সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সম্পাদক সমীপেষু: প্রতারিত চাষি

Farmers

Advertisement

আমি এক জন ছোট চাষি। স্বাতী ভট্টাচার্যের লেখা ‘ধান কেনার নীতি ও রাজনীতি’ (২৪-১) প্রতিবেদনে উল্লিখিত সমস্যার আমি ভুক্তভোগী। আমি ভেদিয়া মৌজায় কিরণশঙ্কর রাইস মিলে ডিসেম্বরের ৬ তারিখ ধান দিয়েছি। অগ্নিপরীক্ষার মতো পরীক্ষা করা হয় চাষির ধান। ধান বিবর্ণ, পোকা-ধরা, মিশ্রিত, কল-বেরোনো কি না, বা তার আর্দ্রতা বেশি কি না, এমন অনেক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আমার ধানের ওজন দাঁড়ায় ১২৯৯ কিলোগ্রাম।

এই ধান ক্রয়ের কোনও পাকা রসিদ চাষিদের দেওয়া হয় না, আমাকেও দেওয়া হয়নি। ধানের ওজন হাতে লিখে দেওয়া হয়েছে। সরকারি মূল্য ১৭৫০ টাকা কুইন্টাল হিসেবে আমার পাওয়ার কথা বাইশ হাজার সাতশো বত্রিশ টাকা। কিন্তু আমার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে কুড়ি হাজার পাঁচশো বাষট্টি টাকা। যাঁরা ওই চালকলে ধান দিয়েছেন, তেমন অনেকের একই অভিজ্ঞতা। 

এ ভাবে চাষি ও সরকার উভয়কে বঞ্চনা করে কোটি কোটি টাকা মুনাফা করছে এক শ্রেণির লোক। চালকলগুলির চাতালে রাশি রাশি ধানের বস্তা রাখা রয়েছে। যার মধ্যে লুকিয়ে আছে প্রান্তিক চাষির কান্না।

জ্যোতির্ময় চক্রবর্তী

ভেদিয়া, বর্ধমান

 

আশ্রম ও ভ্যাট

তমলুক রামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রম, সেবাশ্রম বিদ্যালয়, সেবাশ্রম কারিগরি বিদ্যালয়, এই তিন জায়গায় ঢোকার মুখ এক জায়গায় অবস্থিত। এই ত্রিবেণীসঙ্গমে তমলুক পুরসভার নোংরা ফেলার একটি ভ্যাট রয়েছে, যা আবর্জনায় ভর্তি হয়ে থাকে। মশামাছি এবং পোকামাকড়ের উপদ্রব। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আশ্রমভক্ত, বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক এবং কারিগরি শিক্ষার্থীদের সকলকে নাকে রুমাল চাপা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। ভ্যাটটি অন্যত্র সরাবার ব্যবস্থা করলে আশ্রমের পবিত্র পরিবেশ বজায় থাকে।

বিনোদ বিহারী মণ্ডল

ধারিন্দা, তমলুক

 

পাইপ বসাতে

বাঁকুড়া শহরের অরবিন্দনগরে পাঁচ দিক থেকে পাঁচটি রাস্তা এসে মিশেছে। এখন এখানে জলের লাইন বসানোর জন্য রাস্তা খোঁড়া হয়েছে। পাইপ বসানো হয়ে গেলেও রাস্তার উপরের মাটি বা আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়নি। এই মোড়ে জলের পাইপ ফুটো হয়ে গিয়েছে, ফলে অনবরত জল বার হচ্ছে। এই বেহাল রাস্তাটিকে ঠিকমতো সংস্কার করার জন্য প্রশাসন ও পুরসভাকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

বীরেন সরকার

অরবিন্দনগর, বাঁকুড়া

 

পরীক্ষার বিড়ম্বনা

সম্প্রতি সর্বভারতীয় জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা (জেইই মেন)-র প্রথম পর্ব সম্পন্ন হল। কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল সল্টলেক সেক্টর ফাইভ অঞ্চলের একটি তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র। পাঁচ দিন ব্যাপী এই পরীক্ষায়, প্রতি দিন কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রী (দুই শিফ্‌ট মিলিয়ে), তাদের দ্বিগুণ সংখ্যক অভিভাবক এবং কয়েকশো গাড়ির জমায়েত হয়েছিল ওই কেন্দ্রের সামনে নিতান্ত অপরিসর জায়গায়। ওই জায়গাটির অত্যন্ত ব্যস্ত অফিস এলাকার নিয়মিত ভিড় ছাড়াও, ওই ক’দিনের অস্বাভাবিক ভিড়ে প্রাণান্তকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রথম শিফ্‌টের পরীক্ষার শেষ হওয়ার সময় দ্বিতীয় শিফ্‌টের পরীক্ষার রিপোর্টিং টাইম হওয়ায় এবং রাস্তায় যান চলাচলের কোনও নিয়ন্ত্রণ না থাকায় অরাজক অবস্থার সৃষ্টি হয়। এ ছাড়াও দূর থেকে আসা অভিভাবকদের কোনও প্রতীক্ষার জায়গা না থাকায় তাঁরা আক্ষরিক অর্থেই পথে বসে দীর্ঘ ৫-৬ ঘণ্টা কাটান। 

অতনু পাঠক

কলকাতা-৫০

 

যুদ্ধজয়

‘টাকা পেতে দেড়মাস ধরে ভোগান্তি বৃদ্ধের’ (৭-১) পড়ে এই চিঠি। ভারত সরকারের পোস্ট অফিসে কাস্টমার সার্ভিসের যা দশা, তাতে নিজের টাকা পেতে থানা-পুলিশ করতে হচ্ছে। আমি নিজে এ রকম অদ্ভুত সমস্যায় পড়েছিলাম যার জন্যে আমাকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পর্যন্ত দরবার করতে হয়েছিল।

নদিয়া জেলার মুড়াগাছা পোস্ট অফিসে আমার ৫০ বছরের পুরনো অ্যাকাউন্ট আছে। সুদ কষার জন্যে আমাদের পাশবই নবদ্বীপ পাঠানো হয়, কারণ নবদ্বীপে আমাদের হেড পোস্টঅফিস। পাশবইতে দেখলাম ১৮০০০ টাকা সুদ হয়েছে। পোস্ট অফিসে যখন ওই টাকা তুলতে গেলাম, পোস্টমাস্টার বললেন আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা নেই। আমি পাশবই দেখালাম। উনি বললেন, টাকা পাশবইতে উঠেছে কিন্তু আমাদের কম্পিউটারে ওঠেনি। বললাম, বই দেখে আপনি কম্পিউটারে তুলে দিন। উনি বললেন, আমার তোলার ক্ষমতা নেই। 

এ বার নবদ্বীপে ফোন করলাম। ওঁরা বললেন, কম্পিউটার তো ওখানে আছে। আমরা এখান থেকে তুলতে পারব না। আমি এ বার ফোনটা পোস্টমাস্টারকে দিলাম। আমার ফোনের টকটাইম প্রায় শেষ হতে চলল কিন্তু ওঁরা ঐকমত্যে পৌঁছতে পারলেন না। শেষে আমি বললাম, আমি জানি না কার কী ক্ষমতা, তবে আপনারা যদি ক্ষমতার প্রয়োগ বা অপপ্রয়োগ করে আমার কষ্টের টাকাটা তোলার ব্যবস্থা করে দেন, খুব উপকার হয়। ওঁরা দু’জনে একটা ব্যাপারে একমত হলেন যে আমাকে টাকাটা এখনই দেওয়া যাবে না। 

এ বার আমি প্রথমে নদিয়া জেলার সুপারিনটেনডেন্ট অব পোস্ট অফিসকে তার পর ওয়েস্ট বেঙ্গলের পোস্টমাস্টার জেনারেলকে এবং শেষে প্রধানমন্ত্রী দরবারে নালিশ করলাম। দশ দিনের মধ্যে দিল্লি থেকে চিঠি পেলাম। পরে পিএমজিরও চিঠি পেলাম। 

প্রায় মাসখানেক পরে সুপারিনটেনডেন্ট জানালেন, আমার কেসটা নবদ্বীপ গিয়েছে। কিছু ভুল আছে। ওরা রিক্যালকুলেট করে কম্পিউটারে তুলে দেবে। হ্যাঁ, আমি কিন্তু এর মধ্যে ইমেলে রিমাইন্ডার দিয়ে চলেছি। এর পর ফোনে আমি নবদ্বীপ পোস্টমাস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলাম। প্রায় আরও মাসখানেক পরে জানতে পারলাম, আমার টাকা কম্পিউটারে উঠেছে। টাকা তোলার সময়ে মনে হয়েছিল যুদ্ধজয় করেছি। 

রঞ্জন মুখোপাধ্যায়

মুড়াগাছা, নদিয়া

 

দলিল ফেরত

দীর্ঘ দিন যাবৎ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন রেজিস্ট্রি অফিসে এ পি (অতিরিক্ত জরিমানা) না দেওয়া বেশ কিছু দলিল জমা পড়েছে। এ রকম বেশ কিছু রেজিস্ট্রিকৃত দলিল যাতে গ্রহীতারা ফেরত পেতে পারেন, সে জন্য বিগত বামফ্রন্ট সরকার সরকারি ভাবে কিছু সুযোগ-সুবিধা দিয়েছিল। ফলে সরকারি তহবিল বিশেষ উপকৃত হয়েছিল। বর্তমান সরকার সরকারি ভাবে খাজনা ও মিউটেশন ফ্রি করেছে। যদি রেজিস্ট্রি অফিসে অনাদায়ী জরিমানায় পড়ে থাকা দলিলগুলি ফিরে পাওয়ার জন্য কিছু সুযোগ-সুবিধা দেয়, ভাল হয়।

অসীম বর্মণ

শ্যামপুর, হাওড়া

 

অসহ রাস্তা

দীর্ঘ দিন ধরে আড়িয়াদহ কালাচাঁদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে শুরু করে দীপশিখা ক্লাব পর্যন্ত কুমুদ ঘোষাল রোড পিচ হয়নি। সর্বত্র এবড়োখেবড়ো। ছড়ানো পাথরের টুকরো আর ধুলোয় অসহনীয় অবস্থা। অথচ এটি আড়িয়াদহের সঙ্গে দক্ষিণেশ্বরের যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। এই রাস্তায় একটি সরকারি বাস, বেসরকারি ডিএন-২, অটো, টোটো চলাচল করে।

মাধব হাজরা

কলকাতা-৫৭

 

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু, 

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১। 

ইমেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ইমেল-এ পাঠানো হলেও।

 

ভ্রম সংশোধন

‘কর্মসংস্থানই পাখির চোখ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে (ব্যবসা, পৃ ১২, ৯-২) কোরিয়ার প্রদেশের নাম জিয়োল্লোনামডো হবে। এবং ‘রাজ্যে পা রাখতে চুক্তি আইকিয়ার’ শীর্ষক প্রতিবেদনে (ব্যবসা, পৃ ১২, ৯-২) সুইডেনের বহুজাতিক সংস্থা আইকিয়া হবে। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলগুলির জন্য আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন