ও পুলিশ-প্রশাসন যেন এই রুটে অতর্কিত হানা দিয়ে এই বেআইনি কর্মকাণ্ড বন্ধ করে। বাসের ভিতরে স্পষ্ট অক্ষরে ভাড়ার তালিকা ঝোলানো এবং অভদ্র কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা করার দাবি জানাই।

দেবাশিস চক্রবর্তী, মাহেশ, হুগলি

দৃশ্যদূষণ

বর্তমানে যে কোনও পুজো নিয়েই মাতামাতি অনেক গুণ বেড়ে গিয়েছে। ঢাকঢোল পিটিয়ে যেমন প্রতিমার আগমন ঘটে, তেমনই বিসর্জনের সময়ে রাস্তা আটকে ডিজে সহযোগে নাচানাচি না করলে পুজো যেন সম্পূর্ণ হয় না। কিন্তু অনেক সময়েই দেখা যায়, পুজোর পর প্রতিমা বিসর্জন না দিয়ে রাস্তার পাশে বা গাছের নীচে সেগুলিকে রেখে দেওয়া হয়। সময়ের সঙ্গে রোদে পুড়ে, জলে ভিজে সেগুলির করুণ দশা হয়ে যায়। অযথা এই দৃশ্যদূষণের প্রয়োজন আছে কি? পুজো উদ্যোক্তাদের এই বিষয়ে একটু সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

তপন কুমার সরকার, ব্যারাকপুর, উত্তর ২৪ পরগনা

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

food adulteration Health care Consumer Forum Public awareness

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy